Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: কাশ্মীরের পুঞ্চ জেলায় পর্যটকদের উপর সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে (Military Power)। সীমান্তে সেনা সমাবেশ, কড়া ভাষার কূটনৈতিক বিবৃতি এবং উভয় দেশের সংবাদমাধ্যমে বাড়তে থাকা যুদ্ধোন্মাদনার আবহে এই দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে — বাস্তবে কে কতটা শক্তিশালী?
স্থলসেনার শক্তিতে কার শক্তি কত? (Military Power)
ভারতের সেনাবাহিনী দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম এবং বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে বিবেচিত (Military Power)। বর্তমানে ভারতের সক্রিয় সেনা সংখ্যা প্রায় ১৪.৫ লাখ, যার সাথে রিজার্ভ হিসেবে রয়েছে আরও ১১.৫৫ লাখ সদস্য। এর বিপরীতে পাকিস্তানের সক্রিয় সেনা সদস্য সংখ্যা প্রায় ৬.৫ লাখ এবং রিজার্ভ ৫.৫ লাখ।ভারতের কাছে রয়েছে প্রায় ৪,৬১৪টি যুদ্ধ ট্যাংক, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো T-90 ভীষ্ম ও দেশীয় অরজুন ট্যাংক। এছাড়া রয়েছে ৮,৬০০টি সাঁজোয়া যান এবং ৯,৭১৯টি আর্টিলারি ইউনিট। পাকিস্তানের হাতে রয়েছে প্রায় ৩,৭৪২টি ট্যাংক, ৮,৭১০টি সাঁজোয়া যান এবং ৬,৩০৮টি আর্টিলারি ইউনিট। এই দিক থেকে ভারত স্পষ্টভাবে এগিয়ে, বিশেষ করে আধুনিক প্রযুক্তি ও স্বদেশি প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কারণে।
আকাশ পথে আধিপত্য কার? (Military Power)
বিমান বাহিনীর শক্তি আধুনিক যুদ্ধে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভারতের বিমান বাহিনীতে রয়েছে মোট ২,২৯৬টি বিমান, যার মধ্যে ৬০৬টি যুদ্ধবিমান (Military Power)। এসবের মধ্যে রয়েছে Su-30MKI, ফরাসি রাফাল, মিরাজ ২০০০, মিগ-২৯ এবং দেশীয় তৈরি তেজস যুদ্ধবিমান। ভারত S-400 ট্রায়াম্ফ ও আকাশ মিসাইল সিস্টেমের মতো অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও অর্জন করেছে। পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর সংগ্রহে রয়েছে প্রায় ১,৪৩৪টি বিমান, যার মধ্যে ৩৮৭টি যুদ্ধবিমান। উল্লেখযোগ্য বিমানগুলোর মধ্যে রয়েছে আমেরিকান F-16, চীনা JF-17 এবং সাম্প্রতিক সংযোজন J-10C। পাকিস্তানও HQ-9 এবং LY-80 এর মতো আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। যদিও পাকিস্তানের হাতে কিছু প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত বিমান রয়েছে, তবে ভারতের বিমানের সংখ্যা, বৈচিত্র্য এবং সমর্থন কাঠামো বেশি সুসংগঠিত ও আধুনিক।
নৌবাহিনীর শক্তি কার কত? (Military Power)
ভারতের নৌবাহিনী দক্ষিণ এশিয়ায় একটি “ব্লু-ওয়াটার” শক্তি হিসেবে বিবেচিত, অর্থাৎ এটি মহাসাগরজুড়ে অভিযান চালাতে সক্ষম (Military Power)। ভারতের নৌবাহিনীতে রয়েছে প্রায় ২৯৫টি জাহাজ, যার মধ্যে দুইটি বিমানবাহী রণতরী (INS Vikramaditya ও INS Vikrant), ১১টি ডেস্ট্রয়ার, ১৩টি ফ্রিগেট এবং ১৭টি সাবমেরিন। অন্যদিকে, পাকিস্তানের নৌবাহিনী অপেক্ষাকৃত ছোট — এর জাহাজ সংখ্যা ১১৪টি, যার মধ্যে রয়েছে ৮টি ফ্রিগেট এবং ৮টি সাবমেরিন। পাকিস্তানের নৌবাহিনীর প্রধান লক্ষ্য আরব সাগরে নিরাপত্তা বজায় রাখা, তবে ভারতের সঙ্গে সরাসরি সামুদ্রিক সংঘর্ষে এটি বেশ দুর্বল।
পারমাণবিক ক্ষমতা কার কত? (Military Power)
উভয় দেশই পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত (Military Power)। ভারতের হাতে রয়েছে আনুমানিক ১৩০ থেকে ১৪০টি ওয়ারহেড, যেখানে পাকিস্তানের হাতে রয়েছে প্রায় ১৪০ থেকে ১৫০টি। ভারতের অগ্নি সিরিজের ব্যালিস্টিক মিসাইল (যার রেঞ্জ ৫,০০০ কিমি পর্যন্ত) এবং ব্রহ্মোস ক্রুজ মিসাইল একাধিক লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম। পাকিস্তানের গৌরি ও শাহীন-২ মিসাইল ২,০০০ কিমি দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম এবং বাবর ক্রুজ মিসাইলও উল্লেখযোগ্য। তবে নীতিগত দিক থেকে পার্থক্য রয়েছে — ভারত ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ নীতি অনুসরণ করে, যেখানে পাকিস্তানের পারমাণবিক নীতি আরও নমনীয় ও অনির্দিষ্ট।
প্রতিরক্ষা বাজেট (Military Power)
ভারতের বার্ষিক প্রতিরক্ষা বাজেট প্রায় ৭৪ বিলিয়ন ডলার, যেখানে পাকিস্তানের বাজেট প্রায় ১০.৪ বিলিয়ন ডলার (Military Power)। এই বিশাল বাজেট পার্থক্য ভারতের আধুনিকীকরণ ও গবেষণা খাতে বড় ভূমিকা রাখছে। স্বদেশি প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়ন, যেমন DRDO ও HAL, ভারতের আত্মনির্ভরতা বাড়াতে সহায়তা করছে।
আরও পড়ুন: Supreme Court: সামনে এল কার কাছে কত টাকা? বিচারপতিদের সম্পত্তির খতিয়ান প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট
উত্তেজনার মাঝে শান্তিই শ্রেয় (Military Power)
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে পরিস্কার দেখা যায়, সামরিক শক্তি, আধুনিক প্রযুক্তি ও বাজেটের বিচারে ভারত পাকিস্তানের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে (Military Power)। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে যুদ্ধের ফলাফল নির্ভর করে কৌশল, কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক চাপের ওপরও। পারমাণবিক অস্ত্রের উপস্থিতি এই সংঘাতকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে।অতএব, দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমন ও সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খোঁজাই সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত ও নিরাপদ পথ। কারণ এই দুই দেশের মধ্যে একটি মাত্র ভুল পদক্ষেপ গোটা দক্ষিণ এশিয়াকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিতে পারে।


