Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা নিয়ে ভারত-আমেরিকার মধ্যে কূটনৈতিক চাপানউতোর নতুন মাত্রা পেয়েছে(India Russia Oil Trade)। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald J. Trump) প্রশাসন সম্প্রতি ভারতীয় পণ্যের উপর অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। এর মধ্যে জরিমানা-সহ নানা শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এতেও দমে যায়নি নরেন্দ্র মোদীর সরকার। রাশিয়া থেকে অশোধিত তেল আমদানির ধারায় কোনো ছেদ ঘটেনি।
ভারতের আর্থিক সাশ্রয় (India Russia Oil Trade)
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করেন(India Russia Oil Trade)। সেই থেকেই পশ্চিমি বিশ্ব রাশিয়ার বিরুদ্ধে একের পর এক আর্থিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে। কিন্তু নয়াদিল্লি সেদিকে তেমন গুরুত্ব দেয়নি। সরকারি হিসেব বলছে, গত ৩৯ মাসে রাশিয়া থেকে সস্তায় অশোধিত তেল আমদানি করে অন্তত ১২৬০ কোটি ডলার (প্রায় ১ কোটি ১১ লক্ষ টাকার বেশি) সাশ্রয় করেছে ভারত।
রাশিয়া-ভারত বাণিজ্যের বৃদ্ধি (India Russia Oil Trade)
শুধু তেল নয়, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সার্বিক বাণিজ্যের পরিমাণও বেড়েছে বহুগুণ(India Russia Oil Trade)। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে দুই দেশের বাণিজ্য ছুঁয়েছে ৬৮০০ কোটি ডলার। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে আমদানি হয়েছে প্রায় ৬৩০০ কোটি ডলারের পণ্য। সামরিক সরঞ্জাম ও অশোধিত তেল এর বড় অংশ দখল করে। অন্যদিকে ভারত রপ্তানি করেছে প্রায় ৪৯০ কোটি ডলারের পণ্য।
আমদানির গন্তব্যে বদল (India Russia Oil Trade)
আগে ভারত খনিজ তেলের জন্য সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো পশ্চিম এশিয়ার দেশের উপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধের পরে যখন রাশিয়া সস্তায় তেল বিক্রি শুরু করে, তখন ভারত সেই সুযোগ কাজে লাগায়। ফলত অল্প সময়ে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি ২ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৩৫ শতাংশে।
আরও পড়ুন : Indian Army Top 5 Operation : ভারতীয় সেনার ৫ নির্ভীক অভিযান!
লাভের অঙ্কে চোখ ধাঁধানো পার্থক্য (India Russia Oil Trade)
২০২২-২৩ অর্থবর্ষে ভারত ১৬২২ কোটি ডলারের রুশ তেল আমদানি করে(India Russia Oil Trade)। যদি অন্য দেশ থেকে এই তেল আমদানি হতো, তাহলে খরচ আরও ৪৮৭ কোটি ডলার বেশি পড়ত। ২০২৩-২৪ সালে রাশিয়ার তেলের দাম কিছুটা বাড়লেও ভারতের সাশ্রয় দাঁড়ায় ৫৪১ কোটি ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ছাড় কমে এলে সাশ্রয়ও নেমে আসে ১৪৫ কোটি ডলারে। এ বছর ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ছাড় কিছুটা বেড়ে আবার সাশ্রয় হয়েছে প্রায় ৮৪ কোটি ডলার।
শিপিং ও রিস্ক প্রিমিয়ামের বাড়তি চাপ (India Russia Oil Trade)
তবে রাশিয়ার তেল থেকে ভারতের লাভ আগের মতো নেই। আন্তর্জাতিক ব্রোকারেজ সংস্থা সিএলএসএ জানিয়েছে, রুশ তেলের দাম কমলেও বিমা, শিপিং খরচ এবং রিস্ক প্রিমিয়ামের কারণে লাভের পরিমাণ কমে গেছে। আগে যেখানে প্রতি ব্যারেলে ৮.৫ ডলার ছাড় পাওয়া যেত, এখন সেই অঙ্ক নেমে এসেছে মাত্র ৩ ডলারে। ফলে নয়াদিল্লি এখন অনেক কম সুবিধা পাচ্ছে।

আরও পড়ুন : Himalayan Glacial Lakes : আকার বাড়ছে হিমবাহ গলা ৪০০-র বেশি হ্রদের! ঝুঁকি বাড়ছে হিমালয়ে
পশ্চিমি বিশ্বের অসন্তোষ (India Russia Oil Trade)
ভারতের এই অবস্থানে খুশি নয় আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তাদের অভিযোগ, রুশ তেল কেনা অব্যাহত রেখে নয়াদিল্লি পুতিন প্রশাসনকে পরোক্ষভাবে আর্থিক জোগান দিচ্ছে। কিন্তু ভারতের যুক্তি, জাতীয় স্বার্থে জ্বালানি সুরক্ষা সর্বাগ্রে।
সব মিলিয়ে রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করার কোনো সম্ভাবনা এখনই নেই। সস্তায় তেল আমদানি করে ভারতের শোধনাগারগুলির আর্থিক লাভ হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করছে। মার্কিন শুল্ক আরোপের কারণে দুই দেশের বাণিজ্যে টানাপোড়েন বাড়লেও নয়াদিল্লি আপাতত রাশিয়ার দিকেই ঝুঁকে থাকছে।


