Last Updated on [modified_date_only] by Anustup Roy Barman
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ৯ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া শুল্ক এপ্রিল মাসে ঘোষণা করা হয় (Where Do Trade Talks Stand), যেখানে হোয়াইট হাউস বাণিজ্য সম্পর্কে “পারস্পরিক সহযোগিতার” অভাবের কথা উল্লেখ করেছে।
ইউএস ট্যারিফ বাড়ানোর সময়সীমা ঘনিয়ে আসছে (Where Do Trade Talks Stand)
বুধবার (জুলাই ৯) থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বর্ধিত শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা (Where Do Trade Talks Stand)। এই শুল্ক ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে শুরু করে ভারত পর্যন্ত বহু দেশের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করতে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের বাণিজ্য আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণা এপ্রিল মাসে করা হয়েছিল। হোয়াইট হাউস তখন যুক্তি দিয়েছিল, বাণিজ্যে “পারস্পরিকতা”র অভাব রয়েছে। তবে পরে সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়, আলোচনা চালানোর জন্য।
দেখে নেওয়া যাক শুল্ক কার্যকর হওয়ার কয়েকদিন আগে বিভিন্ন দেশের অবস্থান কী?
ইউরোপীয় ইউনিয়ন: চুক্তির জন্য প্রস্তুত (Where Do Trade Talks Stand)
ইউরোপীয় ইউনিয়নের তরফে জানানো হয়েছে, তারা আমেরিকার সঙ্গে একটি চুক্তির জন্য “প্রস্তুত” (Where Do Trade Talks Stand)। বৃহস্পতিবার ইইউ-এর বাণিজ্য প্রধান মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লায়েন জানান, তারা জুলাই ৯-এর আগেই একটি “নীতিগত চুক্তি” করতে আগ্রহী। যদি চুক্তি না হয়, তবে ইউরোপীয় পণ্যের উপর মার্কিন শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০ শতাংশ হয়ে যাবে। ট্রাম্প আগেই বলেছিলেন, শুল্ক ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
ভিয়েতনাম: চুক্তি হলেও অনিশ্চয়তা (Where Do Trade Talks Stand)
বুধবার, যুক্তরাষ্ট্র ও ভিয়েতনাম একটি বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা করে (Where Do Trade Talks Stand)। তবে চুক্তির বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এই চুক্তির ফলে ভিয়েতনাম ট্রাম্পের প্রথম ঘোষিত ৪৬ শতাংশ শুল্ক থেকে রেহাই পেয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, ভিয়েতনামের পণ্যে কমপক্ষে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হবে। অন্যত্র তৈরি পণ্যে ৪০ শতাংশ শুল্ক। এই নিয়ম মূলত চীনা সংস্থাগুলোর “ট্রান্সশিপমেন্ট” ঠেকাতে। তবে চুক্তিতে বিদেশি অংশবিশিষ্ট পণ্যে উচ্চ শুল্ক কতটা কার্যকর হবে, তা স্পষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীন পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পারে।
জাপান: চাল ও গাড়ি বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা
আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়া সত্ত্বেও জাপান হয়তো শুল্ক বৃদ্ধির হাত থেকে বাঁচতে পারবে না। জুন মাস পর্যন্ত টোকিওর বাণিজ্য প্রতিনিধি রিয়োসেই আকাজাওয়া ওয়াশিংটনে একাধিকবার গিয়েছেন। তবে সম্প্রতি ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, জাপান মার্কিন চাল ও গাড়ির রফতানি বাড়াতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তিনি বলেন, “আমি নিশ্চিত না, আমরা চুক্তি করতে পারব কি না। তাদের ওপর ৩০ বা ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ হতে পারে, যা আমরা নির্ধারণ করব।”
ভারত: ইতিবাচক অবস্থান
ভারতের নির্মাতা ও রফতানিকারকেরা আশাবাদী যে তারা ২৬ শতাংশ শুল্ক এড়াতে পারবে। দুই দেশের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরেই আলোচনা ভালো চলছে। জুনের শেষে ট্রাম্প নিজেই বলেছিলেন, “একটি বড় চুক্তি” আসছে। ভারতীয় রফতানি সংস্থার ফেডারেশনের মহাপরিচালক অজয় সাহাই বলেন, “আমার পাওয়া প্রতিক্রিয়া বলছে ইতিবাচক অগ্রগতি হচ্ছে।” তবে তিনি বলেন, পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জোর দিয়ে বলেন, কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্য ভারতের “বড় রেড লাইন”।
দক্ষিণ কোরিয়া: মিশ্র আশাবাদ
ইতিমধ্যেই আমেরিকার স্টিল ও গাড়ির উপর শুল্কে ক্ষতিগ্রস্ত দক্ষিণ কোরিয়া, নতুন ২৫ শতাংশ শুল্ক এড়াতে চায়। জাহাজ নির্মাণে সহযোগিতা একটি আলোচনার বিষয় হতে পারে। তবে নতুন প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং বলেন, “এই পর্যায়ে দুই পক্ষই এখনো ঠিক করেনি তারা কী চায়।” তিনি আরও বলেন, “আমি নিশ্চিত করে বলতে পারছি না, জুলাই ৮-এর মধ্যেই আলোচনা শেষ হবে।”
ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, তাইওয়ান: অপেক্ষারত
আসিয়ান দেশগুলির মধ্যে ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়ার মতো অর্থনীতিগুলি উদ্বেগের সঙ্গে অপেক্ষা করছে। কম্বোডিয়ার ক্ষেত্রে শুল্ক হতে পারে ৪৯ শতাংশ। ইন্দোনেশিয়া জানিয়েছে, তারা মার্কিন শক্তি, কৃষিপণ্য এবং অন্যান্য পণ্যের আমদানি বাড়াতে প্রস্তুত। বাংলাদেশ প্রস্তাব দিয়েছে, তারা বোয়িং বিমানের অর্ডার দেবে এবং মার্কিন কৃষিপণ্য আমদানি বাড়াবে। তাইওয়ান, যাদের জন্য আমেরিকা গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সহযোগী, চুক্তি না হলে ৩২ শতাংশ শুল্কের মুখে পড়বে। তবে দুই পক্ষের মধ্যে কিছু সমস্যা থাকলেও, তাইওয়ানের ভাইস প্রেসিডেন্ট হসিয়াও বিখিম বলেন, “উভয় পক্ষের আলোচকরা আন্তরিকভাবে কাজ করে চলেছেন।”
সুইজারল্যান্ড: বিলম্বের আশায়
সুইজারল্যান্ডের সরকার বলেছে, আমেরিকা তাদের সদিচ্ছা স্বীকার করেছে। ফলে জুলাই ৯-এ তাদের উপর ১০ শতাংশ শুল্কই কার্যকর থাকবে বলেই ধারণা। তবে জুনের শেষে প্রেসিডেন্টের তরফ থেকে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায়, সুইজারল্যান্ড এখনও ৩১ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বৃদ্ধির আশঙ্কা উড়িয়ে দিতে পারছে না।


