Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতে মশাবাহিত রোগ চিকুনগুনিয়ার ভবিষ্যৎ চিত্র আরও অন্ধকার (Chikungunya)। সাম্প্রতিক এক বিশ্বব্যাপী গবেষণার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদে প্রতি বছর ভারতের প্রায় ৫১ লাখ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবেন। জলবায়ু পরিবর্তন, দ্রুত শহরায়ণ এবং দুর্বল স্বাস্থ্যপরিকাঠামোকে এই বিপদের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ‘জার্নাল অফ গ্লোবাল হেলথ’-এ প্রকাশিত গবেষণাটি পরিচালনা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন। গবেষকদের মতে, ভারতের উষ্ণ-আর্দ্র জলবায়ু এবং শহুরে পরিবেশ এডিস মশার দ্রুত বংশবিস্তারের জন্য আদর্শ আবহাওয়া তৈরি করছে।
২০৫০ সালের ভবিষ্যৎ আরও ভয়ংকর (Chikungunya)
গবেষণায় আশঙ্কা, ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের শহরাঞ্চলের প্রায় ৪০% মানুষ চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন। দক্ষিণ, পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। এডিস মশা শুধু চিকুনগুনিয়া নয়, ডেঙ্গু ও জিকারও বাহক। শহরের জল জমে থাকা জায়গা, অপরিচ্ছন্ন নির্মাণস্থল ও প্লাস্টিক বর্জ্যের স্তূপ এই মশার বংশবিস্তারকে ত্বরান্বিত করছে।
ভারতের বর্তমান পরিস্থিতি চিন্তার (Chikungunya)
২০০৬ সালে দেশে চিকুনগুনিয়ার বড়সড় মহামারীতে আক্রান্ত হয়েছিলেন প্রায় ১৪ লাখ মানুষ। গত দশকে এর প্রকোপ আরও বেড়েছে। ২০২৪ সালে শুধু দিল্লিতেই ৩,০০০-এর বেশি কেস রেকর্ড হয়েছে। মুম্বই, কলকাতা ও বেঙ্গালুরুর মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে রোগের বিস্তার দ্রুত বাড়ছে। জনসংখ্যার ঘনত্ব ও অপ্রতুল মশা দমন ব্যবস্থা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্ট (Chikungunya)
গবেষণায় বলা হয়েছে, বর্ষার সময়কাল দীর্ঘ হচ্ছে, পরিবেশে আর্দ্রতা বাড়ছে, তাপমাত্রা ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী, এসব কারণ এডিস মশার প্রজননকে আরও উৎসাহিত করছে। ফলে চিকুনগুনিয়া নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ আগামী দিনে আরও কঠিন হবে বলে মত গবেষকদের।
স্বাস্থ্যব্যবস্থা যথেষ্ট প্রস্তুত নয় (Chikungunya)
ভারতের স্বাস্থ্য অবকাঠামো এই বিপুল সংখ্যক রোগীকে সামলাতে কতটা প্রস্তুত এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন গবেষকরা।
চিকুনগুনিয়ার কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই, টিকাও নেই। দীর্ঘস্থায়ী জয়েন্ট ব্যথা ও ক্লান্তি রোগীদের কর্মক্ষমতায় দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলে। জেলার পর জেলায় পর্যাপ্ত পরীক্ষাগার না থাকায় রোগ নির্ণয়েও বিলম্ব হচ্ছে।
আরও পড়ুন: Shahid Kapoor: দিল্লি বিস্ফোরণের জের, স্থগিত ‘ককটেইল ২’-এর শুটিং!
সরকারি পদক্ষেপ পর্যাপ্ত নয়
ভারত সরকারের জাতীয় ভেক্টর বাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি মশা দমনে কাজ করছে ঠিকই, তবে গবেষণা বলছে, এটি সর্বত্র কার্যকর হচ্ছে না। মশা দমন অভিযান, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে আরও বড়সড় উদ্যোগ প্রয়োজন।



