Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট পদে বসেই অভিবাসন নীতিতে বড়সড় পরিবর্তন এনেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তাঁর এই সিদ্ধান্তে গোটা আমেরিকাজুড়েই শুরু হয়েছে ধরপাকড়, নেমেছে আতঙ্কের ছায়া। বিশেষ করে বিদেশি কর্মী ও ছাত্রছাত্রীদের জন্য নতুন নিয়ম তৈরি করছে এক অভূতপূর্ব অনিশ্চয়তা।
H-1B ভিসা নীতিতে বড় রদবদল (Donald Trump)
আমেরিকার প্রযুক্তি শিল্পে কাজ করা বহু ভারতীয়ের অন্যতম ভরসা ছিল H-1B ভিসা। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন সেই নীতিতেও এনেছে আমূল পরিবর্তন। এবার ভিসা প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা হচ্ছে, এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দেশে না-ফেরা বিদেশিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, অনেক বিদেশি নাগরিক ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার পরেও অবৈধভাবে আমেরিকায় থেকে যাচ্ছেন এই কারণেই প্রশাসন আরও কড়া নজরদারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিমানবন্দরে বায়োমেট্রিক বাধ্যতামূলক (Donald Trump)
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ২৬ ডিসেম্বর থেকে আমেরিকার যে কোনও বিমানবন্দরে নামার সঙ্গে সঙ্গেই বিদেশি যাত্রীদের ছবি তোলা হবে এবং বায়োমেট্রিক তথ্য নেওয়া হবে। এখানেই শেষ নয় এই প্রক্রিয়া এখন থেকে সমুদ্রবন্দর, স্থলপথ এবং অন্যান্য সীমান্ত পয়েন্ট এও চালু হবে। আগে ১৪ বছরের কম বয়সি শিশু এবং ৭৯ বছরের বেশি বয়সি প্রবীণদের এই নিয়ম থেকে ছাড় দেওয়া হতো, কিন্তু এবার সেই ছাড়ও তুলে নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, সব বয়সের যাত্রীই এখন থেকে বায়োমেট্রিকের আওতায় আসবেন।
গ্রিন কার্ড হোল্ডাররাও ছাড় পাবেন না (Donald Trump)
এবার নতুন নিয়মে গ্রিন কার্ড হোল্ডাররাও বাদ যাবেন না। অর্থাৎ, আমেরিকার স্থায়ী বাসিন্দারাও প্রবেশ বা প্রস্থানের সময়ে তাঁদের ছবি ও আঙুলের ছাপ দিতে বাধ্য থাকবেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে সাহায্য করবে এবং অবৈধ প্রবেশ বা পাসপোর্ট জালিয়াতি প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা নেবে।

রিয়েল-টাইম ডেটা মিলিয়ে নজরদারি (Donald Trump)
ট্রাম্প প্রশাসন এখন প্রতিটি বিদেশি যাত্রীর জন্য আলাদা ডেটাবেস তৈরি করছে। সেখানে থাকবে পাসপোর্ট, ভ্রমণের তথ্য, ছবি এবং অন্যান্য বায়োমেট্রিক ডেটা। যখন কেউ আমেরিকায় প্রবেশ করবেন, তখন রিয়েল টাইম ক্যামেরা ছবি এবং ডেটাবেসে থাকা ছবির মধ্যে মিলিয়ে দেখা হবে। এর ফলে ভিসার মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া বা জাল পরিচয়ে প্রবেশের ঘটনা কমবে বলে দাবি প্রশাসনের।
অবৈধ অভিবাসী চিহ্নিত করার উদ্যোগ (Donald Trump)
২০২৩ সালের কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের রিপোর্ট অনুযায়ী, আমেরিকায় বর্তমানে প্রায় ১.১ কোটি অবৈধ অভিবাসী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৪২ শতাংশ ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও দেশে ফেরেননি। এখন তাঁদের শনাক্ত করাই ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে দেশটির অভিবাসন ব্যবস্থায় নজিরবিহীন কড়াকড়ি শুরু হয়েছে।

উত্তাল আমেরিকার বিভিন্ন শহর (Donald Trump)
ট্রাম্পের এই কড়া নীতির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই নিউ ইয়র্ক, শিকাগো, ওয়াশিংটনসহ একাধিক শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। অভিবাসীদের অভিযোগ, কোনও অভিযোগ ছাড়াই তাঁদের আটক করা হচ্ছে এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন ঘটছে।
আরও পড়ুন: Cyclone Mantha Update: তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘মান্থা! অন্ধ্রের ঝড়ে কি কাঁপবে উত্তরবঙ্গও?
ক্ষতি ৬৪০০ কোটি ডলার!
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই অভিবাসন নীতি আমেরিকার পর্যটন শিল্পেও বড় প্রভাব ফেলেছে। বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটকদের আগমন কমে গেছে, ফলে শিল্পে প্রায় ৬৪০০ কোটি ডলার ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পর্যটন, আতিথেয়তা, বিমান সংস্থা সব ক্ষেত্রেই দেখা দিচ্ছে বিপুল ক্ষতি।



