Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বেঙ্গালুরু থেকে লখনউ যাওয়ার কথা ছিল বিমানটির। যাত্রাপথে সবকিছু স্বাভাবিকই ছিল (IndiGo Flight Hijack Threat)। কিন্তু মাঝ আকাশে আচমকাই সামনে এল হাইজ্যাকের হুমকি! বিমানের শৌচালয়ে পড়ে থাকা একটি হাতে লেখা চিরকুট ঘিরে মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে কোনও ঝুঁকি নিতে চাননি পাইলট। মাঝপথ থেকেই বিমান ঘুরিয়ে ফের বেঙ্গালুরুতে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শনিবার সন্ধ্যার এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় বিমানবন্দর এবং যাত্রীদের মধ্যে। যদিও শেষ পর্যন্ত নিরাপদেই বিমানটি অবতরণ করে। তবে কে বা কারা এই হুমকির চিরকুট রেখেছিল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য।
শৌচালয়ে মিলল হাইজ্যাকের হুমকি (IndiGo Flight Hijack Threat)
জানা গিয়েছে, শনিবার বিকেল ৫টা ৫০ মিনিট নাগাদ বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লখনউয়ের উদ্দেশে রওনা দেয় ইন্ডিগোর একটি বিমান। বিমানে ছিলেন মোট ১৭৮ জন যাত্রী। নির্ধারিত সময়েই শুরু হয়েছিল উড়ান। কিন্তু আকাশে ওড়ার প্রায় ৩০ মিনিট পরেই ঘটে বিপত্তি।
বিমানের শৌচালয়ে যান এক যাত্রী। সেখানেই তাঁর চোখে পড়ে একটি হাতে লেখা চিরকুট। তাতে লেখা ছিল, ‘এই বিমানটি ঠিক সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট নাগাদ হাইজ্যাক করা হবে। উপেক্ষা করলে ফল ভুগতে হবে।’ এমন একটি ভয়াবহ হুমকি বার্তা দেখে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ওই যাত্রী। এক মুহূর্ত দেরি না করে তিনি বিষয়টি বিমানকর্মীদের জানান। দ্রুত খবর পৌঁছে যায় পাইলটের কাছেও।
মাঝ আকাশেই বিমান ঘোরানোর সিদ্ধান্ত পাইলটের (IndiGo Flight Hijack Threat)
হাইজ্যাকের হুমকির খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিমানের ভিতরে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। ১৭৮ জন যাত্রীর নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে পরিস্থিতিকে কোনওভাবেই হালকাভাবে নিতে চাননি পাইলট। সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কায় তিনি বিমানটিকে গন্তব্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে বেঙ্গালুরুতে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেন।
সেই মতো বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল বা এটিসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়ার পর বিমানটি ফের কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকে ফিরে আসে। শেষ পর্যন্ত নিরাপদেই অবতরণ করে ইন্ডিগোর বিমানটি। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন যাত্রী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।
তল্লাশিতে মিলল না সন্দেহজনক কিছু, তদন্তে পুলিশ (IndiGo Flight Hijack Threat)
বিমানটি অবতরণের পরই শুরু হয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত তৎপরতা। সমস্ত যাত্রীকে নিরাপদে বিমান থেকে নামিয়ে আনা হয়। এরপর বিমানটির ভিতরে শুরু হয় বিস্তারিত তল্লাশি। বিশেষ করে শৌচালয় এবং অন্যান্য সন্দেহজনক জায়গায় খোঁজ চালানো হয়। তবে সূত্রের খবর, তল্লাশিতে কোনও সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধার হয়নি।
কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বিমানের শৌচালয়ে ওই হুমকির চিরকুট রাখল কে? নিছক আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যেই কি এমন বার্তা লেখা হয়েছিল, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও পরিকল্পনা? এখনও পর্যন্ত সেই প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। চিরকুটের উৎস এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: Dhanteras Gold Price: ধনতেরাসে সোনা আনুন ঘরে, দামে বিরাট পতন!
নিরাপত্তা ছাড়পত্রের পর ফের লখনউয়ের পথে বিমান
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরীক্ষা ও ছাড়পত্র পাওয়ার পর বিমানটি ফের লখনউয়ের উদ্দেশে রওনা দেয়। ফলে বড়সড় কোনও দুর্ঘটনা ছাড়াই শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।



