Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: গুজরাটের আড়াবলী জেলায় ঘটেছে এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা (Ambulance Catches Fire)। সূত্রের খবর, মোডাসা শহরের কাছে মঙ্গলবার ভোররাতে একটি অ্যাম্বুলেন্সে আচমকাই আগুন ধরে যায়, আর মুহূর্তের মধ্যেই ছাই হয়ে যায় চারটি জীবন মাত্র একদিনের নবজাতক, তার বাবা, এক চিকিৎসক এবং এক নার্স। এই ঘটনা রাজ্যজুড়ে সৃষ্টি করেছে গভীর শোক ও ক্ষোভ।

প্রয়াসেই মৃত্যুমুখে যাত্রা (Ambulance Catches Fire)
মোডাসার এক হাসপাতালে জন্মানো নবজাতকটি জন্ম থেকেই অসুস্থ ছিল। স্থানীয় চিকিৎসকেরা তাকে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য আমদাবাদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেইমতো রাতেই অ্যাম্বুলেন্সে করে যাত্রা শুরু হয় মায়ের কোলের বদলে হাসপাতালের আলো, আর হাসপাতালের করিডোর পেরিয়ে নতুন যাত্রা এক জীবনের। কিন্তু যে যাত্রা তাকে বাঁচাবার কথা ছিল, সেটাই পরিণত হল মৃত্যুর পথে। সূত্র জানায়, অ্যাম্বুলেন্সটিতে ছিলেন শিশুর বাবা জিগনেশ মোচি (৩৮), আহমেদাবাদের চিকিৎসক শান্তিলাল রেন্টিয়া (৩০), নার্স ভুরি বেন মানত (২৩) এবং নবজাতকটি। সামনের সিটে ছিলেন চালক ও মোচির দুই আত্মীয়।
আচমকা আগুন, আতঙ্কের চিৎকার (Ambulance Catches Fire)
রাত প্রায় ১টার সময় মোডাসা–ধানসুরা রাস্তায় ছুটে চলা অ্যাম্বুলেন্সটি হঠাৎই ধোঁয়া ছড়াতে শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, গাড়ির পিছনের দিকেই প্রথম আগুনের স্ফুলিঙ্গ দেখা যায়। বিষয়টি টের পেয়ে চালক দ্রুত গতি কমিয়ে রাস্তার ধারের একটি পেট্রোল পাম্পের কাছে গাড়ি থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুন ততক্ষণে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পুলিশ পরিদর্শক ডি বি ভালা জানান, সামনের সিটে থাকা চালক এবং যাত্রী দুই আত্মীয় আগুন লাগার পরেই দরজা ঠেলে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। তাদের শরীরে গুরুতর দগ্ধ ক্ষত থাকলেও প্রাণে বাঁচেন। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্সের পেছনের অংশে থাকা চারজনের আর বেরোনোর কোনও পথ ছিল না। দাউ দাউ করে আগুনে মুহূর্তে আটকা পড়ে যান তাঁরা।

মৃত্যুর মর্মান্তিক তালিকা (Ambulance Catches Fire)
আগুন নেভানোর পর উদ্ধারকাজে নেমে যে দৃশ্য চোখে পড়ে, তাতে স্তব্ধ হয়ে যায় সবাই। মারা যান নবজাতক শিশু মাত্র ২৪ ঘণ্টার জীবনের অবসান, জিগনেশ মোচি (৩৮) নবজাতকের বাবা, ডা. শান্তিলাল রেন্টিয়া (৩০) আমদাবাদের চিকিৎসক, নার্স ভুরি বেন মানত (২৩) চারজনই অ্যাম্বুলেন্সের পেছনের অংশে ছিলেন, যেখানে আগুনের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি ছিল। সূত্রের খবর, তাঁরা প্রত্যেকেই দগ্ধ অবস্থাতেই ঘটনাস্থলে মারা যান।
রক্ষা করা গেল না (Ambulance Catches Fire)
স্থানীয়দের ফোন পেয়ে দমকল কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ—আগুন এতটাই তীব্র ছিল যে পেছনের দরজা ভেঙে ভিতরে পৌঁছাতে বেশ সময় লেগে যায়। দমকলের কাছে পৌঁছানোর আগেই অ্যাম্বুলেন্সের অভ্যন্তর প্রায় সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়। গুরুতর আহত তিনজনকে তৎক্ষণাৎ নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁদের মধ্যে দুই আত্মীয়ের অবস্থা এখনও সংকটজনক বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: Visa for Indians: ভিসা ছাড়া ইরান যাত্রার দিন শেষ, সতর্ক করল নয়াদিল্লি!
কীভাবে লাগল আগুন?
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে ইতিমধ্যেই উঠেছে নানা প্রশ্ন। জেলা পুলিশ সুপার মনোহরসিংহ জাদেজা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের ডাকা হয়েছে। প্রথমিক অনুমান, অ্যাম্বুলেন্সের পেছনের অংশে কোনও বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বা অক্সিজেন সিলিন্ডার থেকে লিকেজের কারণে আগুন লাগতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে তদন্ত শেষে। সূত্রের খবর, অ্যাম্বুলেন্সটি বেশ পুরনো ছিল এবং রক্ষণাবেক্ষণে ত্রুটি ছিল কিনা তা নিয়েও বিশেষজ্ঞরা খতিয়ে দেখছেন।



