Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্ক নতুন করে উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়েই এবার সামনে এলো এক বড় ভূরাজনৈতিক প্রশ্ন(Pak Saudi Defence Deal)। সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে সদ্য সই হওয়া ‘স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’ অনেকটা ন্যাটোর ধাঁচে তৈরি। চুক্তির ভাষ্য স্পষ্ট: “যে কোনও দেশের উপর আক্রমণ মানে উভয়ের উপর আক্রমণ।”
কিন্তু এই চুক্তি পাকিস্তান (Shehbaz Sharif) যতটা কৌশলগত জয় হিসেবে দেখাচ্ছে, বাস্তবে সৌদি আরবের ভূ-রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের সঙ্গে তার ফারাক অনেকটাই। বিশ্লেষকদের মতে, এর লক্ষ্য ভারতের চেয়ে বরং বেশি ইজরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতাকে ঘিরেই।
পাকিস্তানের স্বপ্ন বনাম বাস্তবতা (Pak Saudi Defence Deal)
চুক্তির পর পাকিস্তানে স্বাভাবিকভাবেই উল্লাস। ইসলামাবাদ মনে করছে, এটি ভারতের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ তৈরি করবে(Pak Saudi Defence Deal)। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি আরবের পক্ষে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা প্রায় অসম্ভব।
কারণ, ভারতের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক বর্তমানে সর্বোচ্চ পর্যায়ে। দুই দেশের মধ্যে বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৪১.৮৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেখানে পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের বাণিজ্য মাত্র ৩–৪ বিলিয়ন। অর্থনৈতিক ভারসাম্যের দিক থেকেই তাই রিয়াদ নয়াদিল্লিকে ক্ষুব্ধ করতে চাইবে না।
ভারতের সতর্ক প্রতিক্রিয়া(Pak Saudi Defence Deal)
ভারত এ বিষয়ে কোনও তীব্র প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে কূটনৈতিক সতর্কতা বজায় রেখেছে(Pak Saudi Defence Deal)। নয়াদিল্লির বক্তব্য, এটি পাকিস্তান-সৌদি দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ‘ফরমালাইজেশন’ মাত্র।
একজন সৌদি কূটনীতিক স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, “এই চুক্তি বিশেষ কোনও দেশের বিরুদ্ধে নয়। ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও মজবুত এবং আমরা আঞ্চলিক শান্তিতে অবদান রাখতে চাই।”

আরও পড়ুন : Rahul Gandhi Attack BJP : বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোট কারচুপির প্রমাণ পেশ রাহুল গান্ধীর
ইজরায়েল-ফ্যাক্টর(Pak Saudi Defence Deal)
চুক্তির সময়কাল বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়, এর আসল টার্গেট ভারত নয়, ইজরায়েল(Pak Saudi Defence Deal)। কয়েক দিন আগে কাতারের রাজধানী দোহায় হামাস নেতৃত্বের উপর ইজরায়েলি হামলা আরব দুনিয়াকে নাড়িয়ে দিয়েছে। একইসঙ্গে ইরান, লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেনে ইজরায়েলের ক্রমবর্ধমান অভিযান মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা প্রশ্নে নতুন সংকট তৈরি করেছে।
এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরব পাকিস্তানের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ বার্তা দিতে চাইছে, যাতে ইসলামী ব্লকের মধ্যে সংহতি প্রদর্শন করা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, “ভারতের বিরুদ্ধে নয়, বরং ইজরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক বার্তাই মূল উদ্দেশ্য।”
পারমাণবিক ইঙ্গিত? (Pak Saudi Defence Deal)
বছরের পর বছর ধরে সৌদি আরব পাকিস্তানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে অর্থায়ন করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি রয়েছে(Pak Saudi Defence Deal)। অবসরপ্রাপ্ত পাকিস্তানি জেনারেল ফেরোজ হাসান খানের বই Eating Grass: The Making of the Pakistani Bomb-এও তার উল্লেখ পাওয়া যায়। ফলে, রিয়াদ যদি কখনও ইজরায়েলের হুমকি অনুভব করে, তবে পাকিস্তান তার পারমাণবিক ‘ছাতার’ ভূমিকায় আসতে পারে বলে ধারণা।
আরও পড়ুন : EC On Rahul Gandhi : রাহুল গান্ধীর অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলল নির্বাচন কমিশন !
ইয়েমেন ও হুথি সমস্যা(Pak Saudi Defence Deal)
অন্যদিকে, চুক্তির ফলে পাকিস্তানকেও সৌদি আরবের আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে হতে পারে(Pak Saudi Defence Deal)। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা নিয়মিত সৌদি ভূখণ্ডে মিসাইল হামলা চালায়। এমন পরিস্থিতিতে “একটির উপর আক্রমণ মানে উভয়ের উপর আক্রমণ” শর্ত অনুযায়ী পাকিস্তানকে রিয়াদকে সামরিক সহায়তা দিতে হতে পারে।
অতীতে, ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেন অভিযানে পাকিস্তান সেনা পাঠাতে অস্বীকার করেছিল। তখন থেকেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে শীতলতা আসে। নতুন চুক্তি সেই সম্পর্ক মেরামতের প্রতীক।
সৌদি–পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তি আপাতদৃষ্টিতে পাকিস্তানের জন্য বড় কূটনৈতিক জয় মনে হলেও বাস্তব ছবিতে তা ভিন্ন। ভারতের বিরুদ্ধে সৌদি আরব কখনও সরাসরি যুদ্ধে যাবে, সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। বরং এই চুক্তি পাকিস্তানকে সৌদি আরবের মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংঘাতে টেনে নিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।


