Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ফের উত্তাপ বাড়ালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আসন্ন নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং ভোট-সংক্রান্ত দায়বদ্ধতা নিয়ে এদিন তিনি নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের কাছে একগুচ্ছ অভিযোগ পেশ করেন। হুগলি, পূর্ব বর্ধমান এবং পূর্ব মেদিনীপুর এই তিন জেলার জেলাশাসক, ৬৭ জন বুথ লেভেল অফিসার এবং একজন অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের বিরুদ্ধে তাঁর তোলা অভিযোগ রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

‘অনৈতিক চাপ’ সৃষ্টির অভিযোগ (Suvendu Adhikari)
শুভেন্দুর অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তিন জেলার জেলাশাসক। তাঁর দাবি, ওই তিন ডিএম নাকি ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে যুক্ত বিএলওদের উপর লগইন ওটিপি শেয়ার করার জন্য চাপ দিচ্ছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এত গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন কেন এই ডিএমদের বিরুদ্ধে এফআইআর করছে না?” বিরোধী দলনেতার মতে, ওটিপি শেয়ার করা সম্পূর্ণ বেআইনি ও অনৈতিক। এটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার পক্ষে বিরাট হুমকি।
‘ফাঁস’-এর অভিযোগ (Suvendu Adhikari)
শুধু ডিএম নয়, ‘সদ্য নিযুক্ত’ এক অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককেও নিশানা করেন শুভেন্দু।
তাঁর অভিযোগ, ওই আধিকারিক সিইও কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ও গোপন তথ্য নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নিয়মিত পাঠাচ্ছেন।
তিনি দাবি করেন যে, “এভাবে সিইও দফতরের তথ্য রাষ্ট্রের নির্বাহী শাখায় পৌঁছে যাওয়া গণতান্ত্রিক কাঠামোর বিরোধী।” এই অভিযোগ সরাসরি জাতীয় নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদের কাছে তুলে ধরেন তিনি।

‘আই-প্যাকেট’ অভিযোগ (Suvendu Adhikari)
এরপর শুভেন্দু আঙুল তুলেছেন ৬৭ জন বুথ লেভেল অফিসারের দিকে। তাঁর বক্তব্য, এঁরা নাকি শাসক দলের হয়ে ‘আই-প্যাকেট’ হিসেবে কাজ করছেন। অর্থাৎ ভোটার তালিকা সংশোধন, নাম অন্তর্ভুক্ত বা বাদ দেওয়া সবক্ষেত্রেই তাঁরা নাকি রাজনৈতিক স্বার্থে কাজ করছেন। বিরোধী দলনেতা এই প্রক্রিয়াকে সরাসরি নির্বাচনী দুর্নীতি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
‘ডেমোগ্রাফি বদলে দিচ্ছেন মমতা’ (Suvendu Adhikari)
সবচেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগটি তোলেন রাজ্যের জনবিন্যাস পরিবর্তন নিয়ে। তাঁর বক্তব্য, “বাংলাদেশ থেকে লোক আসছে এবং সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে ভোট দিচ্ছে এমন তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে।” তাঁর মতে, এর ফলে রাজ্যের ডেমোগ্রাফি বা জনবিন্যাস কৃত্রিমভাবে বদলে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতের নির্বাচনী কাঠামোকে ভয়াবহভাবে প্রভাবিত করতে পারে। এই সংক্রান্ত নথি, সাক্ষ্য এবং বিবরণ তিনি নিজেই জাতীয় নির্বাচন কমিশনের হাতে তুলে দিয়েছেন বলে দাবি করেন।
দুটি অভিযোগই সমান ভারী (Suvendu Adhikari)
শুভেন্দুর অভিযোগ শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয়, তিনি প্রশাসনিক ত্রুটিকেও সামনে আনেন। তাঁর দাবি, সিইও দফতর অবিলম্বে রাজ্য সরকারি কর্মচারীর বদলে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের দিয়ে পরিচালনা করা উচিত। অন্যান্য রাজ্যে SIR চলাকালীন DEO (ডেটা এন্ট্রি অপারেটর) নিয়োগ করা হলেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার তা করেনি। বিএলওদের পাওনা অর্থ অর্থ দফতরের ফাইলবন্দী হয়ে রয়েছে এক্ষেত্রে তিনি রাজ্য প্রশাসনের ইচ্ছাকৃত গাফিলতির অভিযোগ করেন।
আরও পড়ুন: Pakistan: জঙ্গিবাদের আধুনিক সংস্করণ: ভারতবিরোধী নয়া পাক মডিউল
নির্বাচন কমিশনের উপর চাপ বাড়ালেন শুভেন্দু
এই অভিযোগগুলো সামনে আসতেই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। শুভেন্দুর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কমিশনকে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ “সমস্ত প্রক্রিয়া রাজনৈতিক স্বার্থে পরিচালিত হচ্ছে।”



