Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : ভারত ও নেপালের মধ্যে লিপুলেখ পাস ও কালাপানি অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে(Lipulekh Pass)। নেপালের দাবিকে অযৌক্তিক এবং অনৈতিহাসিক বলেছেন নয়াদিল্লি(Narendra Modi)। তবু দু’পক্ষ গঠনমূলক আলোচনা চাইলে ভারতের পক্ষ থেকে দরজা খোলা থাকবে—এই দুইটা বার্তাই একই সময় দিয়েছে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রণালয়।
ভারতের কাছে আপত্তি জানিয়েছে নেপাল (Lipulekh Pass)
কাঠমান্ডু সম্প্রতি সরকারের এক ঘোষণায় জানিয়েছিল, তাদের সরকারি মানচিত্রে কালী নদীর পূর্বে অবস্থিত লিপুলেখ, লিম্পিয়াধুরা ও পূর্ব কালাপানি সংযুক্ত করা হয়েছে এবং সে নিয়েই তারা ভারতের কাছে আপত্তি জানিয়েছে(Lipulekh Pass)। নেপাল বলেছে, ওই অঞ্চলগুলো তাদের “অবিচ্ছেদ্য অংশ” এবং তাই সেখানে রাস্তা নির্মাণ, সম্প্রসারণ বা সীমান্তবাণিজ্য বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়েছে। নেপাল আরও জানিয়েছে যে বিষয়টি তারা চীনকেও জানিয়েছে।
ভারতের প্রতিক্রিয়া গ্রহণযোগ্য নয় (Lipulekh Pass)
তবে ভারতের প্রতিক্রিয়া গ্রহণযোগ্য হয়নি কাঠমান্ডুর(Lipulekh Pass)। বিদেশ মন্ত্রণালয়ের স্বরূপিক বিবৃতিতে লিপুলেখ সংক্রান্ত নেপালের সপক্ষে থাকা দাবিকে ‘অযৌক্তিক, অসমর্থনযোগ্য এবং অনৈতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে, ১৯৫৪ সালে লিপুলেখ পাস ধরে ভারতের ও চিনের মধ্যে সীমান্তবাণিজ্য শুরু হয়েছিল এবং বহু দশক ধরে তা চলমান। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে কোভিড-১৯ মহামারি এবং অন্যান্য কারণে সম্প্রতি সেই বাণিজ্য সাময়িকভাবে স্থগিত ছিল; কিন্তু নেপালের আপত্তি মেনে নেওয়া হবে না—এমন ন্যারেটিভ স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

আরও পড়ুন : Carbon Dioxide : কার্বন ডাইঅক্সাইড দূষণকারী গ্যাস নয়, তালিকা থেকে বাদ দিতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র!
দীর্ঘদিন ধরে মতবৈষম্য (Lipulekh Pass)
কেলাস-মানস সরোবর তীরের জন্য ২০২০ সালে লিপুলেখ বরাবর ভারতের নির্মিত ৮০ কিলোমিটারের রাস্তা ও সেই সময়কার নেপালের আপত্তি ইতোমধ্যেই বিতর্ক উসকে দিয়েছিল(Lipulekh Pass)। লিপুলেখ ও কালাপানি বিষয়ক বিতর্কের সূত্রপাত ব্রিটিশ শাসনামলে; ১৮১৬ সালের সুগৌলি সन्धিতে কালী নদীকে দুই দেশের ভৌগোলিক সীমারেখা হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও নদীর উৎপত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মতবৈষম্য রয়েছে। নেপাল মনে করে লিম্পিয়াধুরার উৎসস্থল লিপুলেখের উত্তরে, যেখানে ভারতের দাবি কালী নদীর উৎপত্তিস্থল কালাপানি গ্রামের একটি প্রস্রবণ এবং তা উত্তরাখণ্ডের আওতায় পড়ে।

আরও পড়ুন : Israel Palestine Conflict : ইজরায়েলের সেনা শিবিরে আকস্মিক হামলা হামাসের! পাল্টা অভিযান নেতানিয়াহু বাহিনীর
কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান (Lipulekh Pass)
কূটনৈতিক দিক থেকে বিষয়টি এখন সংবেদনশীল পর্যায়ে(Lipulekh Pass)। কূটনীতিক মঞ্চে ভারত বলছে, পক্ষান্তরে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে। কিন্তু তাদের অবস্থান ও ঐতিহাসিক রেকর্ডে কোন ছাড় নাই বলেই লক্ষণীয়। অপরদিকে নেপাল এই অঞ্চলের ওপর দীর্ঘমেয়াদি দাবিতে জোর ধরে বলছে, তারা ঐতিহাসিক ও ভূগোলগত ভাবেই সেদিককে নিজেদের অংশ মনে করে।
চিনের সঙ্গে সীমান্তবাণিজ্যের পুনরায় শুরু—এবং কোন পথে তা চলবে—এ নিয়ে যখন ভারত-চিন আলোচনার মধ্যেই পৌঁছেছে, ঠিক তখনই নেপালের বক্তব্য উঠে আসায় কূটনৈতিক তাপমাত্রা বেড়ে গেছে। কলকাতা-কাঠমান্ডু-দিল্লি-চীন লেনদেন ও কূটনৈতিক যোগাযোগের পরবর্তী ধাপগুলো কী হবে তাতে এখনই অপেক্ষা করা হচ্ছে। তবে স্পষ্ট যে, বিষয়টি একেবারে সহজভাবে মিটবে না এবং ভবিষ্যতে কূটনৈতিক ও নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে বহু আলোচনা ও সমঝোতার দরকা


