Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতীয় সমাজসংস্কারের ইতিহাসে অন্যতম উজ্জ্বল নাম রাজা রামমোহন রায় (Rammohan Roy)। সতীদাহ প্রথা বিলোপ থেকে শুরু করে বিধবা বিবাহ প্রচলন-ভারতীয় সমাজকে মানবিক পথে এগিয়ে নিতে তাঁর ভূমিকার তুলনা নেই। আধুনিক ভারতীয় নবজাগরণের জনক হিসেবেও তিনি স্বীকৃত। সেই রামমোহনকে নিয়েই এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করে বিতর্কে জড়ালেন মধ্যপ্রদেশের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী ইন্দর সিংহ পারমার। তাঁর দাবি, ঔপনিবেশিক আমলে ব্রিটিশ শাসকের স্বার্থসিদ্ধির জন্য যাঁরা ভারতীয় সমাজে ‘ইংরেজি শিক্ষার প্রচার’ করছিলেন, তাঁদেরই একজন ছিলেন রাজা রামমোহন রায়। এমনকি তিনি রামমোহনকে ‘ব্রিটিশের দালাল’-ও বলে উল্লেখ করেন।
রামমোহনকে ‘ব্রিটিশের দালাল’ (Rammohan Roy)
বিরসা মুন্ডার সার্ধশত জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ইন্দর (Rammohan Roy) এই মন্তব্য করেন। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন-সে সময় নাকি একটি গোষ্ঠী মানুষের বিশ্বাস, সংস্কার এবং সামাজিক মূল্যবোধ পাল্টানোর উদ্দেশ্যে ইংরেজি শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে চাইছিল। সেই ‘চক্র’-য় রামমোহনের মতো কয়েকজন ভারতীয়কে সামনে আনা হয়েছিল বলেই তাঁর মত। বিরসা মুন্ডাকে তিনি তুলে ধরেন সেই ব্যক্তিত্ব হিসেবে, যিনি নাকি এই ধর্মান্তকরণমুখী প্রবণতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন।
তীব্র প্রতিক্রিয়া (Rammohan Roy)
ইন্দরের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া (Rammohan Roy) জানান বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ইতিহাসমহল। কংগ্রেসের মুখপাত্র ভূপেন্দ্র গুপ্ত কঠোর ভাষায় বলেন-এ ধরনের মন্তব্য ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞতার পরিচয় এবং সম্পূর্ণ লজ্জাজনক। তাঁর প্রশ্ন, সতীদাহ প্রথা বিলোপ বা বিধবা বিবাহের প্রচলন-এসব কি ব্রিটিশকে খুশি করার জন্য করা হয়েছিল? ইতিহাসবিদদের মতে, রামমোহনের অবদান ঔপনিবেশিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে ভারতীয় সমাজে যুক্তিবাদ ও মানবিকতার বিকাশ ঘটিয়েছিল।

বিজেপির রাজনৈতিক অভ্যাস
শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসও বিজেপি নেতার মন্তব্যকে তীব্র নিন্দা করে। তাঁদের অভিযোগ-বাঙালি ঐতিহ্যের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বকে অপমান করাই নাকি বিজেপির রাজনৈতিক অভ্যাস। এ প্রসঙ্গে বিজেপির উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যকে তাঁরা ‘বাংলা বিরোধী’ বলেও আখ্যা দেন।
আরও পড়ুন: IND vs SA: বাভুমার লড়াকু অর্ধশতরানেও দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১৫৩ রানে থামাল বুমরা-সিরাজ
তবে এটি প্রথম নয়। ইন্দর পারমার অতীতেও বিতর্কিত মন্তব্য করে শিরোনামে এসেছেন। কোনো এক সময়ে তিনি দাবি করেছিলেন, ভাস্কো-দা-গামা ভারত আবিষ্কার করেননি বরং এক ‘চন্দন’ নামের ভারতীয় বণিকই পথপ্রদর্শক ছিলেন! এমনকি শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালীন ইতিহাসবিদদের বিরুদ্ধে তিনি পাঠ্যপুস্তকে ‘ভুল ইতিহাস’ লেখার অভিযোগও তুলেছিলেন।


