Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আধুনিক বিশ্বে আইটি পরিষেবার পরিধি যত বড় হচ্ছে, ততই যুক্তরাষ্ট্রের H-1B ভিসা ভারতের আইটি শিল্পের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে (National Foundation For American Policy)। গত দুই দশক ধরে ভারতীয় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়াররা মার্কিন প্রযুক্তি খাতে নেতৃত্বের জায়গা ধরে রেখেছেন। কিন্তু ২০২৫ সালে এসে দেখা গেল, সেই দরজা আগের মতো খোলা নেই। কঠোর অভিবাসন নীতি, প্রশাসনিক কড়াকড়ি এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগে নতুন বাধা তৈরি করে দিয়েছে মার্কিন সরকার। এর ফলে গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন H-1B ভিসা অনুমোদন পেল ভারতীয় কোম্পানিগুলি। এই পরিস্থিতি শুধু শিল্প নয়, ভবিষ্যৎ আইটি পেশাজীবীদের জন্যও বড় ইঙ্গিত বহন করছে।

দশ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন (National Foundation For American Policy)
২০২৫ অর্থবর্ষে সাতটি শীর্ষ ভারতীয় আইটি সংস্থা মাত্র ৪,৫৭৩টি H-1B ভিসা অনুমোদন পেয়েছে। NFAP এবং USCIS-এর যৌথ তথ্য বিশ্লেষণ বলছে, ২০১৫ সালের তুলনায় ভিসা অনুমোদন কমেছে প্রায় ৭০%। ২০২৪ সালের তুলনায় কমতির হার ৩৭%। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে, আমেরিকা বিদেশি কর্মী নিয়োগে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। NFAP এই বছরকে “H-1B অনুমোদনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে খারাপ বছর” হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
ভারতীয় আইটি কোম্পানির সংকট (National Foundation For American Policy)
২০২৫ সালে নতুন H-1B অনুমোদন পাওয়া শীর্ষ পাঁচ নিয়োগকর্তার মধ্যে TCS একমাত্র ভারতীয় সংস্থা। কিন্তু তাদের অবস্থাও বেশ চ্যালেঞ্জিং, ২০২৫ সালে প্রাথমিক কর্মসংস্থানের জন্য ভিসা অনুমোদন পেয়েছে মাত্র ৮৪৬টি। ২০২৪ সালে ছিল ১,৪৫২টি, ২০২৩ সালে ১,১৭৪টি। ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যানের হার ৪% থেকে বেড়ে ৭% হয়েছে। এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভারতীয় কোম্পানিগুলির উপর প্রশাসনিক নজরদারি আরও কঠোর হচ্ছে।
অন্যান্য ভারতীয় সংস্থার অবস্থা আরও শোচনীয়
শীর্ষ ২৫ নিয়োগকর্তার তালিকায় মোটে তিনটি ভারতীয় কোম্পানি রয়েছে। ইনফোসিস, উইপ্রো, টেক-মাহিন্দ্রার মতো কোম্পানিগুলির ভিসা অনুমোদন সংখ্যাও আগের তুলনায় অনেক কম। এটি স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে, তাদের আবেদনে যাচাই-বাছাই বেড়েছে মার্কিন বাজারে ভারতীয় আউটসোর্সিং কোম্পানিগুলির প্রভাব কমছে
প্রযুক্তি জায়ান্টদের উত্থান (National Foundation For American Policy)
২০২৫ সালের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো, এই প্রথমবার নতুন H-1B অনুমোদনে শীর্ষ চারটি স্থান দখল করেছে আমেরিকান টেক জায়ান্টরা, Amazon, Meta, Microsoft, Google এটি দুটি বাস্তবতা সামনে আনে, মার্কিন কোম্পানিগুলি দক্ষ বিদেশি কর্মী নিতে আগ্রহী। কিন্তু ভারতীয় আউটসোর্সিং কোম্পানিগুলিকে তারা আগের মতো প্রাধান্য দিচ্ছে না। এভাবেই ভারতের আইটি শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে।

অভিবাসন নীতির কড়াকড়ি এবং প্রশাসনিক শর্ত
বিশ্লেষকদের মতে কয়েকটি কারণ এই পতনের জন্য সরাসরি দায়ী,
১. ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি
ট্রাম্প পুনর্নির্বাচনের পর থেকেই বিদেশি কর্মী নিয়োগে নতুন সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। উদাহরণ, H-1B ভিসা আবেদনে অতিরিক্ত প্রশ্ন, চাকরির বেতন-মান যাচাই, আউটসোর্সিং কোম্পানিকে আগে থেকেই সন্দেহের চোখে দেখা
২. আবেদন যাচাইয়ের ধাপ কঠিন হওয়া
USCIS এখন প্রতিটি আবেদনকে, কাজের প্রযুক্তিগত যোগ্যতা, সংস্থার প্রকল্পের সত্যতা, কর্মীর কাজের সুস্পষ্ট প্রয়োজন
এসব মানদণ্ডে কঠোরভাবে যাচাই করছে।
৩. আউটসোর্সিং মডেলের উপর অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ
ভারতীয় কোম্পানিগুলির ক্ষেত্রে বিভিন্ন ক্লায়েন্ট প্রজেক্টে ডিপ্লয়মেন্ট সংক্রান্ত কঠোর তথ্য জমা দিতে হচ্ছে।
এই প্রক্রিয়া অনেক সময় আবেদন প্রত্যাখ্যানের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
আরও পড়ুন: America: স্টকটনে পারিবারিক অনুষ্ঠানে গুলি: নিহত ৪, আহত ১৪

ভারতীয় আইটি শিল্পে প্রভাব (National Foundation For American Policy)
America-dependent প্রজেক্টে নিয়োগ কমছে
H-1B সংকটের কারণে ভারতীয় কোম্পানিগুলি, মার্কিন কর্মী নিয়োগ বাড়াচ্ছে, ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ডিপ্লয়মেন্ট কমাচ্ছে, অফশোর ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের উপর জোর দিচ্ছে, ফলে ভারতীয় কর্মীদের বিদেশে কাজের সুযোগ দ্রুত কমে যাচ্ছে।
নতুন আইটি পেশাজীবীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
প্রতি বছর লাখো ছাত্র H-1B ভিসার আশা নিয়ে বিদেশে পড়তে যায়। কিন্তু নতুন পরিস্থিতি বলছে, OPT বা STEM OPT থাকলেও H-1B পাওয়ার সুযোগ আগের তুলনায় অনেক কম এতে ভারতীয় মেধাবীদের একটি বড় অংশ অন্য দেশকে লক্ষ্যবস্তু করছে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি।
প্রভাব পড়ছে ভারতীয় অর্থনীতিতে
আইটি সেক্টরে রপ্তানি আয়ের বড় অংশই আসে মার্কিন বাজার থেকে। H-1B অনুমোদন কমলে, প্রকল্প ডেলিভারি ব্যয় বাড়ে, দক্ষ কর্মী পরিবহনে সময় লাগছে, আউটসোর্সিং লাভজনকতা কমছে যা সামগ্রিকভাবে ভারতীয় আইটি শিল্পকে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে দিচ্ছে।



