Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: শনিবার সকালে ভয়াবহ দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল (Accident For Fog) দিল্লি ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকা। ঘন কুয়াশা এবং দূষণের ধোঁয়াশায় কার্যত ঢেকে গিয়েছিল গোটা রাজধানী অঞ্চল। এরই জেরে কুন্ডলি–গাজ়িয়াবাদ–পালওয়াল ইস্টার্ন পেরিফেরাল এক্সপ্রেসওয়েতে ঘটে যায় এক মারাত্মক পথ দুর্ঘটনা। দৃশ্যমানতা নেমে আসায় একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খায় প্রায় ১২ থেকে ১৪টি গাড়ি ও ট্রাক।
কুয়াশার দাপট ক্রমশ বাড়তে থাকে (Accident For Fog)
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার ভোর থেকে এক্সপ্রেসওয়েতে কুয়াশার দাপট (Accident For Fog) ক্রমশ বাড়তে থাকে। কিছু এলাকায় দৃশ্যমানতা ছিল প্রায় শূন্য। চালকেরা সামনে থাকা গাড়ি দেখতে না পাওয়ায় আচমকা ব্রেক কষতেই ঘটে যায় একের পর এক সংঘর্ষ। মুহূর্তের মধ্যেই দুর্ঘটনাস্থল রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।
দুর্ঘটনায় দুমড়ে-মুচড়ে যায় একাধিক চারচাকা গাড়ি (Accident For Fog)
এই দুর্ঘটনায় দুমড়ে-মুচড়ে যায় একাধিক (Accident For Fog) চারচাকা গাড়ি। বেশ কয়েকটি গাড়ির সামনের অংশ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনায় বহু যাত্রী আহত হয়েছেন বলে খবর। আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যদিও এখনো পর্যন্ত প্রাণহানির কোনও সরকারি তথ্য মেলেনি।
দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি (Accident For Fog)
ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিয়োতে ভয়াবহ দৃশ্য ধরা পড়েছে। একটি সাদা রঙের গাড়িকে দেখা গিয়েছে ডিভাইডারের উপর উঠে যেতে, অন্যদিকে একটি গাড়ি পুরোপুরি ঢুকে গিয়েছে একটি ভারী ট্রাকের নীচে। চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে ভাঙা গাড়ির যন্ত্রাংশ। দুর্ঘটনার জেরে ইস্টার্ন পেরিফেরাল এক্সপ্রেসওয়েতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত গাড়ির লাইন দাঁড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ট্রাফিক পুলিশ, হাইওয়ে প্যাট্রোল এবং টোল প্লাজার কর্মীরা। ক্রেনের সাহায্যে একে একে দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িগুলি সরানোর কাজ শুরু হয়। যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে।
দুর্ঘটনার পিছনে মূল কারণ…
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এই দুর্ঘটনার পিছনে মূল কারণ দিল্লি ও সংলগ্ন অঞ্চলের ভয়াবহ বায়ুদূষণ এবং ঘন কুয়াশা। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকালেও নয়ডার বায়ু গুণমান সূচক বা AQI ছিল ৪৪৯। যা ‘সিভিয়ার’ বা গুরুতর শ্রেণিভুক্ত। এতটাই দূষণ ছিল যে চোখে জ্বালা, শ্বাসকষ্টের পাশাপাশি রাস্তায় চলাচল করাই হয়ে উঠেছিল বিপজ্জনক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গৌতম বুদ্ধ নগরের ট্রাফিক পুলিশ অবিলম্বে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। যমুনা এক্সপ্রেসওয়ে এবং নয়ডা–গ্রেটার নয়ডা এক্সপ্রেসওয়েতে হালকা যানবাহনের সর্বোচ্চ গতি বেঁধে দেওয়া হয়েছে ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার। ভারী যানবাহনের ক্ষেত্রে গতি সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার। পাশাপাশি কুয়াশার সময় ফগ লাইট ব্যবহার, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: Lionel Messi: মেসি কাণ্ডে গ্রেপ্তার মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত, টিকিটের টাকা ফেরতের আশ্বাস
দিল্লি ও এনসিআর জুড়ে ক্রমবর্ধমান দূষণ ও শীতকালীন কুয়াশা যে কতটা বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে, শনিবারের এই দুর্ঘটনা ফের তারই প্রমাণ দিল।


