Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দিওয়ালির সকালে ছত্তিশগড়ের বস্তার থেকে দেশের দারিদ্র দূরীকরণ নিয়ে বড়সড় দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। বিশ্বব্যাঙ্কের সাম্প্রতিক রিপোর্টকে হাতিয়ার করে তাঁর দাবি, গত ১২ বছরে দেশে প্রায় ৫০ কোটি মানুষ দারিদ্রসীমা থেকে বেরিয়ে এসেছেন। একইসঙ্গে নাম না করে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর আমলের ‘গরিবি হটাও’ স্লোগানকেও কটাক্ষ করেন তিনি। মোদির বক্তব্য, শুধু স্লোগান দিয়ে দারিদ্র দূর করা যায় না। প্রয়োজন সরকারের সদিচ্ছা, সঠিক পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি।

বস্তার থেকে আত্মনির্ভর ভারতের বার্তা (Narendra Modi)
এ বছরের দীপাবলি ছত্তিশগড়ের বস্তারে কাটিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একটা সময় মাওবাদীদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল এই অঞ্চল। সেখানেই নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে উৎসব উদযাপনের পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা নিয়ে নিজের সরকারের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন তিনি। মাওবাদী সন্ত্রাস মোকাবিলার প্রসঙ্গের পাশাপাশি আত্মনির্ভর ভারত ও বিকশিত ভারতের স্বপ্নপূরণের কথাও শোনা যায় তাঁর মুখে। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “আমি যখন আত্মনির্ভর ভারত বা বিকশিত ভারতের কথা বলি, তখন বিশ্বাস করি, একদিন এই স্বপ্নপূরণ হবেই।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, নিরাপত্তা এবং আর্থিক উন্নয়নকে একই সূত্রে বেঁধে আগামী দিনের ভারত গড়ার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্র।
বিশ্বব্যাঙ্কের রিপোর্টে কী উঠে এসেছে? (Narendra Modi)
বস্তারে দাঁড়িয়ে বিশ্বব্যাঙ্কের রিপোর্টের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়েক দিন আগেই এমন একটি খুশির খবর এসেছে, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা হচ্ছে। গত ১২ বছরে প্রায় ৫০ কোটি মানুষ অতি দারিদ্র থেকে মুক্তি পেয়েছেন। সংখ্যাটির গুরুত্ব বোঝাতে বারবার ৫০ কোটির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি। বিশ্বব্যাঙ্কের সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০১১-১২ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের মধ্যে ভারতে প্রায় ৪৯.৬ কোটি মানুষ দারিদ্রসীমার ঊর্ধ্বে উঠেছেন। ২০২১ সালের ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে নির্ধারিত আন্তর্জাতিক দারিদ্রসীমা অনুযায়ী, ২০১১ সালে দেশের ৫৭.৭ শতাংশ মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে ছিলেন। ২০২৩ সালে সেই হার কমে দাঁড়িয়েছে ১৬.১ শতাংশে। অতি দারিদ্রের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের কথা উঠে এসেছে রিপোর্টে। ২০১১ সালে যেখানে অতি দরিদ্র মানুষের হার ছিল ২৭.১ শতাংশ, ২০২৩ সালে তা কমে হয়েছে মাত্র ২.৬ শতাংশ।
‘গরিবি হটাও’ স্লোগানকে কটাক্ষ (Narendra Modi)
এই পরিসংখ্যানকেই রাজনৈতিক বক্তব্যের হাতিয়ার করেছেন মোদি। ইন্দিরা গান্ধীর আমলের ‘গরিবি হটাও’ স্লোগানের প্রসঙ্গ টেনে তাঁর মন্তব্য, শুধু মুখে দারিদ্র দূরীকরণের কথা বললে হবে না। সরকারের সদিচ্ছা এবং কার্যকর পদক্ষেপই আসল। গত ১২ বছরে কেন্দ্রের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের গতি বাড়ানোর ফলেই এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে বলে দাবি প্রধানমন্ত্রীর।
দারিদ্র কমলেও রয়ে গিয়েছে বৈষম্যের প্রশ্ন
তবে দারিদ্রের হার কমার পরিসংখ্যান সামনে এলেও দেশের আর্থিক বৈষম্যের ছবিটি পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে দারিদ্রের হার এখনও শহরের তুলনায় বেশি। সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, গ্রামীণ এলাকায় দারিদ্রের হার প্রায় ১৯.৩ শতাংশ, যেখানে শহরাঞ্চলে তা প্রায় ৮.৫ শতাংশ।
আরও পড়ুন: Dhanteras Gold Price: ধনতেরাসে সোনা আনুন ঘরে, দামে বিরাট পতন!
পাশাপাশি আয়বৈষম্যও বড় উদ্বেগের কারণ। দেশের নিচুতলার ১০ শতাংশ মানুষের আয়ের তুলনায় উপরতলার ১০ শতাংশ মানুষের আয় প্রায় ১৩ গুণ। ফলে দারিদ্রসীমার নিচে থাকা মানুষের সংখ্যা কমলেও সম্পদের সমবণ্টন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।



