Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: চেন্নাইয়িন এফসির কাছে বড় ব্যবধানে হারের পর যথেষ্ট হতাশ ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিও হাবাস (HABAS)। দলের এমন পারফরম্যান্সকে নিজের পরিচিত ইস্টবেঙ্গল বলে মানতেই নারাজ স্প্যানিশ কোচ। শুধু তাই নয়, এই হারকে ‘দুর্ঘটনা’ আখ্যা দিয়ে দ্রুত পরিস্থিতি বদলানোর আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দলের ব্যর্থতার সম্পূর্ণ দায় নিজের কাঁধেই তুলে নিয়েছেন লাল-হলুদ কোচ।
‘কোনও দ্বৈরথেই জিততে পারিনি’ (HABAS)
ম্যাচের পর সাংবাদিক বৈঠকে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন হাবাস। তাঁর কথায়, শুধু ফলাফল নয়, মাঠে দলের সামগ্রিক লড়াই নিয়েও তিনি হতাশ। হাবাস বলেন, “ফলাফলটা কঠিন। কিন্তু তার থেকেও বড় সমস্যা হল, আমরা কোনও দ্বৈরথে জিততে পারিনি। বলের দখল নিয়েও লড়াই করতে পারিনি। এভাবে ম্যাচ জেতা অসম্ভব। আজ আমাদের দল অত্যন্ত শিথিল ছিল। প্রতিপক্ষকে আমরা অনেক বেশি সুযোগ দিয়েছি।”
ফুটবলারদের একাগ্রতা নিয়ে প্রশ্ন (HABAS)
ম্যাচের মাত্র তিন মিনিটের মাথায় গোল হজম করাকে দলের মনোযোগের অভাব এবং প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার ফল বলে মনে করছেন ইস্টবেঙ্গল কোচ। তাঁর মতে, শুরু থেকেই ফুটবলারদের মধ্যে প্রয়োজনীয় একাগ্রতার অভাব ছিল। হাবাসের বক্তব্য, “ম্যাচের তিন মিনিটের মাথায় আমরা গোল হজম করেছি। তখন আমাদের কোনও মনোযোগ ছিল না, একাগ্রতা ছিল না। হয়তো আমরা ভেবেছিলাম, প্রতিপক্ষের চেয়ে আমরা ভালো দল। কিন্তু ওরা ভালো খেলেছে এবং আমাদের ভুলের শাস্তি দিয়েছে।”
‘এই দলটা আমার পরিচিত দল নয়’ (HABAS)
দলের ব্যর্থতার দায় অন্য কারও উপর চাপাতে চাননি হাবাস। বরং কোচ হিসেবে প্রতিটি পরিস্থিতির দায়িত্ব নিজের বলেই জানিয়েছেন তিনি। স্প্যানিশ কোচ বলেন, “এই হারের সম্পূর্ণ দায়িত্ব আমি নিচ্ছি। আমাকে অবিলম্বে খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি ঠিক করতে হবে। কারণ আজকের দলটা আমার পরিচিত দল নয়। এটা আমার দল ছিল না। আজকের পারফরম্যান্স একটা দুর্ঘটনা। আশা করি, এমন দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর হবে না।”
দলের সংগঠন নিয়ে উদ্বিগ্ন হাবাস (HABAS)
চেন্নাইয়িনের কাউন্টার অ্যাটাক সামলাতে না পারার পিছনে দলের কাঠামোগত দুর্বলতাকেই দায়ী করেছেন হাবাস। তাঁর মতে, ফুটবলারদের মধ্যে দূরত্ব অনেক বেশি ছিল। যেখানে একটি সংগঠিত দল হিসেবে খেলোয়াড়দের ২৫ মিটারের মধ্যে থাকার কথা, সেখানে ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলারদের মধ্যে দূরত্ব ছিল প্রায় ৭৫ মিটার।
হাবাসের ব্যাখ্যা, দল সংগঠিত না থাকলে প্রত্যেক ফুটবলারকেই খারাপ দেখায়। ডিফেন্ডার থেকে গোলকিপার, মিডফিল্ডার থেকে স্ট্রাইকার—কেউই নিজের সেরাটা দিতে পারেন না। তাঁর মতে, ধৈর্য ধরে কমপ্যাক্ট ফুটবল খেলা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ইস্টবেঙ্গল তা করতে পারেনি।
দলকে নতুন করে গড়ার পরিকল্পনা (HABAS)
সামনে বিরতি থাকায় দলকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে হাবাসের। তবে একটানা ম্যাচ এবং ভ্রমণের ধকলের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। যদিও সেগুলিকে ব্যর্থতার অজুহাত হিসেবে দেখাতে চান না। হাবাসের কথায়, এএফসি প্রতিযোগিতা এবং আইএসএলে খেলার চাপ সম্পূর্ণ আলাদা। তাই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে দলকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে।
অনোয়ার ও গোলকিপার বিতর্কে কী বললেন হাবাস? (HABAS)
গত দু’টি ম্যাচে সাত গোল হজম করার পর অনোয়ার আলির অনুপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তবে রক্ষণভাগের ব্যর্থতার জন্য কোনও একজন ফুটবলারকে দায়ী করতে রাজি নন ইস্টবেঙ্গল কোচ (HABAS)। গোলকিপার পরিবর্তন নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি। হাবাসের দাবি, দলের তিন গোলকিপারই ভালো। প্রতিযোগিতা অনুযায়ী তাঁদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এএফসি প্রতিযোগিতায় লাচেনপালকে খেলানোর সিদ্ধান্তও সেই পরিকল্পনার অংশ। তবে চেন্নাইয়িনের বিরুদ্ধে হারের জন্য গোলকিপারকে দায়ী করতে নারাজ তিনি। তাঁর মতে, মূল সমস্যা ছিল গোটা দলের সংগঠনের অভাব।
‘জিতলে দুটো প্রশ্ন, হারলে ১০০টা!’ (HABAS)
সাংবাদিক সম্মেলনের শেষদিকে হাবাসের হতাশা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ে মজা করে তিনি বলেন, “আমরা জিতলে মাত্র দুটো প্রশ্ন করা হয়, কিন্তু হারলে ১০০টা প্রশ্ন!” এরপর রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে শেষ প্রশ্নের মুখে হাত নেড়ে সাংবাদিক সম্মেলন শেষ করেন স্প্যানিশ কোচ।
আরও পড়ুন: East Bengal AFC: হারেও ইতিহাস! এএফসি-র শেষ আটে প্রথম ভারতীয় দল ইস্টবেঙ্গল
চেন্নাইয়িনের বিরুদ্ধে এই হার যে হাবাসকে যথেষ্ট ভাবাচ্ছে, তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট। এখন সামনে বিরতিকে কাজে লাগিয়ে কত দ্রুত ইস্টবেঙ্গলকে নিজের পরিচিত ছন্দে ফেরাতে পারেন স্প্যানিশ কোচ, সেদিকেই নজর থাকবে লাল-হলুদ সমর্থকদের।



