Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দিল্লির দূষণের ছবি এখন আর কারও অজানা নয় (Polluted Air Toxicity)। শীত নামলেই রাজধানীর আকাশ ধোঁয়ায় ঢেকে যায়, খালি চোখে দৃষ্টিসীমা কমে আসে, আর শ্বাসপ্রশ্বাসে দেখা দেয় স্পষ্ট অস্বস্তি। কিন্তু এ বছর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক কারণ, দিল্লিকে কেন্দ্র করে আলোচনার মাঝে নীরবে দূষণের তালিকায় দ্রুত উপরে উঠে এসেছে কলকাতা। সেন্ট্রাল পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডের (CPCB) সর্বশেষ তথ্য বলছে নভেম্বরে বায়ুদূষণের নিরিখে ভারতের মধ্যে কলকাতা পঞ্চম স্থানে।

কলকাতার দূষণের চিত্র (Polluted Air Toxicity)
CPCB–র হিসেব অনুযায়ী, নভেম্বরে কলকাতার বাতাসে PM ২.৫ এর মাসিক গড় ঘনত্ব ছিল ৮২ মাইক্রোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার, যা কেন্দ্রীয়ভাবে নির্ধারিত নিরাপদ সীমা ৪০-এর দ্বিগুণেরও বেশি। PM ২.৫ হলো বায়ুদূষণের সবচেয়ে ক্ষতিকর কণা অতি সূক্ষ্ম, চোখে দেখা যায় না, কিন্তু সহজেই প্রবেশ করে শ্বাসনালী, ফুসফুস এমনকি রক্তপ্রবাহ পর্যন্ত। ফলে হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট, ব্রঙ্কাইটিস, এবং দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ ও ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।
দিল্লি শীর্ষে, কলকাতা পঞ্চম (Polluted Air Toxicity)
নভেম্বরের দূষণ তালিকায় সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে দিল্লি।
- দিল্লি: মাসিক গড় PM 2.5, ২১৫ মাইক্রোগ্রাম
- ভুবনেশ্বর: ৯২
- ভোপাল: ৮৮
- জয়পুর: ৮৪
- কলকাতা: ৮২
এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছে যে দিল্লির পাশাপাশি পূর্ব ভারতের এই মহানগরীতেও বায়ুদূষণ ভয়াবহ মাত্রায়।

দূষণ বৃদ্ধির কারণ (Polluted Air Toxicity)
শীতকালে দূষণ বাড়ায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে ইনভার্শন। তাপমাত্রা কমে গেলে বাতাস ভারী হয় এবং দূষিত কণা মাটির কাছাকাছি আটকে থাকে। ফলে শহরের ওপর তৈরি হয় ধোঁয়াশা বা ‘স্মগ’-এর স্তর, যা দূষণ ছড়িয়ে দেয় না বরং আটকে রাখে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় মানবসৃষ্ট নানা কারণ, রাস্তায় বাড়তে থাকা গাড়ির ধোঁয়া, কারখানা ও শিল্পাঞ্চলের নির্গমন, আবর্জনা, প্লাস্টিক বা বর্জ্য পোড়ানোর ধোঁয়া, নির্মাণকাজ থেকে সৃষ্টি হওয়া ধুলিকণা

আরও পড়ুন: Khaleda Zia: এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সের জটিলতায় খালেদা জিয়ার লন্ডনযাত্রা ফের স্থগিত!
‘আমাদের একার হাতে সমাধান নয়’
পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের চেয়ারম্যান কল্যাণ রুদ্র স্পষ্টভাবে বলেছেন, “আমাদের প্রতিবেশীরা বাতাস পরিষ্কার না রাখলে আমরা তা পেতে পারি না।” তিনি আরও ব্যাখ্যা করেছেন যে, উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমি দিয়ে দূষিত বাতাস কলকাতার দিকে আসে। এর সঙ্গে কলকাতার নিজস্ব দূষণ যোগ হয়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তুলছে। অর্থাৎ, দিল্লি বা পাঞ্জাব–হরিয়ানার দূষণের প্রভাব সরাসরি পড়ছে গঙ্গা অববাহিকার শহরগুলিতে, কলকাতাসহ।



