Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আন্তর্জাতিক কূটনীতি, ক্রীড়া রাজনীতি এবং ব্যক্তিগত প্রভাব তিনের মিশেলে এক অভিনব ঘটনার জন্ম (Donald Trump Peace Prize)। ফিফার সদ্য তৈরি হওয়া ‘শান্তি পুরস্কার’-এর প্রথম প্রাপক হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নোবেল শান্তি পুরস্কার না পেলেও ফিফার মঞ্চে দাঁড়িয়ে যেন স্বপ্নপূরণের স্বাদ পেলেন তিনি। তবে এই সম্মান ঘোষণার পরই বিতর্কের ঝড় উঠেছে আন্তর্জাতিক মহলে।

ফিফার মঞ্চে স্বপ্নপূরণের দৃশ্য (Donald Trump Peace Prize)
ওয়াশিংটনের জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর পারফর্মিং আর্টসে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফুটবলের গ্রুপবিন্যাস অনুষ্ঠানে ফিফা প্রধান জিয়ান্নি ইনফ্যান্টিনো ট্রাম্পের হাতে শান্তি পুরস্কার তুলে দেন। সদ্য চালু হওয়া এই পুরস্কার ক্রীড়াজগতের জন্য নতুন অধ্যায়ের সূচনা। আর ট্রাম্পের জন্য এটি যেন বহুদিনের প্রত্যাশা পূরণের মুহূর্ত, যদিও অনেকে তা ব্যাখ্যা করছেন অন্যভাবে। অনুষ্ঠানের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত ঝলমলে ফুটবল, রাজনীতি এবং কূটনীতির এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ। ট্রাম্পকে কেন্দ্র করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু তৈরি হওয়া সেদিনের অনুষ্ঠানকে ঘিরে যেন এক নতুন সংবাদচক্র শুরু করে।

‘দুধের স্বাধ ঘোলে মেটানো’ (Donald Trump Peace Prize)
ফিফার এই পদক্ষেপকে অনেকেই মানতে পারছেন না। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরস্কার আশা করেছিলেন বহু বছর ধরে। কিন্তু নোবেলের হাত ধরে তা সম্ভব না হওয়ায় ফিফার এই পুরস্কার যেন এক ধরনের ‘সমান্তরাল নোবেল’ হয়ে উঠেছে তাঁর জন্য। সমালোচকদের বক্তব্য, এই পুরস্কার ঘোষণার সময়সূচিই সন্দেহজনক, ইনফ্যান্টিনোর সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা বহুবার সামনে এসেছে, পুরস্কারের আগের দিনই ক্যারিবিয়ান সাগরে মার্কিন সেনা হামলায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে, যা শান্তির ভাবনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই সব ঘটনার পর অনেকেই বলছেন, ট্রাম্পের শান্তি পুরস্কার যেন ‘দুধের স্বাধ ঘোলে মেটানোর’ মতই এক তৎপরতা স্বপ্নপূরণের শর্টকাট পথ।

নোবেল শান্তি পুরস্কার (Donald Trump Peace Prize)
অক্টোবর মাসে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। তাঁর আন্দোলন বিশ্বব্যাপী আলোচনার বিষয় হলেও ট্রাম্পের আবেদন নাকচ করে নোবেল কমিটি। এরপর নভেম্বরেই ফিফা চালু করে নতুন ‘শান্তি পুরস্কার’। এই দুই ঘটনা যেন অদ্ভুতভাবে জোড়া লাগায় ট্রাম্পের ‘মিসড নোবেল’ ভাবমূর্তিকে। সমালোচকদের মতে, এই পুরস্কার তৈরিই রাজনৈতিক সংকেত যেখানে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও ক্রীড়ার সংঘাতের রেখা স্পষ্ট।
ট্রাম্পের আত্মপ্রচার নাকি বাস্তবতা? (Donald Trump Peace Prize)
অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত ভিডিওতে ট্রাম্পকে দেখানো হয় একাধিক সংঘাত-পরিস্থিতিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার দূত হিসেবে। সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর বৈঠকের দৃশ্যও উঠে আসে। ট্রাম্পের বক্তব্য ছিল, “সারা বিশ্বে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বাঁচিয়েছি। কঙ্গোতে এক কোটি মানুষ মারা গিয়েছিলেন। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে আরও এক কোটি মানুষ মারা যেতেন। ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধও আমরা শুরু হওয়ার আগেই থামিয়ে দিয়েছি।” এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত। প্রশ্ন উঠেছে, সত্যিই কি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরাসরি হস্তক্ষেপে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ থেমে গিয়েছিল? নাকি এটি রাজনৈতিক প্রচারেরই অংশ? কূটনীতির নেপথ্যচিত্র আসলে কতটা আলাদা? বহু বিশেষজ্ঞই মনে করেন, ট্রাম্প নিজের ভূমিকাকে অতিরিক্ত উঁচু করে দেখানোর প্রবণতা এ দিনও বজায় রাখেন।

আরও পড়ুন: Khaleda Zia: এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সের জটিলতায় খালেদা জিয়ার লন্ডনযাত্রা ফের স্থগিত!
পুরনো অভিযোগের পুনরাবৃত্তি
ফিফা দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, পক্ষপাতিত্ব এবং বিতর্কে জর্জরিত। কয়েদাবদ্ধ প্রাক্তন সভাপতি সেপ ব্লাটার থেকে শুরু করে বর্তমান প্রধান ইনফ্যান্টিনো প্রতিবারই উঠে আসে নতুন অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে একটি নতুন ‘শান্তি পুরস্কার’ তৈরির সিদ্ধান্ত এবং প্রথম প্রাপক হিসেবে ট্রাম্পের নাম ঘোষণাকে অনেকেই মনে করছেন রাজনৈতিক কৌশল। তাদের মতে, ফুটবল সংস্থার সঙ্গে বিশ্বশক্তির সখ্যতা স্বার্থপরতাকে বাড়াতে পারে, পুরস্কারটি শান্তির চেয়ে বরং কূটনৈতিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রতীক, এই ধরণের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে ফিফার নিরপেক্ষতার প্রশ্নকে আরও জটিল করে তুলবে।



