Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভোটার তালিকা কোনও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি (Digitizing)। নাগরিকের পরিচয়, অধিকার ও অংশগ্রহণ সবকিছুর সঠিক পরিমাপ নির্ভর করে এই তালিকার বিশ্বাসযোগ্যতার উপর। সেই কারণে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এর সময়ে তথ্য সংগ্রহ ও আপডেটের কাজ দেশজুড়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে করা হয়। তবে মাঠপর্যায়ে বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) নানা সমস্যার কারণে কাজের গতি ও নির্ভুলতা বহু সময়েই বিঘ্নিত হয়েছে। এবার সেই বহুদিনের সমস্যার সমাধানে নির্বাচন কমিশন এগিয়ে এসেছে নতুন প্রযুক্তিগত উদ্যোগ নিয়ে।

তথ্য ডিজিটাইজ়েশনে নতুন মাত্রা (Digitizing)
আধুনিক যুগে তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ডিজিটালাইজ়েশন অপরিহার্য। সেই ভাবনাকেই এগিয়ে নিয়ে গিয়ে এবার বিএলও অ্যাপে যুক্ত হয়েছে তথ্য সংশোধনের সুবিধা। এতদিন ভোটারের ছবি আপলোড করা কিংবা তথ্যের ভুল শুধরে নেওয়া যায়নি; সেই বাধার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই ভুল তথ্য স্থায়ী হয়ে যাচ্ছিল। ভুল করা বা চাপের মুখে ভুল নথিভুক্ত করা উভয় ক্ষেত্রেই বিএলওদের শাস্তির ভয় থেকে কাজের স্বাভাবিক গতি ছিল ব্যাহত। নতুন এডিট অপশন এই আশঙ্কা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে। সিইও দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই ১ কোটি ৪৮ লক্ষ ভোটারের তথ্য ডিজিটাইজ় করা হয়েছে। রাজ্যের মোট ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ভোটারের তুলনায় এ এক বড় অগ্রগতি। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই কাজ সম্পূর্ণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক চাপ (Digitizing)
বিএলও–রা শুধু নয়, ‘ভোটকর্মী ও বিএলও ঐক্য মঞ্চ’-ও দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছিল এডিটিং অপশনের। অনেক জায়গায় রাজনৈতিক দলগুলির বুথ লেভেল এজেন্টদের চাপের মুখে ভুল তথ্য অ্যাপে নথিভুক্ত করতে বাধ্য হয়েছিলেন তাঁরা। মাঠে একা দায়িত্ব পালনকারী কর্মীদের জন্য এই চাপ সামলানো সহজ নয়। তথ্য সংশোধনের সুযোগ না থাকায় এই ভুলের দায় তাঁদেরকেই বহন করতে হতো ফলে শাস্তির সম্ভাবনা, মানসিক চাপ এবং অনিশ্চয়তা সব মিলিয়ে ‘সার’-এর কাজ ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছিল। নতুন ফিচার যুক্ত হওয়ায় এবার সেই দুশ্চিন্তা অনেকটাই লাঘব হয়েছে। ভুল সংশোধনের সুযোগ থাকায় এ বার তথ্য সংগ্রহ আরও স্বচ্ছ ও সঠিক হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সীমান্ত জেলাগুলিতে বাড়তি সতর্কতা (Digitizing)
নদিয়া ও মুর্শিদাবাদ সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় সেখানে ভোটার তালিকা নিয়ে উদ্বেগ স্বাভাবিকভাবেই বেশি। গত দু’দশকে সীমান্ত অঞ্চলের ভোটার সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে, যা নির্বাচন কমিশনের নজর কেড়েছে। ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতীর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের সাম্প্রতিক বৈঠকে জেলাস্তরের আধিকারিকদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে,
- মৃত ভোটারের নাম যেন তালিকায় না থাকে
- ভুয়ো বা ভূতুড়ে নাম চিহ্নিত করে বাদ দিতে হবে
- একই ব্যক্তির নামে একাধিক জায়গায় ভোটার তালিকাভুক্তি থাকলে তা সংশোধন করতে হবে
এর আগে মুর্শিদাবাদ থেকেই জঙ্গি সংগঠন এবিটি-র সন্দেহভাজন সদস্যের নাম দুটি ভিন্ন কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় উঠে এসেছিল। এই অভিজ্ঞতা থেকেই সীমান্ত জেলাগুলিতে বাড়তি নজরদারি এখন জরুরি হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন: SIR: কলকাতায় ফর্ম বিলিতে ধীরগতি, সতর্ক করল কমিশন!
স্বচ্ছতার পথে এক ধাপ এগোনো
ভোটার তালিকা শুধু সংখ্যা নয় এটি রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের পরিচয়ের সাক্ষ্যবহ। তালিকার ভুল মানেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফাঁকফোকর। তাই তথ্য সংশোধনের সুযোগ বৃদ্ধি মানে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা আরও দৃঢ় করা। নতুন প্রযুক্তিগত উদ্যোগ বিএলওদের কাজ যেমন সহজ করবে, তেমনই সাধারণ ভোটারও আরও নির্ভুল পরিচয় পাবেন।



