Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও যেন (Sheikh Hasina) ঝড় উঠেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাম্প্রতিক রায়ের পর। মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি গুরুতর মামলায় দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছে আদালত। রায় ঘোষণার মুহূর্ত থেকেই এই সিদ্ধান্ত শুধু দেশের অভ্যন্তরে নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের আবেদন (Sheikh Hasina)
রবিবার ঢাকার বিদেশবিষয়ক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন (Sheikh Hasina) জানান, রায় ঘোষণার পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আবারও আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের আবেদন পাঠিয়েছে। এর আগে রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই ভারতকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল। এ নিয়ে মোট কয়েকবার ভারতকে একই অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা। বর্তমানে শেখ হাসিনা এবং প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কমল দু’জনেই ভারতে অবস্থান করছেন।

কোটাবিরোধী ছাত্র আন্দোলন (Sheikh Hasina)
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে শুরু হওয়া কোটাবিরোধী (Sheikh Hasina) ছাত্র আন্দোলন অগস্টে গিয়ে ভয়াবহ রূপ নেয়। দেশজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও প্রাণহানির ঘটনায় পরিস্থিতি একসময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। রাষ্ট্রযন্ত্র ভেঙে পড়ার উপক্রম হলে রাজনৈতিক চাপে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন শেখ হাসিনা। তার বিদায়ের পর রাজধানী ঢাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়-বঙ্গবন্ধুর মূর্তি ভাঙচুর, গণভবনে হামলা ও লুঠপাট, প্রশাসনিক ভবন দখল-সব মিলিয়ে অরাজকতা ছড়িয়ে পড়ে পুরো দেশে।
চূড়ান্ত পরিবর্তন
এই অস্থিরতার মধ্যেই চূড়ান্ত পরিবর্তন আসে রাজনৈতিক নেতৃত্বে। দায়িত্ব গ্রহণ করে অন্তর্বর্তী সরকার। তারা ক্ষমতায় এসেই আন্দোলন চলাকালীন সহিংসতার দায় হিসেবে শেখ হাসিনা ও তার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে। তারই ধারাবাহিকতায় আসে মৃত্যুদণ্ডের রায়।
আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি
দাবি করা হয়েছে-ভারতের সঙ্গে যে প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে, তার আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানো উচিত। সেই যুক্তিতেই ভারতের কাছে নতুন নোট পাঠানো হয়েছে। তবে ভারত এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। শুধু জানানো হয়েছে, রায় সম্পর্কে তারা অবগত এবং বাংলাদেশে শান্তি, গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার বিষয়ে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ।

প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান
অন্যদিকে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশও অনেকটাই নির্ভর করবে এই প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থানের ওপর। ভারত যদি প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত নেয়, তা হলে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন মোড় নিতে পারে। আবার ভারত নীরবতা বজায় রাখলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: Daily Horoscope: শনির ঘরে শুক্র-মঙ্গলের মিলন, কার ভাগ্য়ে কী আছে লেখা?
শেখ হাসিনার সমর্থকরা এই রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করছেন। তাদের মতে, আন্দোলনের সময় যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, সেটিকে অজুহাত করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা প্রতিশোধের রাজনীতি চালাচ্ছে। তবে বর্তমান সরকার বলছে, দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থেই আদালতের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।


