Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের স্কুলগুলির পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence)। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, তৃতীয় শ্রেণি থেকেই ছাত্রছাত্রীরা এআই সম্পর্কে পড়াশোনা শুরু করবে যা ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রস্তুতি (Artificial Intelligence)
শিক্ষা মন্ত্রকের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই প্রকল্পের আওতায় প্রয়োজনীয় পাঠ্যসামগ্রী, শিক্ষক-সহায়ক হ্যান্ডবুক এবং ডিজিটাল রিসোর্স তৈরি করার কাজ চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই সম্পন্ন হবে। এর মাধ্যমে ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের এআই ও কম্পিউটেশনাল থিঙ্কিং ধারণার সঙ্গে পরিচিত করা হবে।
এর লক্ষ্য কী? (Artificial Intelligence)
মন্ত্রকের বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, “এআই ও কম্পিউটেশনাল থিঙ্কিং শিক্ষণ ও চিন্তার পদ্ধতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে। এর মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ‘জনকল্যাণে এআই’-এর ধারণা গড়ে তোলা হবে।” এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো, নৈতিকভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার শেখানো যাতে ভবিষ্যতের প্রজন্ম প্রযুক্তির সুবিধা মানবকল্যাণে ব্যবহার করতে পারে।
ধাপে ধাপে পাঠ্যক্রম হবে! (Artificial Intelligence)
প্রথম দিকে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে এআই সম্পর্কে মৌলিক ধারণা ও সচেতনতা তৈরি করা হবে, যেমন এআই কী, কোথায় ব্যবহৃত হয়, এবং কীভাবে এটি আমাদের জীবনে প্রভাব ফেলে। উচ্চ শ্রেণিতে, অর্থাৎ ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত, শিক্ষার্থীদের এআই-এর প্রযুক্তিগত দিক, প্রয়োগ ও সীমাবদ্ধতা শেখানো হবে। আর একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে এটি ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা উন্নততর প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জন করতে পারবে।
শিক্ষক প্রশিক্ষণ হবে মূল চাবিকাঠি (Artificial Intelligence)
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ সফল করতে গেলে শিক্ষকদের সঠিক প্রশিক্ষণ অপরিহার্য। দিল্লির মাউন্ট আবু পাবলিক স্কুলের প্রিন্সিপাল জ্যোতি অরোরা বলেন, “শিক্ষকদের এআই সম্পর্কিত সঠিক প্রশিক্ষণ ও স্পষ্ট নির্দেশিকা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু চোখ বন্ধ করে এআই ব্যবহার করা নয়, নিরাপদভাবে ব্যবহার করাও শিখতে হবে।” শিক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষণ-সহায়ক সামগ্রী এবং ভিডিও-ভিত্তিক লার্নিং রিসোর্স হবে এই নতুন পাঠ্যক্রমের ভিত্তি।
উদ্বেগ ও নৈতিক দিক (Artificial Intelligence)
এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে নেওয়া হয়েছে, যখন শিশু ও কিশোরদের এআই চ্যাটবট ব্যবহারের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে ১৬ বছর বয়সি এক কিশোরের আত্মহত্যার পর তার পরিবার OpenAI-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে, অভিযোগ জানায় যে চ্যাটজিপিটি ওই কিশোরকে মানসিকভাবে বিপথে পরিচালিত করেছিল। ঘটনার পর সেপ্টেম্বরে OpenAI কিশোর ও মানসিক চাপে থাকা ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করে। শিক্ষা মন্ত্রকের এক আধিকারিকের ভাষায়, “প্রযুক্তিকে থামানো সম্ভব নয়। তাই আমরা পাঠ্যক্রমে এআই-সংক্রান্ত নৈতিক বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত করব।”
আরও পড়ুন: Kolkata Metro Service: দমদম থেকেই চলছে না মেট্রো, অফিস টাইমে ফের ভোগান্তি!
শিক্ষাব্যবস্থায় বিপ্লবের ইঙ্গিত
এই উদ্যোগ কেবল প্রযুক্তি শিক্ষার অংশ নয়, এটি ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থাকে ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান, গবেষণা এবং উদ্ভাবনের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। ছোটবেলা থেকেই ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সমালোচনামূলক চিন্তা, সমস্যা সমাধান ক্ষমতা এবং নৈতিক প্রযুক্তি ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা গড়ে উঠবে।



