Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: মার্কিন পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা সম্প্রতি যে প্রস্তাব দিয়েছে, তা পরিবেশনীতির এক তীব্র আলোচনা শুরু করেছে(Carbon Dioxide)। কার্বন ডাই অক্সাইড (CO₂) -যা দীর্ঘদিন ধরেই গ্রিনহাউস গ্যাস ও দূষণকারী হিসেবে বিবেচিত, তাকে গ্রিনহাউস গ্যাস তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত ইপিএ কর্মকর্তা ও ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তি দেন, স্বাভাবিক ঘনত্বে CO₂ জীবনের জন্য অপরিহার্য; উদ্ভিদ ও প্রাণীর শ্বাস-প্রশ্বাস ও সালোকসংশ্লেষের জন্য এটি দরকার। তারা বলছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্প খাতে কার্যকর কঠোর নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখলে মার্কিন অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
প্রস্তাবকে অগ্রহণযোগ্য বলছেন বিজ্ঞানী (Carbon Dioxide)
অন্যদিকে, পরিবেশবিদ ও অনেক বিজ্ঞানী এই প্রস্তাবকে অগ্রহণযোগ্য মনে করছেন(Carbon Dioxide)। তাদের অভিযোগ, মানবসৃষ্ট উৎস থেকে নির্গত কার্বন ডাই অক্সাইডই বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রধান কারণ এবং তাই তা নিয়ন্ত্রণ না করলে ক্লাইমেট ক্রাইসিস বাড়বে। পরিবেশ সংস্থা আর্থজাস্টিস ইতিমধ্যেই আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা করেছে; তাদের বক্তব্য—ইপিএর এই পরিবর্তন ফেডারেল সংস্থার ক্ষমতা খর্ব করবে এবং শিল্পগোষ্ঠীর অনুকূলে কাজ করবে।
‘দূষণকারী’ তালিকা থেকে সরবে CO₂ (Carbon Dioxide)
আইনগত পটভূমি হলো, ২০০৭ সালের মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ইপিএকে গ্রিনহাউস গ্যাস নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেয়া হয়েছিল(Carbon Dioxide)। সেই রায়কে ভিত্তি করে বহু নির্গমন মানদণ্ড গঠন করা হয়েছে। ইপিএর সাম্প্রতিক প্রস্তাব সেই কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে চায়—বিশেষত কয়লা ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উপর আরোপিত সীমাবদ্ধতা নিয়ে। যদি CO₂কে ‘দূষণকারী’ তালিকা থেকে সরিয়ে দেয়া হয়, তাহলে বর্তমান কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল হবে বলে পরিবেশকারীরা আশঙ্কা করছেন।

কেন এই সিদ্ধান্ত? (Carbon Dioxide)
বিজ্ঞানের দিক থেকেও বিতর্ক তীব্র(Carbon Dioxide)। কিছু বিজ্ঞানী ইঙ্গিত করছেন, সাধারণ পরিমানে CO₂ বিষাক্ত না, কেবল অতিরিক্ত ঘনত্বে এটি শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। আবার অনেকে বলছেন, প্রাক-শিল্প যুগের তুলনায় বায়ুমণ্ডলে CO₂-র ঘনত্ব শতকরা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মানুষের তৈরি নির্গমনই তার মূল চালিকা শক্তি। ফলে কেবল গ্যাসের ‘বৈশিষ্ট্য’ নয়—তার মাত্রা ও বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন।

রাজনৈতিকভাবে এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্প (Donald J. Trump) প্রশাসনের অর্থনীতি-প্রধান নীতির প্রতিফলন-শিল্প ও চাকরি রক্ষাকে প্রাধান্য দেয়া(Carbon Dioxide)। তবে পরিবেশগত নিরাপত্তা, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রতিরোধ এবং জনস্বাস্থ্যের দিক থেকে বিরোধী পক্ষের সতর্কতা বিবেচ্য। আগামী মাসগুলোতে সরকারি গণশুনানী, আইনি লড়াই এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে বিষয়টি আরও জটিল রূপ নেবে। যে কোনো সিদ্ধান্তের ফল শুধু আমেরিকার নয়, বিশ্বপরিসরের জলবায়ু নীতিকেও প্রভাবিত করবে।


