Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মস্কোর সঙ্গে এখনও ব্যবসা করছে এমন দেশগুলির উপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাবকে জোরালো সমর্থন করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। ফ্লোরিডা থেকে হোয়াইট হাউসে ফেরার পথে সাংবাদিকদের তিনি জানান, রিপাবলিকানরাই এই কঠোর আইন আনতে চলেছে, যা রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসায় যুক্ত যে কোনও দেশকে শাস্তির আওতায় আনবে। কংগ্রেসে বহুদিন ধরেই রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল। সেই প্রেক্ষিতেই এই নতুন আইনের পথ আরও সুগম হয়েছে। সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুনও কয়েক মাস আগেই জানিয়ে রেখেছিলেন যে তিনি এই পদক্ষেপ ভোটে আনতে প্রস্তুত।

রাশিয়ার তেল ক্রেতাদের লক্ষ্য করে আইন (Donald Trump)
ব্লুমবার্গের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই আইন ট্রাম্পকে ক্ষমতা দেবে, রাশিয়ার তেল বা গ্যাস কিনছে, এবং ইউক্রেনকে যথেষ্ট সমর্থন দিচ্ছে না, এমন দেশগুলির উপর আমদানিতে ৫০০% পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর। সরাসরি লক্ষ্য থাকছে চীন, ভারত সহ রাশিয়ার জ্বালানির প্রধান ভোক্তা দেশগুলি। ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে ইরানকেও এই আইনের আওতায় আনা হতে পারে।
রাশিয়া টিকে আছে জ্বালানি বিক্রয়ের উপর (Donald Trump)
আমেরিকার বক্তব্য, কয়েকটি দেশ রাশিয়ার থেকে তেল ও জ্বালানি কিনছে। সেই অর্থই ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাতে মস্কোকে সহায়তা করছে। বর্তমান শুল্ক যথেষ্ট প্রভাব ফেলছে না। তাই রাশিয়া-সমর্থক বা রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলির ওপর আরও শক্ত আঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে আমেরিকা।

বিশ্ব অর্থনীতিতে আশঙ্কা (Donald Trump)
বিশ্লেষকদের মতে, ৫০০% শুল্কের মতো পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রবল অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি হলে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি আরও তীব্র হবে। জনসাধারণ থেকে শুরু করে শিল্প উৎপাদন সবক্ষেত্রে এর বড় ধাক্কা লাগতে পারে।
পোকরোভস্কে রুশ অভিযান (Donald Trump)
এই বিল এমন সময়ে এসেছে যখন, মস্কো পূর্ব ইউক্রেনের পোকরোভস্ক রেল হাব দখলের চেষ্টা জোরদার করেছে, ইউক্রেন জুড়ে রুশ বিমান হামলা অব্যাহত, অপরদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার তেল অবকাঠামোতে দীর্ঘমেয়াদি হামলা চালাচ্ছে।

ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের চাপ (Donald Trump)
দুই দলের বহু নেতা দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা চেয়ে আসছিলেন। তাদের অভিযোগ, ক্রেমলিন ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করছে, কূটনৈতিক আলোচনার প্রস্তাবেও সাড়া দিচ্ছে না। তবে ট্রাম্প অতীতে নতুন নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছিলেন। পুতিন ও জেলেনস্কিকে আলোচনার টেবিলে আনতে তাঁর উদ্যোগও সফল হয়নি।
আগের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা (Donald Trump)
২০২৫ সালের আগস্টে ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে, ভারতীয় রপ্তানির ওপর বিদ্যমান ২৫% পারস্পরিক শুল্ক, তার উপরে আরও ২৫% ‘রাশিয়ান তেল’ সারচার্জ যোগ করেন। ফলে ভারতের জন্য মোট শুল্ক দাঁড়ায় ৫০ শতাংশ। ওয়াশিংটনের যুক্তি ভারত রাশিয়ার তেল কিনে পরোক্ষভাবে “পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রকে” আর্থিকভাবে সহায়তা করছে।
আরও পড়ুন: Bangladesh Shoot Order: রায় ঘোষণার আগেই আগুন! আবার কি জুলাই আন্দোলনের পুনরাবৃত্তি?
ভারতের অবস্থানের পরিবর্তন
চাপ বাড়তে থাকায়, ভারত কিছুটা নরম হয়ে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল আমদানি হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়। ট্রাম্পও পরে মন্তব্য করেন যে ভারত রাশিয়ান তেল ক্রয় “উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে”, এবং ভবিষ্যতে শুল্ক কমানো হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন। এতে দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনার বরফ কিছুটা গলতে শুরু করে।



