Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: পুজোর মুখে এমন প্রবল বর্ষণে (Train Stopped Due To Rain) যেন থমকে গেল গোটা কলকাতা ও আশেপাশের শহরতলি। একটানা বৃষ্টিতে রাতারাতি জলমগ্ন শহর। কলকাতা পুরসভার তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ ঘণ্টায় যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, তা সাম্প্রতিক সময়ে নজিরবিহীন।
একাধিক এলাকা কার্যত জলবন্দি (Train Stopped Due To Rain)
সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে গড়িয়ার কামডহরিতে-মোট ৩৩২ মিলিমিটার (Train Stopped Due To Rain)। তার পরেই রয়েছে যোধপুর পার্ক (২৮৫ মিমি), কালীঘাট (২৮০ মিমি) ও তপসিয়া (২৭৫ মিমি)। ভোর রাত থেকে বৃষ্টি শুরু হয়ে ক্রমশ তীব্র আকার ধারণ করে, যার ফলে শহরের একাধিক এলাকা কার্যত জলবন্দি। বহু জায়গায় হাঁটু থেকে কোমরসমান জল জমে গেছে। কিছু কিছু বাড়ির একতলায় ঢুকে পড়েছে জল।
মণ্ডপ নির্মাণে বড়সড় সমস্যা (Train Stopped Due To Rain)
এই বৃষ্টিতে ভেঙে পড়েছে পুজোর প্রস্তুতির সাজানো মঞ্চ (Train Stopped Due To Rain)। বহু জায়গায় স্টলের কাঠামো ভেঙে পড়েছে, কোথাও আবার হোর্ডিংয়ের গেট উপড়ে পড়েছে রাস্তায়। এর ফলে দুর্গাপুজোর ঠিক আগে মণ্ডপ নির্মাণে বড়সড় সমস্যা তৈরি হয়েছে।
রেল পরিষেবার অবস্থাও খুবই শোচনীয়
রেল পরিষেবার অবস্থাও খুবই শোচনীয়। শিয়ালদা দক্ষিণ শাখায় একটিও ট্রেন চালানো সম্ভব হয়নি এই বৃষ্টির কারণে। শিয়ালদা মেন ও বনগাঁ শাখায় ট্রেন চললেও তা শুরু হয় নির্ধারিত সময়ের অনেক পর। বাতিল হয়ে গিয়েছে কলকাতা-হলদিবাড়ি এক্সপ্রেস, শিয়ালদা-হাজারদুয়ারি ও শিয়ালদা-জঙ্গিপুর এক্সপ্রেস। প্রায় ৩ থেকে ৪টি এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সীমাও পরিবর্তন করা হয়েছে।
হাওড়া-ব্যান্ডেল শাখায় ট্রেন চলাচলে সমস্যা
পূর্ব রেলের হাওড়া-ব্যান্ডেল শাখায় ট্রেন চলাচলে সমস্যা দেখা দিয়েছে। টিকিয়াপাড়া কারশেডে জল জমে যাওয়ায় ট্রেন স্টেশনে ঢুকতে দেরি হচ্ছে। সিগন্যালিং সিস্টেমেও বিঘ্ন দেখা দিয়েছে, যার ফলে অফিস টাইমে ব্যাপক ভিড় ও ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মেট্রো পরিষেবা বন্ধ
মেট্রো রেল পরিষেবাও স্বাভাবিক রাখতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। দক্ষিণেশ্বর থেকে ময়দান পর্যন্ত আপ ও ডাউন ট্রেন চালু থাকলেও, ময়দান থেকে বাকি অংশে জল জমে যাওয়ায় পরিষেবা বন্ধ রাখতে হয়েছে।
আরও পড়ুন: Kolkata Metro Rail: শেষ মেট্রো বন্ধ, তবু কাটছে বাড়তি ১০ টাকা! নির্বিকার কর্তৃপক্ষ?
এদিকে, ভোর চারটের সময় গঙ্গার সব লকগেট খুলে দেওয়া হলেও, দুপুর ১২টার সময় তা আবার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যেই যদি ফের ভারী বৃষ্টি হয়, তবে শহরের জলযন্ত্রণা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, পুজোর আনন্দের আগে প্রকৃতির এই রুদ্ররূপে অস্বস্তিতে গোটা শহর।


