Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর এবার তার ছাপ পড়ল বাংলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান নন্দনেও (Nandan)। নন্দন চত্বর থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত ফলক। ফলকের উপরের অংশে করা হয়েছে রং। অন্যদিকে অক্ষত রয়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর নামাঙ্কিত ফলক। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক।
নন্দনের ইতিহাসে রাজনীতির ছায়া? (Nandan)
নন্দন শুধু একটি চলচ্চিত্র প্রেক্ষাগৃহ নয়, বাংলার সাংস্কৃতিক ইতিহাসেরও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানা। ১৯৮০ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর হাত ধরে নন্দনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়। পরে ১৯৮৫ সালে বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের হাত ধরে এর উদ্বোধন হয়। সময়ের সঙ্গে নন্দন হয়ে ওঠে চলচ্চিত্রপ্রেমী ও সংস্কৃতিমনস্ক মানুষের অন্যতম মিলনক্ষেত্র।
মমতার ফলকে কেন রং? (Nandan)
তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে নন্দন চত্বরে যুক্ত হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত ফলক। কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটে। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসে। এরপরই নন্দনের ওই ফলকে দেখা গেল পরিবর্তনের ছাপ। প্রশ্ন উঠছে, এটি কি শুধুই সংস্কার বা সৌন্দর্যায়নের অংশ? নাকি এর পিছনে রয়েছে রাজনৈতিক বার্তা? কারণ মমতার ফলকের উপর রং করা হলেও জ্যোতি বসুর ফলক অক্ষত থাকায় বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
চলচ্চিত্র উৎসবের আগে নতুন বিতর্ক (Nandan)
আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের লোগো প্রকাশের দিনই নন্দনের ফলক নিয়ে এই পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে এসেছে। ফলে চলচ্চিত্র উৎসবের আবহের মধ্যেই রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে নন্দন।
আরও পড়ুন: Government Job: রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারের পাশে রাজ্য, মিলবে গ্রুপ-ডি চাকরি
ইতিহাস মুছছে, নাকি নতুন অধ্যায়?
নন্দনের ফলক ঘিরে এখন মূল প্রশ্ন—একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস কি রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে বদলে যাবে? নতুন সরকার কি নন্দনের পরিসরে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গির ছাপ রাখতে চাইছে, নাকি এটি নিছক প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ?



