Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে ফের উত্তপ্ত আন্তর্জাতিক রাজনীতি (USA Intelligence)। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বাসভবনে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। একদিকে মস্কোর গুরুতর অভিযোগ, অন্যদিকে সেই দাবি কার্যত খারিজ করে দিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। দাবি ও পাল্টা দাবির এই সংঘাতে প্রশ্ন উঠছে—এই ঘটনার নেপথ্যে আদৌ কী রয়েছে?

পুতিনের বাড়িতে নিশানা ইউক্রেনের ড্রোন (USA Intelligence)
রাশিয়ার তরফে দাবি করা হয়েছে, গত ২৮ ডিসেম্বর রাতে প্রেসিডেন্ট পুতিনের বাসভবনে হামলার উদ্দেশ্যে একের পর এক ড্রোন পাঠায় ইউক্রেন। মস্কোর বক্তব্য অনুযায়ী, মোট ৯১টি ড্রোন রাশিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল, যার মধ্যে কয়েকটিতে ছিল প্রায় ৬ কেজি বিস্ফোরক। এই হামলার ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ্যে এনেছে রুশ প্রশাসন। রাশিয়ার মতে, এটি শুধু সামরিক উসকানি নয়, বরং সরাসরি রাষ্ট্রপ্রধানের নিরাপত্তায় আঘাত। মস্কো এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে তুলনা করতেও পিছপা হয়নি।
পুতিনের বাসভবনে হামলার কোনও প্রমাণ নেই (USA Intelligence)
তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ নিশ্চিত হয়েছে যে পুতিনের বাসভবনে কোনও ড্রোন হামলা হয়নি। সিআইএ প্রকাশ্যে এই বিষয়ে মন্তব্য না করলেও, মার্কিন সংবাদমাধ্যমের সূত্র অনুযায়ী, উপগ্রহচিত্র, রাডার কভারেজ, অন্যান্য গোয়েন্দা তথ্য, বিশ্লেষণ করে রুশ দাবিকে ভিত্তিহীন বলে মনে করছে সিআইএ।, গোয়েন্দাদের মতে, ইউক্রেন ওই অঞ্চলে একটি সামরিক স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা করেছিল ঠিকই, কিন্তু সেটি পুতিনের বাসভবন থেকে অনেক দূরে অবস্থিত।
শান্তি আলোচনায় ফাটল ধরাতেই অভিযোগ (USA Intelligence)
রাশিয়ার অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করেছে কিভ। ইউক্রেনের দাবি, এই হামলার গল্প সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ইউক্রেনের মতে, শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা যখন এগোচ্ছে, ঠিক তখনই এই অভিযোগ তোলা হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে ইউক্রেনকে আক্রমণকারী হিসেবে তুলে ধরাই রাশিয়ার লক্ষ্য, রাশিয়া কোনও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ দিতে পারেনি ঘটনাচক্রে, ইউক্রেন প্রমাণ চাওয়ার পরেই ভিডিও প্রকাশ করে মস্কো যা এই বিতর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।
আরও পড়ুন: Iran: ইরানে মুদ্রার রেকর্ড দরপতন: জনরোষ দেশের বিভিন্ন শহরে, উঠছে খোমেইনি বিরোধী স্লোগান
প্রশ্নের মুখে রুশ দাবি?
এই ঘটনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানও উল্লেখযোগ্য। প্রথমে তিনি ইউক্রেনের সম্ভাব্য হামলা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও, পরে সুর কিছুটা বদলান। ট্রুথ সোশালে তিনি নিউ ইয়র্ক পোস্টের একটি সম্পাদকীয় প্রতিবেদনের লিঙ্ক শেয়ার করেন, যেখানে রুশ দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, “এটা সংবেদনশীল সময়। বদলা বদলি এক জিনিস, কিন্তু কারও বাড়িতে হামলা করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। এখন এই দুটির কোনওটাই করা উচিত নয়।” এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, ওয়াশিংটনের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে দ্বিধা রয়েছে।



