Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: উত্তরে দক্ষিণেশ্বর, দক্ষিণে বহুলা বা বেহালা, আর মাঝখানে ধনুকের মতো বাঁকা অঞ্চল জুড়ে গড়ে উঠেছে কলকাতা শহর (Kalighat)। এই অঞ্চলটিকেই বলা হয় কালীক্ষেত্র। ‘পীঠনির্ণয় তন্ত্র’ অনুসারে, কালীক্ষেত্রের মাহাত্ম্য বারাণসী বা কাশীর সমতুল্য। এই কালীক্ষেত্রের অভিভাবিকা স্বয়ং মা দক্ষিণাকালী, যিনি বিরাজ করছেন কালীঘাটে। তিনি সতীর একান্ন পীঠের অন্যতম, তাই তাঁর মাহাত্ম্য অপরিসীম।
কালীক্ষেত্রের মহিমা কেন অনন্য (Kalighat)
প্রাচীন বিশ্বাসে বলা হয়, বেহালা থেকে দুই যোজনব্যাপী কালীক্ষেত্রের তিন কোণে বিরাজমান আছেন ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর। তাঁদের মাঝখানেই অবস্থান মহাকালীর। এই অঞ্চলে আরও আট দেবী ভৈরবী, বগলা, বিদ্যা, মাতঙ্গী, কমলা, ব্রাহ্মী, মহেশ্বরী ও চণ্ডী সর্বদা বিরাজ করেন বলে ধরা হয়। ফলে কালীক্ষেত্র শুধু এক পীঠ নয়, বরং এক দিব্যশক্তির সংযোগক্ষেত্র, এক মহাপুণ্যভূমি। মন্দিরের উপরে থাকা তিনটি কলস, একটি ত্রিশূল ও একটি ত্রিকোণা ধাতব পতাকায় লেখা ‘ॐ’ চিহ্ন এই ত্রিত্বের প্রতীক। মন্দির নির্মাণে লেগেছিল দীর্ঘ আট বছর, ব্যয় হয়েছিল ত্রিশ হাজার টাকা, যা সে সময়ের জন্য বিশাল অর্থরাশি।
কেন কালীঘাট সতীপীঠ (Kalighat)
দক্ষযজ্ঞের পবিত্র কিন্তু শোকাবহ কাহিনির সঙ্গে যুক্ত কালীঘাট। দক্ষ প্রজাপতির যজ্ঞে আমন্ত্রিত না হয়েও সতী গিয়েছিলেন, আর স্বামীর অপমান সহ্য করতে না পেরে যোগবলে দেহত্যাগ করেন। ক্রুদ্ধ শিব সমগ্র বিশ্ব ধ্বংস করতে উদ্যত হন। তখন বিষ্ণু সুদর্শন চক্রের দ্বারা সতীর দেহকে একান্ন টুকরো করেন, যাতে শিবের ক্রোধ প্রশমিত হয়। এই একান্ন স্থানই হল একান্ন পীঠ।
কথিত আছে, কালীঘাটে সতীর ডান পায়ের আঙুল পড়েছিল। তাই এই স্থানই হয়ে ওঠে কালীঘাট সতীপীঠ এক অদ্বিতীয় শক্তিক্ষেত্র।
আত্মারাম ব্রহ্মচারী ও মায়ের আবির্ভাবকথা (Kalighat)
কালীঘাট মন্দিরের উত্পত্তি ঘিরে নানা কিংবদন্তি প্রচলিত আছে। তন্মধ্যে অন্যতম কাহিনি আত্মারাম ব্রহ্মচারী নামের এক মাতৃসাধককে ঘিরে। তিনি একরাতে দেবীর দৈববাণী শুনতে পান, যে স্থানে তিনি তপস্যা করছেন, সেটিই প্রাচীন ব্রহ্মবেদী, যেখানে একসময় ব্রহ্মা তপস্যা করেছিলেন। দেবী তাঁকে নির্দেশ দেন, নীলগিরি পর্বতের ব্রহ্মানন্দ গিরি নামে এক সাধকের কাছে থাকা শিলাস্তম্ভটি এনে সেই ব্রহ্মবেদীতে স্থাপন করতে।
আত্মারাম সেই নির্দেশ মেনে ওই শিলাখণ্ডকে (যার দৈর্ঘ্য প্রায় ১২ হাত) আদিগঙ্গার তীরে এনে স্থাপন করেন। বিশ্বাস করা হয়, সেই সময় স্বয়ং বিশ্বকর্মা এসে শিলাটিকে মাতৃমূর্তিতে রূপ দেন। ত্রিনয়না চতুর্ভূজা মা, উর্ধ্ব বাম হাতে খড়গ, নিম্ন বাম হাতে নরমুণ্ড, উর্ধ্ব ডান হাতে বরমুদ্রা, নিম্ন ডান হাতে অভয়মুদ্রা।
পরবর্তীতে আত্মারামই দৈব সংকেতে কালীয় কুণ্ডে সতীর প্রস্তরীভূত ডান পায়ের চার আঙুল আবিষ্কার করেন।
সেগুলিই আজও বেদীর নীচে সংরক্ষিত। প্রতি বছর স্নানযাত্রা দিনে মন্দির বন্ধ থাকে, বয়োজ্যেষ্ঠ সেবায়েতরা চোখে কাপড় বেঁধে সতীর চরণাংশ স্নান ও পূজার মাধ্যমে দেবীকে শ্রদ্ধা জানান।
কালীঘাটে ভক্তসমাগম ও প্রধান উৎসব (Kalighat)
সারা বছরই কালীঘাট মন্দিরে দর্শনার্থীদের ভিড় থাকে, তবে বিশেষ দিনে সেই ভিড় হয়ে ওঠে অগণন।
বিশেষ ভিড়ের দিনসমূহ (Kalighat)
- শনিবার ও মঙ্গলবার: মায়ের পূজার সর্বাধিক দিন।
- পয়লা বৈশাখ ও অক্ষয় তৃতীয়া: হালখাতার পুজো ও নতুন বছরের আরাধনা।
- বিপত্তারিণী পুজো: বিপদ থেকে রক্ষার প্রার্থনায় নারীদের অন্যতম প্রধান উৎসব।
আরও পড়ুন: Kali Puja: কালীপুজোর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত কুমোরটুলি, টানা বৃষ্টিতে চিন্তায় মৃৎশিল্পীরা
মূল আটটি পুজো
১. রক্ষাকালী পুজো
২. স্নানযাত্রা
৩. জন্মাষ্টমী
৪. মনসাপুজো
৫. চড়ক
৬. গাজন
৭. রামনবমী
৮. দীপাবলী বা কালীপুজো



