Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: অষ্টমীর রাতে যখন চারিদিকে পুজোর উচ্ছ্বাস, ঢাকের শব্দ আর মণ্ডপ ভ্রমণের আনন্দে মেতে উঠেছিলেন মানুষজন, ঠিক তখনই রক্তাক্ত ঘটনার সাক্ষী থাকল হাওড়া (Death in Howrah)। সূত্রের খবর, বন বিহারি বোস রোডে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে এক যুবকের। নিহতের নাম শঙ্কর যাদব, বয়স আনুমানিক ৩৫। তিনি মূলত বিহারের পাটনা জেলার বাসিন্দা। পুজোর ছুটিতে আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতে হাওড়া এসেছিলেন।

হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি (Death in Howrah)
রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা অনেক চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারেননি। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান (Death in Howrah)
পুলিশ সূত্রে খবর, নিহত যুবকের বিহারেই শত্রু ছিল। সেই শত্রুতার জেরেই এই পরিকল্পিত খুন বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। পুলিশের ধারণা, তাঁর হাওড়ায় আসার খবর আগেই পেয়ে গিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। তারপরই খুনের ছক কষা হয়। গুলি চালনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন হাওড়া সিটি পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। খুনের পেছনে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুজো মণ্ডপে মর্মান্তিক মৃত্যু (Death in Howrah)
অন্যদিকে অষ্টমীর রাতেই আরেকটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ কলকাতার বেহালায়। নূতন দলের পুজো মণ্ডপ থেকে প্রতিমা দর্শন সেরে বেরোনোর সময় অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন এক মহিলা। মৃতার নাম সঙ্গীতা রানা, তিনি হরিদেবপুরের বাসিন্দা।
অসুস্থ হয়ে পড়েন এক্সিট গেটের সামনে (Death in Howrah)
চোখে-মুখে পুজোর আনন্দ নিয়েই সঙ্গীতা রানা প্রতিমা দর্শন করছিলেন। কিন্তু বেরোনোর সময় হঠাৎই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এক্সিট গেটের সামনে। সঙ্গে সঙ্গে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা তাঁকে সিপিআর দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার চেষ্টা করেন।
হাসপাতালে নিয়ে গেলেও বাঁচানো যায়নি (Death in Howrah)
অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকায় তাঁকে দ্রুত বিদ্যাসাগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি হাঁপানির রোগী ছিলেন। হঠাৎ ভিড়ের মধ্যে বচসা ও শ্বাসকষ্ট মিলিয়েই অবস্থার অবনতি ঘটে।
পরিবারের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে
তবে মৃতার পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের দাবি, বারবার অক্সিজেন সাপোর্ট চাইলে তা দেওয়া হয়নি। ঘটনাস্থলে যে অ্যাম্বুল্যান্স আনা হয়েছিল, তাতেও অক্সিজেনের ব্যবস্থা ছিল না। পরিবারের মতে, যথাযথ চিকিৎসা হলে হয়তো বাঁচানো যেত সঙ্গীতাকে।
আরও পড়ুন: Kanakdurga Jhargram: চারশো বছরেরও পুরনো কনকদুর্গা মন্দির কেন এত রহস্যঘেরা?
উৎসবের মাঝেই আতঙ্ক ও শোক
অষ্টমীর রাত দু’টি মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী থাকল। একদিকে পরিকল্পিত গুলি চালনায় মৃত্যু এক যুবকের, অন্যদিকে মণ্ডপ থেকে বেরিয়েই প্রাণ হারালেন এক মহিলা। পুজোর আনন্দের আবহে এ ধরনের ঘটনা নিঃসন্দেহে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ও শোকের ছায়া ফেলেছে।



