Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজ্য-রাজনীতির অন্যতম মুখ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu vs Mamata) ফের তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করে নতুন করে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন। মুর্শিদাবাদের বড়ঞায় ‘পরিবর্তন সংকল্প সভা’-য় দাঁড়িয়ে তিনি ঘোষণা করেন-আগামী ভোটে তৃণমূলকে “শূন্যে নামিয়ে আনা” তাঁর লক্ষ্য। শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁরই গড় ভবানীপুরে হারানোর আশ্বাস দেন তিনি।
কী বলেন তিনি? (Suvendu vs Mamata)
শুভেন্দুর কথায়, “আমি ভয় পাই না। এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Suvendu vs Mamata) পরাজিত করেছি, আবারও তা করব।” তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্য রাজনীতিকে ব্যক্তিগত লভ্যাংশের ব্যবসায় পরিণত করেছে এবং মানুষকে বিভাজন করার রাজনীতি চালাচ্ছে। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গে এখন যে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, তা পাল্টাতে হলে প্রয়োজন শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিরোধ, আর সেই দায়িত্ব নিতে বিজেপি প্রস্তুত।

পাল্টা সুর চড়িয়েছে তৃণমূল (Suvendu vs Mamata)
শুভেন্দুর এই চ্যালেঞ্জের পরই পাল্টা সুর চড়িয়েছে (Suvendu vs Mamata) তৃণমূল। দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন-শুভেন্দু যদি সত্যিই সাহসী হন, তবে ভবানীপুর থেকেই লড়াইয়ে নামতে হবে। তাঁর দাবি, “ক্ষমতা থাকলে দাঁড়ান। এক লাখ ভোটে হারাব। অন্য কাউকে দাঁড় করিয়ে নিজে সরে যাবেন না।” তাঁর কথায়, শুভেন্দুর ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তব থেকে অনেকটাই দূরে-বিজেপি আগামী নির্বাচনে বড় কোনও শক্তি হিসেবেই থাকছে না। একই সঙ্গে অরূপ চক্রবর্তী দাবি করেন, ২০২৬ সালে বিজেপি বিরোধীদল হিসেবে টিকেই থাকতে পারবে না। গতবার তারা যে ৭৭টি আসন পেয়েছিল, এবার তার ধারে কাছেও পৌঁছতে পারবে না বলেই মত তাঁর।

রাজনৈতিক সমীকরণ বদল
বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের একচ্ছত্র শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০১১ সালে তৃণমূলকে ক্ষমতায় আনতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তা করেছিলেন শুভেন্দুই। কিন্তু সেই রাজনৈতিক সমীকরণ বহু আগেই বদলে গেছে। এখন তিনি রাজ্যের প্রধান বিরোধী নেতা এবং তৃণমূলের পতনই তাঁর প্রধান রাজনৈতিক লক্ষ্য।

শুভেন্দুর প্রতিশ্রুতি
সভায় শুভেন্দু আরও প্রতিশ্রুতি দেন যে, ক্ষমতায় এলে শিক্ষিত যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন, পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে ফিরিয়ে আনবেন এবং একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক কাঠামো দাঁড় করাবেন। তাঁর কথায়, “লড়াই এবার আরও তীব্র হবে। বিজেপি রাজ্যে নিজেদের জায়গা আরও মজবুত করবে।”
আরও পড়ুন: Sunday Horoscope: আজ কার জীবনে আসছে সুখবর, কার জন্য সতর্কতা?
এদিকে, বাম নেতাও সুজন চক্রবর্তী দুই দলের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন-তৃণমূল এবং বিজেপি পরস্পরকে আক্রমণ করলেও বাস্তবে দু’দলই একে অপরের অস্তিত্বকেই ব্যবহার করছে। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার সময় যে সব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা আজও পূরণ হয়নি বলে তাঁর মন্তব্য। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিজেপি ত্রিপুরা বা অসমে নিজেদের প্রতিশ্রুতি কতটা পালন করতে পেরেছে?


