Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অফ ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত এই দেশটি যেন প্রকৃতির অনবরত পরীক্ষার মঞ্চ (Indonesia Earthquake)। আগ্নেয়গিরি, ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড় সব মিলিয়ে বছরের পর বছর এই দ্বীপদেশটির জনগণকে লড়াই করেই বাঁচতে হয়। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ আবারও সেই চিত্রকেই স্পষ্ট করে তুলেছে। ঘূর্ণিঝড় সেনিয়ারের তাণ্ডবে এখনও বিপর্যস্ত দেশটি নতুন করে ভয়াবহ ভূমিকম্পের জেরে উদ্বেগে পড়েছে। একের পর এক প্রাকৃতিক অভিঘাতে সুমাত্রা দ্বীপপুঞ্জ যেন বিপদের সরণিতে দাঁড়িয়ে।

ঘূর্ণিঝড় সেনিয়ারের রোষে বিধ্বস্ত (Indonesia Earthquake)
গত কয়েক দিনে ইন্দোনেশিয়ার বহু প্রদেশ জুড়ে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ঘূর্ণিঝড় সেনিয়ারের দাপটে প্রবল বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া এবং পাহাড়ি ঢল নামায় তৈরি হয়েছে হড়পা বান। পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধস হয়ে বহু বসতি চাপা পড়ে যায়। প্রশাসন জানিয়েছে, বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার এবং ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। অনেকে নিখোঁজ, আহতের সংখ্যাও কম নয়। অগণিত মানুষ ঘরছাড়া হয়ে ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিচ্ছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলাফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘূর্ণিঝড়গুলির তীব্রতা ও স্থায়িত্ব যে বৃদ্ধি পেয়েছে, এই বিপর্যয় তারই একটি কঠিন উদাহরণ।

নতুন আতঙ্কের সূচনা (Indonesia Earthquake)
ঘূর্ণিঝড়ের ধকল সামলানোর আগেই বৃহস্পতিবার সকালে আচেহ প্রদেশের কাছে ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল সুমাত্রা। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৬.৩। ভূমিকম্পবিদদের মতে, এটি একটি অগভীর ভূমিকম্প, কারণ এর কেন্দ্রস্থল ভূগর্ভের মাত্র ১০ কিমি নিচে। সাধারণত অগভীর ভূমিকম্পে ধ্বংসের সম্ভাবনা বেশি থাকে, যদিও সৌভাগ্যক্রমে এবার বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর এখনো আসেনি। ভূমিকম্পের পর ভারতের আন্দামান অঞ্চলেও সতর্কতা জারি করা হয়। তবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির মতে, ভূমিকম্পটি সুনামির সম্ভাবনা তৈরি করেনি। রিং অফ ফায়ারের একদম সন্নিকটে হওয়ায় ইন্দোনেশিয়ায় এমন কম্পন স্বাভাবিকই বটে, কিন্তু ঘূর্ণিঝড়ের পরপরই এই ভূমিকম্প দেশটিকে আরও জটিল সংকটে ফেলেছে।
প্রশান্ত মহাসাগরের রিং অফ ফায়ার (Indonesia Earthquake)
ইন্দোনেশিয়ার ভূগোল তাকে প্রকৃতিগতভাবে এক বিপজ্জনক অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। প্যাসিফিক রিং অফ ফায়ারের অংশ হওয়ায় এখানে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুত্পাত ও ভূমিকম্প কার্যত নিত্যদিনের ঘটনা। পৃথিবীর মোট আগ্নেয়গিরির ৭৫ শতাংশ এবং বড় অংশের ভূমিকম্প এই অঞ্চলে ঘটে থাকে। ফলে ইন্দোনেশিয়ার মানুষকে প্রকৃতির সঙ্গে নিয়মিত যুদ্ধ করেই জীবনযাত্রা গড়ে তুলতে হয়। ভূমিকম্পের পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপও বাড়ছে। সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে ঘূর্ণিঝড় এখন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে, ফলে দেশটির জনজীবনে ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা প্রতি বছরই বেড়ে চলেছে।
প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ (Indonesia Earthquake)
এই মুহূর্তে ইন্দোনেশিয়ার প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হ’ল, বিপর্যস্ত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া, নিখোঁজদের উদ্ধার, সম্ভাব্য নতুন বিপদের জন্য এলাকাগুলিকে প্রস্তুত রাখা, আচেহ, সুমাত্রা এবং সংলগ্ন অঞ্চলের বহু মানুষ এখনও বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। বহু গ্রাম ও শহরের যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বন্ধ রয়েছে স্কুল ও বাজার। উদ্ধারকর্মীরা ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতি সামলাতে ব্যস্ত থাকা অবস্থায় ভূমিকম্প পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
আরও পড়ুন: Sholay Screening Cancelled: শেষমুহূর্তে কেন থেমে গেল ‘শোলে’-র গোল্ডেন জুবিলি স্ক্রিনিং?
ভয় কি কাটবে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্দোনেশিয়ায় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সংখ্যা আগামী বছরগুলোতে আরও বাড়তে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি, এবং ভূমিকম্পপ্রবণ ভৌগোলিক অবস্থান সব মিলিয়ে দেশটি এমনিতেই ঝুঁকির মুখে। তবে ইতিবাচক দিক হলো, ইন্দোনেশিয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রযুক্তিগতভাবে অনেক এগিয়েছে। আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, দ্রুত উদ্ধার অভিযান এবং আন্তর্জাতিক সহায়তার মাধ্যমে দেশটি বিপর্যয়ের অভিঘাত কমানোর চেষ্টা করছে।



