Last Updated on [modified_date_only] by Ananya Dey
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল : বাংলার মধুমেহ (Diabetes) মোকাবিলার উদ্যোগ এখন বিশ্বের আদর্শ। আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছে রাজ্যের এই সাফল্য। টাইপ-১ ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় রাজ্য সরকারের উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিয়েছে ‘ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর পেডিয়াট্রিক অ্যান্ড অ্যাডোলেসেন্ট ডায়াবেটিস’ (Diabetes)। এই স্বীকৃতিতে উচ্ছ্বসিত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে উচ্ছ্বসিত মুখ্যমন্ত্রী (Diabetes)
টাইপ–১ ডায়াবেটিসের (Diabetes) বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলার তৈরি স্বাস্থ্য মডেল এখন ‘গ্লোবাল মডেল’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী রবিবার সমাজমাধ্যমে নিজের আনন্দ ভাগ করে নিয়ে লিখেছেন, “আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে টাইপ-১ ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ‘বাংলার মডেল’ একটি বিশ্বব্যাপী অনুকরণীয় মডেল হয়ে উঠেছে।”
টাইপ–১ ডায়াবেটিস মোকাবিলা প্রকল্পের ভূয়সী প্রশংসা জিন বুকম্যানের (Diabetes)
সম্প্রতি কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে এসেছিলেন হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের বিশিষ্ট চিকিৎসক, অসংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জিন বুকম্যান। তিনি বাংলার টাইপ–১ ডায়াবেটিস (Diabetes) মোকাবিলা প্রকল্পের ভূয়সী প্রশংসা করেন। অধ্যাপক বুকম্যানের মতে, এই মডেল শুধু উন্নয়নশীল দেশ নয়, উন্নত দেশগুলিতেও অনুপ্রেরণা হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন সমাজমাধ্যমে লেখেন, “সংক্রামক নয় এমন অসংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে বিশ্বখ্যাত বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জিন বুকম্যান বাংলার টাইপ–১ ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের উদ্যোগে গভীরভাবে মুগ্ধ হয়েছেন।” তিনি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের অভিনন্দন জানান।
আরও পড়ুন : Sovan Chatterjee: পদ্ম থেকে জোড়াফুলে শোভন-বৈশাখী! বেহালার প্রার্থী কি তিনিই?
টাইপ–১ ডায়াবেটিস মোকাবিলা প্রকল্পে নজির বাংলার
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, ডায়াবেটিস মূলত দু’ধরনের—টাইপ–১ ও টাইপ–২। টাইপ–১ ডায়াবেটিস সাধারণত জিনগত কারণে হয় এবং এটি শিশু ও কিশোরদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এটি একটি অটোইমিউন রোগ, যেখানে অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন উৎপাদক কোষগুলো নষ্ট হয়ে যায়, ফলে শরীরে ইনসুলিনের ঘাটতি তৈরি হয়। টাইপ–২ ডায়াবেটিস সাধারণত খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং জীবনযাপনের অনিয়মের কারণে দেখা দেয়। তবে দুই ধরনের ক্ষেত্রেই লক্ষণ প্রায় একরকম—অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব, ক্লান্তি, ওজন কমে যাওয়া ইত্যাদি।
ভারতে টাইপ–১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হলেও, পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া আর কোনও রাজ্যে এখনো পর্যন্ত এমন সুসংগঠিত ও স্থায়ী সরকারি চিকিৎসা কাঠামো গড়ে ওঠেনি। এখানেই বাংলা আলাদা নজির সৃষ্টি করেছে।
আরও পড়ুন : SIR: এসআইআর আতঙ্কে ফের মৃত্যু! ডানকুনিতে হৃদ্রোগে প্রাণ গেল বৃদ্ধার
প্রতিটি জেলায় ‘ডেডিকেটেড ডায়াবেটিস ক্লিনিক’
বাংলার স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ দপ্তর জনস্বাস্থ্য কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি জেলায় ‘ডেডিকেটেড ডায়াবেটিস ক্লিনিক’ গড়ে তুলেছে, যেখানে নির্দিষ্ট দিনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা, ইনসুলিন সরবরাহ ও পরামর্শ দেওয়া হয়।প্রথমে চারটি জেলায় এই প্রকল্প শুরু হলেও বর্তমানে আরও ১১টি জেলায় তা বিস্তৃত হয়েছে। জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের অধীনে জুভেনাইল টাইপ–১ ডায়াবেটিস চিকিৎসার জন্য কোনও আলাদা ব্যবস্থা না থাকলেও, রাজ্য সরকার নিজস্ব উদ্যোগে এই প্রকল্প চালু করে। এই স্বতপ্রণোদিত পদক্ষেপই আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃতি পেয়েছে এবং পশ্চিমবঙ্গকে গর্বিত করেছে।


