Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল : আমেরিকার সেনাবাহিনীতে নতুন সাজসজ্জা নীতির জেরে তীব্র বিতর্ক। নতুন নির্দেশে দাড়ি ও লম্বা চুল (US Military Ban on Beard) রাখায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ধর্মীয় ছাড় বা ‘রিলিজিয়াস ওয়েভার’ তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে শিখ, মুসলিম ও অর্থোডক্স ইহুদি সেনা সদস্যদের এখন ধর্মীয় বিশ্বাস ও সেনা পরিষেবার মধ্যে একটিকে বেছে নিতে হবে—এই বাধ্যবাধকতাকেই অগণতান্ত্রিক ও বৈষম্যমূলক বলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
বিতর্ক আরও গভীর হয়েছে যখন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ (Pete Hegseth) মন্তব্য করেন, “আমাদের বাহিনীতে ‘বিয়ার্ডোস অ্যান্ড ফ্যাট জেনারেলস’ (দাড়িওলা ও মোটা জেনারেলদের) জন্য কোনও জায়গা নেই।” তাঁর এই মন্তব্যকেই ধর্মীয় সংখ্যালঘু সেনাদের অপমান বলে মনে করেছেন শিখ সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতারা।
SGPC-র কড়া প্রতিক্রিয়া (US Military Ban on Beard)
শিরোমণি গুরদোয়ারা প্রবন্ধক কমিটি (SGPC) এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে(US Military Ban on Beard) । সংস্থার মুখপাত্র গুরচরণ গ্রেওয়াল বলেন, “এটা প্রথম নয়, এর আগেও মার্কিন মাটিতে শিখ ও পঞ্জাবিদের অপমান করা হয়েছে। আমরা দেখেছি কীভাবে বিমানবন্দরে পাগড়ি খুলিয়ে দেওয়া হয়েছে, এমনকি বৃদ্ধা হরজিত কৌর বা ট্রাকচালকদের হাতকড়া পরানো হয়েছে। এটা লজ্জাজনক ও অগণতান্ত্রিক।” তিনি জানান, SGPC মার্কিন গুরদোয়ারা ও সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য সংগ্রহ করছে ও প্রতিবাদ জানাবে।
শিখ ধর্মে ‘পাঁচ ক’ বা পাঁচ ককার—কেশ, কঙ্গা, কচ্ছেরা, কিরপান ও কারা—ধর্মীয় বিশ্বাসের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। তাই দাড়ি কাটা বা চুল ছাঁটার নির্দেশকে শিখরা ধর্মবিরোধী ও গভীরভাবে আঘাতজনক বলে মনে করছেন(US Military Ban on Beard)।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও সর্বদলীয় নিন্দা (US Military Ban on Beard)
ভাতিন্ডার সাংসদ হরসিমরত কৌর বাদল বলেন, “শিখরা মার্কিন সেনাবাহিনীতে তাদের ধর্মীয় পরিচয় বজায় রেখেই গৌরবের সঙ্গে কাজ করেছেন(US Military Ban on Beard) । এই নীতি অবিচারপূর্ণ ও বৈষম্যমূলক। তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।”
বিজেপি পাঞ্জাবের সহ-সভাপতি ফতেহজঙ্গ সিং বজওয়া মন্তব্য করেন, “এটি ধর্মীয় স্বাধীনতার মূল নীতির উপর আঘাত। বিশ্বের বিভিন্ন বাহিনীতে শিখরা সাহস ও ত্যাগের উজ্জ্বল উদাহরণ স্থাপন করেছেন। সেনার শক্তি ঐক্যে, চেহারার একরূপতায় নয়।”
কংগ্রেস বিধায়ক রানা গুরজিৎ সিং বলেন, “একজন প্রকৃত শিখ চাকরি ছাড়তে পারেন, কিন্তু কখনও দাড়ি ও পাগড়ি ত্যাগ করবেন না। এই দুই তাঁর বিশ্বাসের প্রতীক(US Military Ban on Beard)।”

আরও পড়ুন : CJI BR Gavai : সুপ্রিম কোর্টে জুতো ছুঁড়ে বিতর্কে রাকেশ কিশোর! কেন এমন কান্ড ঘটালেন ?
আপ সাংসদ মলবিন্দর সিং কাং বলেন, “মার্কিন সরকারের এই সিদ্ধান্ত শিখ ইতিহাস ও ধর্মীয় পরিচয়ের উপর সরাসরি আঘাত। ভারত সরকারের উচিত অবিলম্বে আমেরিকার সঙ্গে কূটনৈতিক পর্যায়ে কথা বলে এই নির্দেশ প্রত্যাহারের দাবি জানানো।”
আরও পড়ুন : Bihar Assembly Election : কোনও ছোট ভাই-বড় ভাই নয়! বিহার বিধানসভায় সমান আসনে লড়বে বিজেপি ও জেডিইউ
ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নে বিতর্ক তীব্র(US Military Ban on Beard)
এই সিদ্ধান্তকে মার্কিন সেনাবাহিনীতে ধর্মীয় স্বাধীনতার অবমাননা হিসেবে দেখা হচ্ছে(US Military Ban on Beard) । পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি শুধু শিখ সম্প্রদায় নয়, বরং বিশ্বব্যাপী ধর্মীয় বৈচিত্র্য ও সহাবস্থানের ধারণাকেই আঘাত করেছে।
একই সঙ্গে ভারতের নানা রাজনৈতিক দলের নেতা এবং শিখ সংগঠনগুলি একজোট হয়ে আমেরিকার এই নতুন নীতিকে “বৈষম্যমূলক, অগণতান্ত্রিক এবং মানবাধিকারের পরিপন্থী” বলে আখ্যা দিয়েছেন(US Military Ban on Beard)।
“ধর্মের স্বাধীনতা রক্ষা করা সভ্য সমাজের মৌলিক দায়িত্ব। আমেরিকা যেভাবে তা খর্ব করছে, তা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত তৈরি করছে,” — এমনই মত বিশেষজ্ঞ মহলের।


