Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মাত্র এক রাতের টানা বৃষ্টিতেই বিপর্যস্ত (Darjeeling Landslide) হয়ে পড়েছে দার্জিলিং ও সংলগ্ন উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা। শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া অতি ভারী বর্ষণে একাধিক এলাকায় ধস নেমেছে, নদীর জল উঠে এসেছে রাস্তায়, ভেঙে পড়েছে সেতু। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৃতের সংখ্যা অন্তত ১৩ বলে জানানো হয়েছে, এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে সেই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
লোহার সেতু বৃষ্টির জলে ভেঙে পড়েছে (Darjeeling Landslide)
সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে মিরিক অঞ্চলে (Darjeeling Landslide)। মিরিক-দুধিয়া রোডের মাঝামাঝি একটি লোহার সেতু বৃষ্টির জলে ভেঙে পড়েছে, যাতে ঘটনাস্থলেই বহু মানুষ হতাহত হন। মিরিকে একসঙ্গে পাঁচটি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে, আরও দুইটি আগে উদ্ধার হয়েছিল। সুখিয়াতেও মারা গিয়েছেন চারজন। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজে সমস্যা হচ্ছে। রোহিণী ও দিলারামের রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার তৎপরতা বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে।

কালিম্পং ও সিকিমের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন (Darjeeling Landslide)
শুধু দার্জিলিং শহর নয়, মিরিক, কালিম্পং ও সিকিমের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে (Darjeeling Landslide) পড়েছে। তিস্তা নদীর জল বেড়ে উঠে এসেছে জাতীয় সড়কে, বিশেষত ২৯ মাইল ভালুখোলার কাছের ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক সম্পূর্ণ ডুবে গেছে। এমন অবস্থায় শিলিগুড়ি থেকেও দার্জিলিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন।
ভারী বৃষ্টির সতর্কতা
আবহাওয়া দফতর আগেই দার্জিলিং ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছিল, যা বাস্তবে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। জিটিএ-র তরফে একটি নির্দেশিকা জারি করে পর্যটকদের জন্য টাইগার হিল ও রক গার্ডেন আপাতত বন্ধ রাখার ঘোষণা করা হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপদ স্থানে থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: Horoscope Update: আজ কার ভাগ্যে লাভ, কার জীবনে বাধা? দেখে নিন রাশিফল…
বন্যা এবং ধস শুধু মানুষের জীবনই বিপর্যস্ত করেনি, জঙ্গলের পশুরাও দিশাহারা হয়ে পড়েছে। বেশ কয়েকটি বন্যপ্রাণী জনবসতিতে চলে এসেছে, যার মধ্যে দুইটি হরিণ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই দুর্যোগের ফলে দার্জিলিং ও আশেপাশের অঞ্চলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা একেবারে থমকে গিয়েছে। পর্যটকরা হোটেলে আটকে পড়েছেন, স্থানীয় বাসিন্দারাও বিপাকে। প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ চালাচ্ছে, তবে আবহাওয়া ভালো না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে না বলেই আশঙ্কা।


