Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম স্তম্ভ নির্বাচন কমিশন (Sir in Bengal 2025)। ভোটার তালিকা সংশোধন থেকে শুরু করে নির্বাচনী আচরণবিধি রক্ষা সমস্ত ক্ষেত্রেই কমিশনের নিরপেক্ষ ভূমিকা অপরিহার্য। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন, এসআইআর প্রক্রিয়া, বিএলও অ্যাপ এসবকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ায় কমিশনের নির্দলীয় ভূমিকার উপর প্রশ্নচিহ্ন উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেস বিশেষভাবে অভিযোগ করেছে কমিশনের অদক্ষতা ও প্রযুক্তিগত ব্যর্থতা শুধু প্রশাসনিক ভুল নয়, সামাজিক বিপর্যয়ও তৈরি করছে। এই প্রেক্ষাপটে আত্মহত্যার ঘটনাও উদ্বেগজনকভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে।

সমস্যার উৎস কোথায়? (Sir in Bengal 2025)
তৃণমূল নেতা অরূপ বিশ্বাসের অভিযোগ অনুযায়ী, কমিশনের ওয়েবসাইটে বারবার ভুল তথ্য দেখা যাচ্ছে, নামের ভুল, ছবি বদলে যাওয়া, বাবা বা স্বামীর নাম ভুল, ভোটার নম্বর অদল-বদল, তালিকায় নাম বাদ পড়া। সংবেদনশীল তথ্য সংরক্ষণ ও তালিকা প্রস্তুতির ক্ষেত্রে যেকোনো ত্রুটি সাধারণ মানুষের জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করে। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে ডিজিটাল দক্ষতা সীমিত, সেসব জায়গায় এমন ত্রুটি আতঙ্ক বাড়িয়ে তোলে। ভোটার হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া নাগরিক পরিচয়ের অংশ সে পরিচয়ে ভুল হলে বহু মানুষের মনে বিরাট চাপ তৈরি হয়। অরূপ বিশ্বাসের মতে, এই ভুল এবং বিভ্রান্তি এতই ভয়াবহ যে বহু মানুষ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। যদিও এই দাবি রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত, কিন্তু সমস্যার গভীরতা বোঝাতে অভিযোগটি যথেষ্ট তাৎপর্যময়।
রাজনৈতিক তোলপাড় (Sir in Bengal 2025)
তৃণমূলের দাবি অনুযায়ী, রাজ্যজুড়ে ভুল তথ্য ও নোটিসের চাপে ৩৪ জন মানুষ আত্মহত্যা করেছেন। বিশেষ করে চাঁপড়ায় মৃত বিএলও-র সুইসাইড নোটে কমিশনকে দায়ী করার বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। প্রশাসনিক কাজে ভুলের কারণে আত্মহত্যা এ ধরনের ঘটনা যে কোনো গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য অশনিসংকেত। এখানে দুটি সম্ভাব্য দিক দেখা যায়, বিভ্রান্তি এবং কাগজপত্র নিয়ে ভয়, প্রশাসনিক চাপ ও মানসিক অবসাদ। যে কারণেই হোক, এমন পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দেয় যে পুরো প্রক্রিয়াটি নাগরিক বান্ধব হয়নি।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ (Sir in Bengal 2025)
২০০২ সালের বিতর্ক প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূল অভিযোগ করেছে এবারও কমিশন নাকি “একটি রাজনৈতিক দলের চাপ” মেনে বুথে বুথে ১৫০-২০০ জনের নাম বাদ দিচ্ছে। নাম বাদ পড়া মানে সরাসরি ভোটাধিকার খর্ব হওয়া। তাই এই অভিযোগ রাজনৈতিক ভাবে অত্যন্ত গুরুতর। এই অভিযোগের অন্তর্গত আশঙ্কা হল, নির্বাচনী গণতন্ত্রের ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা, ভোটার তালিকা ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রভাব তৈরির আশঙ্কা। ভোটের আগে তালিকা সংশোধনের মতো প্রক্রিয়াকে বিতর্কহীন, স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ হওয়া প্রয়োজন যার অভাবের অভিযোগ এখানে স্পষ্ট।
আরও পড়ুন: Pakistan: জঙ্গিবাদের আধুনিক সংস্করণ: ভারতবিরোধী নয়া পাক মডিউল
প্রযুক্তিগত বিপর্যয় ও প্রশিক্ষণের শূন্যতা
তৃণমূল নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এসআইআর প্রক্রিয়া প্রযুক্তিগতভাবে সম্পূর্ণ অদক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে। বিএলও অ্যাপ বারবার ক্র্যাশ করছে। তথ্য আপলোড হচ্ছে না বা ভুল দেখাচ্ছে। সার্ভার সাড়া দিচ্ছে না। প্রযুক্তিগত দিকটি ভেঙে পড়লে পুরো প্রশাসনিক কাঠামো থমকে যায়। যেটি সবচেয়ে উদ্বেগজনক, বিএলও-দের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ না দিয়ে তাঁদের দিয়ে অত্যন্ত জটিল ডিজিটাল কাজ করানো হচ্ছে। ফলে, তথ্য ভুল হচ্ছে, নোটিস জারি হচ্ছে, সাধারণ মানুষকে শুনানিতে হাজির হতে হচ্ছে, বিভ্রান্তি অস্বাভাবিক ভাবে বাড়ছে। চন্দ্রিমার মতে, প্রতি পাঁচ জনের মধ্যে চার জনকেই শুনানিতে ডাকা হলে সেটি মানুষের উপর অযথা চাপ তৈরি করে। এটি প্রশাসনের কর্মক্ষমতার ঘাটতিকে প্রকাশ করে।



