Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: শরীরে খাবার হজমের সময় পিউরিন নামক একটি যৌগ ভাঙে (Uric Acid)। এই পিউরিন ভাঙলে ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হয়। এটি মূলত শরীরের একটি প্রাকৃতিক বর্জ্য পদার্থ। সাধারণ অবস্থায় কিডনি এই ইউরিক অ্যাসিড প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেয়।কিন্তু যখন শরীরে অতিরিক্ত পিউরিন জমে যায় বা কিডনি ঠিকমতো কাজ করতে পারে না, তখন ইউরিক অ্যাসিড জমতে শুরু করে। এতে রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যায়, যাকে বলে হাইপারইউরিসেমিয়া।

ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে গেলে কী হয়? (Uric Acid)
- গাঁটে ব্যথা হয় (Uric Acid)
- জয়েন্ট ফুলে যায়
- হাড়ে শক্ত ভাব অনুভূত হয়
- অনেক সময় “গাউট” নামের বাতের মতো অসুখ দেখা দেয়
- দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে না রাখলে কিডনিতে পাথরও তৈরি হতে পারে

কেন ইউরিক অ্যাসিড বাড়ে? (Uric Acid)
- অতিরিক্ত মাংস (Uric Acid), মাছ বা ডালজাতীয় খাবার খেলে
- বেশি মদ্যপান বা সফট ড্রিঙ্কস খাওয়ার ফলে
- জাঙ্ক ফুড বেশি খেলে
- শরীরে অতিরিক্ত ওজন হলে
- মানসিক চাপ বা স্ট্রেস থাকলে
- পর্যাপ্ত পানি না খেলে
কী বলে আয়ুর্বেদ ? (Uric Acid)
আয়ুর্বেদ মতে, ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যাওয়া মানে শরীরে অতিরিক্ত বিষ বা টক্সিন জমে থাকা। তাই এর চিকিৎসা হল শরীরকে বিশুদ্ধ করা, হজমশক্তি বাড়ানো এবং কিডনিকে সহায়তা করা। আয়ুর্বেদিক কিছু ভেষজ ও খাদ্যাভ্যাস মেনে চললে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
আয়ুর্বেদিক সমাধান! (Uric Acid)
ত্রিফলা সেবন
ত্রিফলা হল হরিতকি, আমলকি ও বিভিতকির মিশ্রণ।
- এটি শরীরকে ডিটক্স করে
- হজমশক্তি বাড়ায়
- লিভার ও কিডনি পরিষ্কার রাখে
নিয়ম: রাতে শোয়ার আগে ১ চা চামচ ত্রিফলা গুঁড়ো কুসুম গরম জলের সঙ্গে খেতে হবে।
গুগ্গুল ও পুনর্নভা
- গুগ্গুল: জয়েন্টের প্রদাহ ও ফোলা কমায়, ব্যথা দূর করে।
- পুনর্নভা: একটি প্রাকৃতিক ডাই-ইউরেটিক, যা শরীর থেকে অতিরিক্ত জল ও ইউরিক অ্যাসিড বের করে দেয়।
নিয়ম: ট্যাবলেট/ক্যাপসুল আকারে নিতে হয়, চিকিৎসকের পরামর্শমতো।
তুলসি ও আদা
- তুলসি পাতা: শরীরকে বিশুদ্ধ করে, কিডনি ভালো রাখে।
- আদা: প্রদাহ কমায়, রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে, হজম শক্তি বাড়ায়।
নিয়ম: সকালে খালি পেটে কুসুম গরম জলে আদা-তুলসি দিয়ে তৈরি চা খেতে হবে।
খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন (Uric Acid)
- লাল মাংস, সামুদ্রিক মাছ, অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাংস (যেমন লিভার, কিডনি)
- ডালজাতীয় খাবার (মসুর, ছোলা, রাজমা) অতিরিক্ত পরিমাণে
- মদ্যপান, সফট ড্রিঙ্কস
- ভাজাভুজি ও জাঙ্ক ফুড
যেগুলি খেতে হবে:
- সবুজ শাকসবজি: লাউ, করলা, শসা, পালং
- ফল: চেরি, আপেল, আঙুর, পেঁপে
- গোটা শস্য: ব্রাউন রাইস, ওটস
- প্রচুর পানি: প্রতিদিন অন্তত ৮–১০ গ্লাস
ফ্ল্যাক্সসিড ও অশ্বগন্ধা (Uric Acid)
- ফ্ল্যাক্সসিড (তিসি): ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ, প্রদাহ ও জয়েন্ট ব্যথা কমায়।
- অশ্বগন্ধা: শরীরকে শক্তি দেয়, মানসিক চাপ কমায়, বিপাকক্রিয়া উন্নত করে।
নিয়ম:
- প্রতিদিন ১–২ চা চামচ ফ্ল্যাক্সসিড গুঁড়ো খাওয়া যায়।
- রাতে শোয়ার আগে অশ্বগন্ধা গুঁড়ো গরম দুধ বা কুসুম গরম জলের সঙ্গে খেতে হবে।
অতিরিক্ত টিপস জেনে রাখুন
- যোগব্যায়াম: ভুজঙ্গাসন, পশ্চিমোত্তানাসন, মৎস্যাসন করলে উপকার পাওয়া যায়।
- গরম পানির সেঁক: জয়েন্টের ব্যথা কমে।
- প্রাণায়াম ও মেডিটেশন: মানসিক চাপ কমায়, যা ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
- ওজন নিয়ন্ত্রণ: স্থূলতা ইউরিক অ্যাসিড বৃদ্ধির বড় কারণ।
খাদ্য তালিকার উদাহরণ
সকাল
- আদা-তুলসি চা
- ওটস বা ব্রাউন ব্রেড
- একটি ফল (আপেল/পেঁপে)
দুপুর
- ব্রাউন রাইস বা রুটি
- লাউ/শসা/করলা জাতীয় সবজি
- ডাল অল্প পরিমাণে (বেশি নয়)
- স্যালাড
বিকেল
- ফ্ল্যাক্সসিড গুঁড়ো মিশ্রিত জল বা দই
- একটি ফল (চেরি বা আঙুর ভালো)
রাত
- হালকা খাবার (সুপ বা খিচুড়ি)
- প্রচুর সবজি
- রাতে শোবার আগে ত্রিফলা গুঁড়ো বা অশ্বগন্ধা
আরও পড়ুন: Kolkata Metro Services: শুরু হলুদ ও কমলা লাইনের মেট্রো পরিষেবা, এয়ারপোর্ট পৌঁছানো এখন আরও সহজ!
ইউরিক অ্যাসিড আসলে একটি প্রাকৃতিক বর্জ্য পদার্থ। সমস্যা হয় তখনই, যখন এটি শরীরে জমে যায়। আয়ুর্বেদ অনুযায়ী সঠিক খাদ্যাভ্যাস, ভেষজ ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলে ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এতে জয়েন্ট ব্যথা কমবে, কিডনি ভালো থাকবে এবং শরীর সুস্থ থাকবে।



