Last Updated on [modified_date_only] by Ananya Dey
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : রুফটপ রেস্তরাঁ (Rooftop Restaurant) ভাঙার উপর আপাতত অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ কলকাতা হাইকোর্টের। ৮ মে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পার্ক স্ট্রিটের ম্যাগমা হাউসের রুফটপ রেস্তরাঁ ভাঙার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেন বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্ত।
রুফটপ রেস্তরাঁ ভাঙায় স্থগিতাদেশ (Rooftop Restaurant)
রুফটপ রেস্তরাঁ (Rooftop Restaurant) ভাঙার উপর আপাতত স্থগিতাদেশ জারি করল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রেস্তরাঁ ভাঙার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেন বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্ত। কলকাতার পার্ক স্ট্রিটের ম্যাগমা হাউসের LMNQ কে রুফটপ রেস্তোরাঁ ভাঙার নোটিশ জারি করে ভাঙার কাজ শুরু করেছিল কলকাতা পুরসভা। সেই নির্দেশের উপর আপাতত স্থগিতাদেশ কলকাতা হাইকোর্টের।
সব রেস্তরাঁর ক্ষেত্রে এই নির্দেশ প্রযোজ্য ? (Rooftop Restaurant)
আপাতত সব রুফটপ রেস্তরাঁর (Rooftop Restaurant) ক্ষেত্রে এই নির্দেশ প্রযোজ্য হবে কিনা তা জানা যাবে আগামীকাল। কারণ আগামীকাল আরও একাধিক মামলার শুনানি রয়েছে।আবেদনকারী রেস্তরাঁর আইনজীবী সব্যসাচী চৌধুরী বলেন, “আমাদের ফায়ার লাইসেন্স আছে। একটা হোটেলে এই ধরণের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর সব হোটেলের ক্ষেত্রে এই নোটিস কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে। প্রায় প্রতিদিন পুরসভা থেকে লোক আসছে। পুলিশও আসছে। আমরা তো ক্রিমিনাল নই।
আবেদনকারী রেস্তরাঁর আইনজীবীর যুক্তি
“তিনি আরও বলেন, পুরো জায়গাটা ভেঙে ফেলা হয়েছে। একটা 401 এর নোটিশের ভিত্তিতে ভেঙে ফেলা হয়েছে। আমরা অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ চাইছি। আমাদের ইলেকট্রিক কানেকশান কেটে দেওয়া হয়েছে। পুরসভার নির্দেশ অনুযায়ী রুফ টপের উপরে কোনও রেস্তরাঁ চালানো যাবে না। আমরা কোনও ক্রিমিনাল নই। মেয়র ইন কাউন্সিলের নির্দেশে হয়নি। এটা শুধু মাত্র মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) এসে দেখিয়েছেন এবং তার পরে ভাঙা শুরু হয়েছে। আমাদের ফায়ার লাইসেন্স আছে। আমাদের ইলেকট্রিক কানেকশান কেটে দেওয়া হয়েছে। আমাদের যে ক্ষতি হয়েছে সেই ক্ষতিপূরণ করার চেষ্টা পর্যন্ত করতে দেওয়া হচ্ছে না।। আমাদের সব লাইসেন্স রয়েছে। এখানে কেন এই রেস্তরাঁকে টার্গেট করা হয়েছে, আমি শুধু সেটা বলছি।আইনজীবী আরও বলেন, “আমাদের অন্তত ১৫ দিনের নোটিশ দেওয়া উচিত ছিল। এভাবে পুলিশ নিয়ে এসে সরাসরি আমার দোকানের ফার্নিচার ভাঙ্গা হয়েছে কেন?”
বৃহস্পতিবার মামলার পরবর্তী শুনানি
রাজ্যের আইনজীবী জানান বক্তব্য, ” এখানে যা পরিস্থিতি ছিল সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”উভয়পক্ষের যুক্তি শুনে বিচারপতি বলেন, “বৃহস্পতিবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আপাতত কোনও পদক্ষেপ নিতে পারবেন না পুরসভা।”
আরও পড়ুন : Digha Jagannath Dham: জগন্নাথধাম তৈরি হওয়ায় অনেকের তা ‘গায়ে লেগেছে’, মুখ খুললেন মমতা
প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে বড়বাজারের এক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের প্রাণ হারিয়েছেন ১৪ জন। তারপরই নড়ে চড়ে বসেছে রাজ্য প্রশাসন ও কলকাতা পুরসভা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বড়বাজারের ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে একাধিক হোটেলে সারপ্রাইজ ভিজিটে যান। হোটেলগুলির বেআইনি নির্মাণ নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তিনি। অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও বেআইনিভাবে একাধিক হোটেল সংস্থা বিল্ডিংয়ের ছাদে ‘রুফটপ’ হোটেল চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই নিয়ে কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, পুলিশ ও দমকল আধিকারিকদের যথাযথ ব্যবস্থা দেওয়ার নির্দেশ দেন। কোনও হোটেল বা রেস্তরাঁর সিঁড়ি, ছাদের অংশ আটকে কোনও ব্যবসা করা যাবে না। তা খালি রাখতে হবে। আগুনের মতো বড় বিপদের হাত থেকে সুরক্ষার জন্যই এই নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।তারপরই শহরের সমস্ত রুফটপ রেস্তরাঁ , বার, ক্যাফে বন্ধ করে দিতে তৎপর হয় কলকাতা পুরসভা। শুক্রবার ‘টক টু মেয়র’ অনুষ্ঠানের পর মেয়র ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) জানান, শহরের সমস্ত ‘রুফটপ’ রেস্তরাঁ আপাতত বন্ধ রাখতে হবে। গত শনিবার ৮৩ টি রুফটপ রেস্তরাঁ বন্ধের নোটিস পাঠানো হয় পুরসভার পক্ষ থেকে। অন্যথায় সেসব ভেঙে ফেলা হবে বলেও কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এমনকি দু-একটি রেস্তরাঁয় পুরসভার তরফে ভাঙাভাঙির কাজও শুরু হয়।


