Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজ্যে ফের আলোচনার কেন্দ্রে বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO News) কাজের চাপ। পাণ্ডুয়ার এক মহিলা BLO-র কান্নায় ভেঙে পড়ার ভিডিও ঘিরে ব্যাপক শোরগোল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে-একজন স্কুলশিক্ষিকা, পাশাপাশি BLO-র দায়িত্ব পালন করা সুমিতা মুখোপাধ্যায় মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন। ব্লক অফিসে দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখা, সার্ভার সমস্যার কারণে কাজ সম্পন্ন না হওয়া এবং উপরতলার কর্তাদের লাগাতার চাপ-এ সব মিলিয়েই তিনি অসহায় হয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “আমি আর পারছি না।”
ব্লক অফিসে ফের ডেকে পাঠানো (BLO News)
সুমিতার দাবি, শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি নির্ধারিত কাজ শেষ করার চেষ্টা (BLO News) করছিলেন। প্রায় ৩০০ জনের তথ্য অনলাইনে আপডেট করেও নাকি তিনি ব্লক অফিসে ফের ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছে তাঁকে আবারও অনলাইন এন্ট্রির নির্দেশ দেওয়া হলেও প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে কাজ এগোয়নি। অভিযোগ-যাঁদের কাছে তিনি সাহায্য চেয়েছিলেন, তাঁদের কেউই সাড়া দেননি।
বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে (BLO News)
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের সূত্রের বক্তব্য (BLO News) আলাদা। তাঁদের দাবি, যেসব BLO-র কাজের অগ্রগতি তুলনামূলক কম, তাঁদের টেকনিক্যাল সহায়তা দিতে অফিসে ডেকে নেওয়া হচ্ছে। সার্ভার সমস্যার কারণে কিছুটা অপেক্ষা করতে হয়েছিল বলেই মনে করা হচ্ছে। অসুস্থতার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেও কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

মৃত্যুর জন্য কমিশন দায়ী
ঠিক এমনই সময়ে নদিয়া থেকে সামনে এল আরও ভয়াবহ অভিযোগ। চাপড়া অঞ্চলের এক BLO-রিঙকু তরফদার-অস্বাভাবিকভাবে মৃত অবস্থায় উদ্ধার হন নিজের ঘর থেকে। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চরম কাজের চাপে ভুগছিলেন তিনি। ঘটনাস্থল থেকে যে সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে বলে অভিযোগ, তাতে লেখা রয়েছে-কাজের অমানবিক চাপ আর সহ্য হচ্ছিল না, এবং তাঁর মৃত্যুর জন্য কমিশন দায়ী।
আরও পড়ুন: Weather Update: নিম্নচাপেই কি উধাও হচ্ছে এ বছরের শীত?
কৃষ্ণনগরের ষষ্ঠীতলায় বাড়ি রিঙকুর। পেশায় তিনি ছিলেন এক পার্শ্বশিক্ষিকা। পরিবারের বক্তব্য-স্বল্প বেতন, অতিরিক্ত দায়িত্ব, আর লাগাতার তদ্বির-সবকিছুই শেষ পর্যন্ত তাঁকে মানসিকভাবে দুর্বল করে দেয়। সুইসাইড নোটে নাকি আরও উল্লেখ ছিল-পরিশ্রম অনুযায়ী কোনও স্বীকৃতি নেই, তবু কাজের চাপ থেকে মুক্তি মেলেনি। এটাই বড় প্রশ্ন -২০২৬-এর নির্বাচনের আগে এই চাপ কি আরও বাড়বে, নাকি কমিশন ও প্রশাসন BLO-দের কাজের পরিবেশ নিয়ে নতুন করে ভাববে? জনমতের নজর এখন সেদিকেই।


