Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: জলপাইগুড়ি জেলার প্রাক্তন বনমন্ত্রী এবং বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা বনমালি রায় আর নেই (Jalpaiguri)। বুধবার (নবমীর সকাল) ধূপগুড়ির নিজের বাড়িতেই তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বার্ধক্যজনিত নানান সমস্যায় ভুগছিলেন। গত কয়েকদিনে অসুস্থতা আরও বাড়ায় বাড়িতেই তাঁর চিকিৎসা চলছিল। শেষমেশ বুধবার ভোরের আবছা আলোয় নিভে যায় তাঁর জীবনের প্রদীপ।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন (Jalpaiguri)
বনমালি রায় ছিলেন বাম রাজনীতির এক পরিচিত মুখ। সিপিএমের প্রার্থী হিসেবে ধূপগুড়ি কেন্দ্র থেকে তিনি একটানা পাঁচবার নির্বাচিত হয়ে বিধায়ক পদ অলংকৃত করেন। শুধু তাই নয়, জেলা পরিষদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি সভাধিপতির আসনও অলঙ্কৃত করেছিলেন।
মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতা (Jalpaiguri)
- ১৯৮২ সালে তিনি তপসিলি ও আদিবাসী কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
- ১৯৯২ সালে তিনি রাজ্যের বন দপ্তরের মন্ত্রী হন। এই সময়ে তিনি বনাঞ্চলের উন্নয়ন, পরিবেশ রক্ষা এবং বনবাসীদের জীবনমান উন্নয়নের নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।

দলের প্রতি নিষ্ঠা (Jalpaiguri)
মন্ত্রীত্ব ছাড়াও তিনি দলের সংগঠনিক দায়িত্ব সামলেছেন নিষ্ঠার সঙ্গে। সিপিএমের জোনাল সম্পাদক থেকে শুরু করে রাজ্য কমিটির বিভিন্ন স্তরে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সর্বদা শ্রমজীবী মানুষ ও প্রান্তিক সমাজের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
মৃত্যুতে শোকের ছায়া (Jalpaiguri)
বর্ষীয়ান এই নেতার মৃত্যুতে জলপাইগুড়ি তথা উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। ধূপগুড়ি শহরের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সিপিএম কর্মী–সমর্থকরা এদিন তাঁর বাড়িতে ভিড় জমান শেষ শ্রদ্ধা জানাতে।
শেষ শ্রদ্ধা (Jalpaiguri)
- সলিল আচার্য (সিপিএম রাজ্য কমিটির সদস্য)
- পীযুষ মিশ্র (জলপাইগুড়ি জেলার সম্পাদক)
- প্রাক্তন বিধায়ক মমতা রায়
- জিয়ায়ুল আলম (রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য)
তাঁদের পাশাপাশি আরও অনেক স্থানীয় নেতা কর্মী ও সাধারণ মানুষ শোক প্রকাশ করে জানান, ধূপগুড়ি তথা জলপাইগুড়ির রাজনৈতিক ইতিহাসে বনমালি রায়ের অবদান কোনোদিন ভোলার নয়।
সামাজিক সংগঠনের শ্রদ্ধাঞ্জলি
শুধু দল নয়, ধূপগুড়ির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানায়। নবজীবন সংঘ এবং এসটিএস ক্লাব-এর পক্ষ থেকেও এই বর্ষীয়ান নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়।
আরও পড়ুন: Kanakdurga Jhargram: চারশো বছরেরও পুরনো কনকদুর্গা মন্দির কেন এত রহস্যঘেরা?
এক যুগের অবসান
বনমালি রায়ের প্রয়াণে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে এক যুগের অবসান ঘটল। তিনি শুধু রাজনৈতিক নেতা নন, ছিলেন সাধারণ মানুষের আপনজন। তাঁর সহজ–সরল ব্যবহার, দায়িত্বশীলতা এবং মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতা তাঁকে মানুষের মনে অমর করে রাখবে।



