Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : এয়ার ইন্ডিয়া বিমান দুর্ঘটনা তদন্তে পাইলটদের দোষারোপ করা একেবারেই দায়িত্বজ্ঞানহীন পদক্ষেপ— এমনই কড়া মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট (Air India 171 Crash)। সোমবার আদালত জানায়, “আগামীকাল যদি কেউ বলে দেন, পাইলট A বা পাইলট B-র ভুলে দুর্ঘটনা ঘটেছে, তবে তাঁদের পরিবারকে ভুগতে হবে। কিন্তু যদি চূড়ান্ত রিপোর্টে দেখা যায়, তাঁদের কোনো দোষই নেই, তখন কী হবে?” আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত গোপনীয়তা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
প্রাথমিক রিপোর্ট ফাঁস ও বিতর্ক (Air India 171 Crash)
এদিন আদালতে ‘সেফটি ম্যাটার্স ফাউন্ডেশন’-এর তরফে আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ জানান, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি পত্রিকা দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রাথমিক রিপোর্ট সরকারকে দেওয়ার আগেই দুর্ঘটনা নিয়ে খবর প্রকাশ করে(Air India 171 Crash)। পরে সরকার সেই রিপোর্ট প্রকাশ করলে ব্যাপকভাবে বলা হতে থাকে যে দুর্ঘটনা পাইলট ত্রুটির কারণে হয়েছে। ভূষণ অভিযোগ করেন, এমনকি সংবাদে দাবি করা হয়, পাইলট আত্মঘাতী মানসিকতায় জ্বালানি সুইচ বন্ধ করে দেন।
এই অভিযোগে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিচারপতি সুর্যকান্ত বলেন, “এমন সংবাদ প্রকাশ অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন। এতে মৃত পাইলটদের সম্মান ও তাঁদের পরিবারের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়।”
আদালতের পর্যবেক্ষণ, গুজব ছড়ানো যাবে না(Air India 171 Crash)
আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করে জানায়, এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রতিদ্বন্দ্বী বিমান সংস্থা কিংবা বিমান নির্মাতা কোম্পানি (যেমন এয়ারবাস বা বোয়িং) সুবিধা নিতে পারে(Air India 171 Crash)। কিন্তু কারও অনুমতি দেওয়া যাবে না গুজব ছড়ানো বা তথ্য বিকৃত করার জন্য। আদালত এও বলে, “কেউ হয়তো বলবে এয়ারলাইন স্টাফদের দোষ ছিল, আবার কেউ নির্মাতা সংস্থাকে দায়ী করবে। কিন্তু তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারও ওপর দায় চাপানো যাবে না।”

আরও পড়ুন : CM Inaugurated Durga Puja : হাতিবাগান থেকে শ্রীভূমি! বৃষ্টির মধ্যেই শারদোৎসবের সূচনা মুখ্যমন্ত্রীর
এনজিওর অভিযোগ, তথ্য গোপন
এনজিওটির তরফে পেশ করা পিআইএল-এ দাবি করা হয়েছে, বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো ১২ জুলাই যে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেয়, তাতে বলা হয় ফুয়েল কাট-অফ সুইচ ভুলবশত “রান” থেকে “কাট-অফ”-এ চলে যাওয়াতেই দুর্ঘটনা ঘটে। অর্থাৎ পাইলট ত্রুটি দায়ী(Air India 171 Crash)।
কিন্তু ওই রিপোর্টে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। যেমন— সম্পূর্ণ ডিজিটাল ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার (DFDR) আউটপুট, সম্পূর্ণ ককপিট ভয়েস রেকর্ডার (CVR) ট্রান্সক্রিপ্ট টাইমস্ট্যাম্প-সহ, এবং ইলেকট্রনিক এয়ারক্রাফট ফল্ট রেকর্ডিং (EAFR) ডেটা। এগুলি ছাড়া দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব নয় বলে দাবি পিটিশনকারীর।
আরও পড়ুন : IND vs PAK Asia Cup : গিল-অভিষেক তাণ্ডবে ফের পাক বধ ভারতের। জয়েও চিন্তা বাড়ালো ফিল্ডিং
আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ
সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India)এ ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে ডিজিসিএ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রককে নোটিশ জারি করেছে(Air India 171 Crash)। আদালতের মতে, ন্যায়সঙ্গত ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা জরুরি হলেও, এখনই সব তথ্য প্রকাশ করলে তদন্ত ব্যাহত হতে পারে।
এয়ার ইন্ডিয়া বিমান দুর্ঘটনা তদন্তকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন প্রাথমিক রিপোর্টের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে নিহত পাইলটদের সম্মান রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের বক্তব্যে স্পষ্ট— গুজব ছড়িয়ে বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে কারও ওপর দায় চাপানো যাবে না। এখন নজর তদন্ত সংস্থা ও সরকারের পদক্ষেপের দিকে।


