Last Updated on [modified_date_only] by
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা(FBI Director Kash Patel) ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) প্রধান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্যাশ প্যাটেলকে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত সিনেট ৫১-৪৯ ভোটে ক্যাশ প্যাটেলকে এই পদে অনুমোদন দিয়েছে। এফবিআই প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ক্যাশ প্যাটেল। সেইসঙ্গে দিয়েছেন হুঁশিয়ারি বার্তাও। বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সিনেটে ক্যাশ প্যাটেলের মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়েছে।
ফবিআইয়ের ডিরেক্টর প্রথম ভারতীয় (FBI Director Kash Patel)
এই প্রথম এফবিআইয়ের ডিরেক্টর(FBI Director Kash Patel) হিসাবে কোনও ভারতীয় বংশোদ্ভূতকে নিয়োগ করা হল। ৪৪ বছরের কাশ এর আগে আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থায় দীর্ঘ দিন কাজ করেছেন। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত। গত বছর ট্রাম্পের মনোনয়ন প্রক্রিয়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন কাশ। তাঁকে মনোনীত করার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন কাশ। সেই সঙ্গে তাঁর ঘোষণা, এফবিআই-এর প্রতি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের বিষয়ে ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি মতোই তিনি কাজ করবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্যাটেল লেখেন, ‘আমি এফবিআইয়ের নবম পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় সম্মানিত বোধ করছি। আমার প্রতি অটুট আস্থা ও সমর্থন দেয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং অ্যাটর্নি জেনারেল বন্ডিকে ধন্যবাদ জানাই।’
‘পৃথিবীর যেকোনও কোনা থেকে খুঁজে বের করব’ (FBI Director Kash Patel)
দায়িত্ব পাওয়ার পরেই এক্স হ্যান্ডেলে দীর্ঘ পোস্ট করে কাশ(FBI Director Kash Patel) লেখেন, ‘এফবিআইয়ের ডিরেক্টর হতে পেরে আমি সম্মানিত। ৯/১১র হামলার পর আমেরিকাবাসীকে রক্ষা করা থেকে শুরু করে আরও নানা ক্ষেত্রে বিশেষ ঐতিহ্য রয়েছে এফবিআইয়ের। তাই আমেরিকাবাসী স্বচ্ছ এফবিআই চান। বর্তমানে বিচারবিভাগ রাজনীতির অধীনে চলে গিয়েছে বলে মানুষ আস্থা হারাচ্ছেন, কিন্তু সেটা আর চলবে না। আর যারা আমেরিকার ক্ষতি করার চেষ্টা করে, তাদের জন্য হুঁশিয়ারি রইল। এই পৃথিবীর যেকোনও কোনা থেকে খুঁজে বের করব।’
আরও পড়ুন: Trump vs Zelenskyy: ট্রাম্প বনাম জেলেনস্কি! কেন বাড়ছে কথার যুদ্ধ?
মার্কিন প্রশাসনিক মহলে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত
কাশ প্যাটেলের জন্ম মার্কিন মুলুকেই। তাঁর পুরো নাম কাশ্যপ প্রমোদ প্যাটেল। বাবা উগান্ডার ও মা তানজানিয়ার। তাঁদের পরিবারের সঙ্গে গুজরাটের যোগসূত্র রয়েছে। কাশের পড়াশোনা নিউইয়র্কে হলেও ফ্লোরিডায় শুরু কর্মজীবন। প্রথমে স্টেট পাবলিক ডিফেন্ডার এবং পরে ফেডেরাল পাবলিক ডিফেন্ডার হিসেবে কাজ করেছেন। মার্কিন প্রশাসনিক মহলে দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত তিনি। মার্কিন জঙ্গিবিরোধী কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। হোয়াইট হাউসেও তিনি কাজ করেছেন। এনএসসির সিনিয়র ডিরেক্টর পদে ছিলেন। তাই ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের পরই তাঁকে এফবিআই ডিরেক্টর হিসেবে বেছে নিয়েছেন ট্রাম্প।
বিভিন্ন উচ্চ-প্রোফাইল ভূমিকায়
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আইনজীবী প্যাটেল পূর্বে একজন ফেডারেল প্রসিকিউটর হিসেবে কাজ করেছিলেন এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে জাতীয় নিরাপত্তা এবং গোয়েন্দা বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি তৎকালীন কংগ্রেসম্যান ডেভিন নুনেসের একজন সিনিয়র সহকারী হিসেবে কাজ করেছিলেন, ২০১৬ সালে রাশিয়ার নির্বাচনী হস্তক্ষেপের সাথে ট্রাম্পের কথিত সম্পর্ক তদন্তে রিপাবলিকানদের সহায়তা করেছিলেন। ২০১৮ সালে, প্যাটেল নুনেস মেমো তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন, যেখানে এফবিআইকে ট্রাম্পের প্রাক্তন প্রচারণা উপদেষ্টার বিরুদ্ধে অনুপযুক্তভাবে নজরদারি পরোয়ানা পাওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল। পরবর্তীতে, তিনি বিভিন্ন উচ্চ-প্রোফাইল ভূমিকায় দায়িত্ব পালন করেন, যার মধ্যে রয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কর্মকর্তা এবং ২০২০ সালে ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষা সচিবের প্রধান কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন।
‘কাশ একজন চমৎকার আইনজীবী’
এর আগে প্যাটেলকে মনোনয়ন দিয়ে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘কাশ একজন চমৎকার আইনজীবী, তদন্তকারী এবং আমেরিকা ফার্স্ট যোদ্ধা। দুর্নীতি উন্মোচন, ন্যায়বিচার এবং আমেরিকানদের রক্ষা করার জন্য কাজ করেছেন প্যাটেল।’ ক্যাশ প্যাটেলের ‘গভর্নমেন্ট গ্যাংস্টারস’ নামে লেখা একটি বই রয়েছে(FBI Director Kash Patel)। সেখানে তিনি ডিপ স্টেটের বিরুদ্ধে লিখেছেন। এফবিআই ও মার্কিন বিচার বিভাগ ঘিরে ট্রাম্প যে উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে চান, তার সমর্থকেরা নির্বাচনে ক্যাশ প্যাটেলের পক্ষে ছিলেন। প্যাটেল অঙ্গীকার করেছেন, তিনি ডিপ স্টেট ভেঙে চুরমার করবেন এবং এফবিআই পুরোপুরি ঢেলে সাজাবেন।


