Last Updated on [modified_date_only] by Ananya Dey
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : সিবিআই তদন্তে আস্থা নেই কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court)। খেজুরিতে দুই বিজেপি কর্মীর খুনের ঘটনায় রাজ্য পুলিশেই আস্থা রাখল হাইকোর্ট। এই মামলায় সিবিআই তদন্তের আবেদন খারিজ করে সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ।
সিআইডি তদন্তের নির্দেশ (Calcutta High Court)
খেজুরিতে দুই বিজেপি কর্মীর খুনের ঘটনায় রাজ্য পুলিশেই আস্থা রাখল হাইকোর্ট (Calcutta High Court)।এই মামলায় সিবিআই তদন্তের আবেদন খারিজ করে সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ।হাইকোর্টের নির্দেশ, এডিজি ও ডিআইজি, সিআইডির নজরদারিতে গঠিত হবে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট তদন্তকারী আধিকারিকদের হাতে অবিলম্বে হস্তান্তর করতে হবে। সমস্ত ভিডিওগ্রাফি ও ঘটনার যাবতীয় তথ্য ইতিমধ্যেই জমা পড়েছে আদালতে। তার ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়ে দিলেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ।
‘সিবিআই এখন গ্যালারি শো করছে’ (Calcutta High Court)
গতকাল তথা সোমবার এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়েছিলেন তিনি আর সিবিআই-এর উপর আস্থা রাখতে পারছেন না (Calcutta High Court)। ‘সিবিআই এখন গ্যালারি শো করছে’ বলে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন বিচারপতি ঘোষ। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বদলে এই মামলায় রাজ্য পুলিশের উপরেই তিনি আস্থা রাখতে চান বলে জানান। কিন্তু রায়গঞ্জ স্থগিত রেখেছিলেন। আজ অর্থাৎ মঙ্গলবার এই মামলায় সিবিআই তদন্তের আবেদন খারিজ করে রাজ্য পুলিশেই আস্থা রাখলেন বিচারপতি ঘোষ। সিআইডি-এর তত্ত্বাবধানেই খেজুরির জোড়া খুনের মামলার তদন্ত হবে বলে নির্দেশ দিলেন তিনি।
ময়নাতদন্তের প্রথম রিপোর্টে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর উল্লেখ
খেজুরির ২ বিজেপি কর্মী সুজিত দাস এবং সুধীর পাইকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টে আগেই জমা পড়েছিল ময়নাতদন্তের দ্বিতীয় রিপোর্ট। ময়নাতদন্তের প্রথম রিপোর্টে উল্লেখ ছিল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হয়ে মৃত্যু হয়েছে ২ বিজেপি কর্মীর। কিন্তু দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় যে দেহে আঘাতের কথা। রিপোর্ট দেখে রীতিমতো বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ।
খুনের অভিযোগ তোলে পরিবার
১১ জুলাই মহরম উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল খেজুরি থানার ভাঙনমারি গ্রামে। পরের দিন অর্থাৎ গত ১২ জুলাই রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় বছর তেইশের সুজিত দাস ও পঞ্চাশোর্ধ্ব সুধীরচন্দ্র পাইকের। অনুষ্ঠান স্থলের অনতিদুর থেকেই উদ্ধার হয় দু’জনের দেহ। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ দাবি করে, অনুষ্ঠান চলাকালীন অসাবধানতায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় দু’জনের। যদিও, মৃতের পরিবার খুনের অভিযোগ তোলে। নিহত সুধীরচন্দ্র পাইকের ছেলে নন্দনকুমার পাইকও তাঁর বাবাকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের প্রথম ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয়েছিল, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েই মৃত্যু হয়েছিল দুই বিজেপি কর্মীর৷ কিন্তু পরিবার তা মানতে নারাজ। তারা আবার ময়নাতদন্তের আবেদন নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। বিচারপতি ঘোষের একক বেঞ্চ ওই আবেদন খারিজ করে ময়নাতদন্ত করা চিকিৎসকের বক্তব্য রেকর্ড করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় দুই পরিবার। পরিবারের আর্জি মেনে ডিভিশন বেঞ্চ দ্বিতীয় বার ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি জানানো হয়, ওই মামলাটি শুনবে বিচারপতি ঘোষের একক বেঞ্চই।
আরও পড়ুন : WB Weather Update: শহরে রোদ ঝলমলে আকাশ, তবে কি বৃষ্টি বিদায় নিল?
দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত
দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের নির্দেশের প্রেক্ষিতে এসএসকেএম-এর ৩ জন চিকিৎসককে নিয়ে বোর্ডও গঠন করে দেওয়া হয়। গত ১৯ তারিখ হাইকোর্টে দুই বিজেপি কর্মীর দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের রিপোর্ট জমা পড়ে হাইকোর্টে৷ এসএসকেএম হাসপাতালের সেই ময়নাতদন্তের রিপোর্টে দুই বিজেপি কর্মীর দেহে আঘাতের চিহ্নের কথা উল্লেখ করা হয়৷ দুই সরকারি হাসপাতালের দুই ময়নাতদন্তের রিপোর্টে এমন ফারাকে বিস্ময় প্রকাশ করেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ৷ এরপরই মামলাকারীদের আইনজীবী সিবিআই তদন্তের আবেদন জানান হাইকোর্টে।
সিবিআই তদন্তের আবেদন খারিজ
এদিন সিবিআই তদন্তের আবেদন খারিজ করে দিলেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। গতকাল পর্যবেক্ষণে বিচারপতি ঘোষ জানান, সিট গঠন করে এই মামলার তদন্ত করবে রাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি।ডিআইজি সিআইডির নেতৃত্বে গঠিত হবে সিট। তদন্তকারী দলে থাকবেন হোমিসাইড শাখার অফিসারও। এক মাসের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে বলে জানান বিচারপতি ঘোষ। যদিও গতকাল কোনও নির্দেশ দেননি তিনি। মঙ্গলবার এই মামলায় সেই নির্দেশ দিলেন বিচারপতি ঘোষ। এদিন আদালতের নির্দেশের পর মামলাকারীর আইনজীবী বলেন, ‘আঘাতের চিহ্ন নিজেই প্রমাণ করে, এটা দুর্ঘটনা নয়। আরও গভীর তদন্ত প্রয়োজন।’


