Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দিনরাত সীমান্ত পাহারা দেন জওয়ানরা (Shubhendu Adhikari)। উৎসবের দিনেও পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থেকে পালন করেন নিজেদের দায়িত্ব। তাঁদের সেই আত্মত্যাগ ও কর্তব্যনিষ্ঠাকে সম্মান জানাতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রতি বছর দীপাবলি কাটান দেশের সীমান্তে কর্মরত সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে। এবার সেই পথেই হাঁটলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দীপাবলির দিন উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ সীমান্তে গিয়ে বিএসএফ জওয়ানদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিলেন তিনি। তবে শুধু মিষ্টিমুখ করানো কিংবা শুভেচ্ছা বিনিময়েই সীমাবদ্ধ থাকল না মুখ্যমন্ত্রীর সফর। জওয়ানদের কাজের স্বীকৃতি দিতে ঘোষণা করলেন বিশেষ সম্মান ‘সীমামিত্র সম্মান’।

সীমান্তে জওয়ানদের পাশে মুখ্যমন্ত্রী (Shubhendu Adhikari)
আগেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর মতো তিনিও দীপাবলির দিন সীমান্তরক্ষী জওয়ানদের সঙ্গে সময় কাটাতে চান। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী রবিবার সকালে হিঙ্গলগঞ্জের বিএসএফ ক্যাম্পে পৌঁছে যান শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে বিএসএফ আধিকারিকরা তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে স্বাগত জানান। জওয়ানদের জন্য মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন ঝুড়িভর্তি মিষ্টি। নিজের হাতে তাঁদের মিষ্টিমুখ করান তিনি। পাশাপাশি উপহার হিসেবে জওয়ানদের হাতে তুলে দেন দীপ।
পরিবার থেকে দূরে থেকে যাঁরা দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় নিয়োজিত, তাঁদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার এই উদ্যোগ স্বাভাবিকভাবেই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরে জওয়ানদের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতার বার্তাও উঠে আসে।
আগের সরকারের কাছে ক্ষমা (Shubhendu Adhikari)
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে উঠে প্রথমেই বিএসএফ জওয়ানদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার বিএসএফের উদ্দেশে খারাপ ভাষা ব্যবহার করেছিল এবং সীমান্ত সুরক্ষার কাজে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেনি। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘আগের সরকার বিএসএফের উদ্দেশে খারাপ ভাষা ব্যবহার করেছিল। তার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। বিগত সরকার আপনাদের সঙ্গে কোনও সহযোগিতা করেনি। কাঁটাতারের জন্য জমি আটকে রেখেছিল। আমরা ক্ষমতায় এসেই সেই জমি দিয়ে দিয়েছি। লাগলে সীমান্ত সুরক্ষিত করতে আরও জমি দেব।’’ মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সীমান্ত সুরক্ষায় রাজ্য সরকারের সহযোগিতার বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে। তাঁর বার্তা, দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশে থাকবে রাজ্য সরকার।
২০২৭ থেকে ‘সীমামিত্র সম্মান’ (Shubhendu Adhikari)
তবে হিঙ্গলগঞ্জ সফরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল মুখ্যমন্ত্রীর নতুন ঘোষণা। সীমান্তে কর্মরত জওয়ানদের ভালো কাজ, নিষ্ঠা ও কৃতিত্বের স্বীকৃতি দিতে ২০২৭ সাল থেকে চালু হবে ‘সীমামিত্র সম্মান’। রাজ্য সরকারের তরফে এই বিশেষ সম্মান প্রদান করা হবে বলে জানান শুভেন্দু অধিকারী(Shubhendu Adhikari)।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় সরকারও সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সাহসিকতা, আত্মত্যাগ এবং অসামান্য কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন পুরস্কার ও পদক প্রদান করে থাকে। এবার সেই ধাঁচে রাজ্য সরকারের তরফেও বিশেষ সম্মান চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী জওয়ানরা আরও উৎসাহিত হবেন বলেই মনে করছে রাজ্য সরকার।
আরও পড়ুন: Dhanteras Gold Price: ধনতেরাসে সোনা আনুন ঘরে, দামে বিরাট পতন!
উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি বড় বার্তা
দীপাবলির আলোয় যখন গোটা দেশ উৎসবে মেতে ওঠে, তখন সীমান্তে দাঁড়িয়ে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন জওয়ানরা। তাঁদের সেই দায়িত্ব ও আত্মত্যাগকে সম্মান জানানোই ছিল মুখ্যমন্ত্রীর হিঙ্গলগঞ্জ সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য। মিষ্টি, দীপ উপহার দেওয়ার পাশাপাশি ‘সীমামিত্র সম্মান’ চালুর ঘোষণা দিয়ে তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।



