Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দেশজুড়ে বিমান পরিবহণে চলা নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার মধ্যেই লখনৌ বিমানবন্দর সাক্ষী থাকল এক মর্মান্তিক ঘটনার (Flight Cancellation)। সূত্রের খবর, ৪২ বছরের অনুপ পান্ডে নামে এক যাত্রী তীব্র মানসিক চাপ ও শারীরিক অসুস্থতার জেরে প্রাণ হারিয়েছেন। ইন্ডিগোর ধারাবাহিক ফ্লাইট বাতিল ও অনিশ্চয়তার কারণে দেশজুড়ে যেখানে হাহাকার, তারই শিকার হলেন তিনি।

এসে আর ফেরা হলো না ঘরে (Flight Cancellation)
বেঙ্গালুরুর একটি পানীয় সংস্থায় ফাইনান্স এক্সিকিউটিভ অনুপ পান্ডে পাঁচ দিন আগে কানপুরে এসেছিলেন এক আত্মীয়ের শেষকৃত্যে। এর পর রবিবার রাতে কানপুর থেকে গাড়িতে লখনৌ আসেন। রাত ১০:৩০‐এর এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটে দিল্লি হয়ে বেঙ্গালুরু ফেরার কথা ছিল তাঁর। বাড়িতে তাঁর স্ত্রী ও সন্তান অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু বিমানবন্দরে প্রবেশের আগেই সবকিছু বদলে যায়। পার্কিংয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে যান অনুপ। জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়েন।
চিকিৎসা পেলে বাঁচানো যেত? (Flight Cancellation)
সূত্রের খবর, দ্রুত তাঁকে লখনৌয়ের লোকবন্ধু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও ডাক্তাররা জানান হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই মৃত্যু হয়েছে। অনুপের ভাই অনিল পান্ডের অভিযোগ, “বিমানবন্দরে যদি তাৎক্ষণিক চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকত, হয়তো অনুপকে বাঁচানো যেত।” অনুপ নাকি অত্যন্ত উদ্বেগে ছিলেন দেশজুড়ে ইন্ডিগোর ফ্লাইট বাতিলের মধ্যে তিনি সময়মতো বেঙ্গালুরু ফিরতে পারবেন তো? ছুটির মেয়াদ শেষ, স্ত্রী‐সন্তান বেঙ্গালুরুতে একা এই দুশ্চিন্তাই তাঁকে আরও চাপে ফেলেছিল বলেই পরিবার মনে করছে।

ফ্লাইটের বদলে সড়কপথে ফেরত যাত্রা (Flight Cancellation)
যে এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইটে ওঠার কথা ছিল অনুপের, সেটি কোনোরকম দেরি ছাড়াই সময়মতো উড়ে যায়।
কিন্তু সেই বিমানে উঠলেন না তিনি উড়ানের জটিলতা, চাপ, উদ্বেগের ঘূর্ণিতে আকস্মিক মৃত্যু তাঁকে থামিয়ে দিল। সূত্রের খবর, বেঙ্গালুরু থেকে কানপুরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন অনুপের স্ত্রী ও সন্তান। উড়ান বিভ্রাটের আতঙ্কে তাঁরা আর আকাশপথে যাত্রা করার ঝুঁকি নেননি; বেছে নিয়েছেন সড়কপথ। এই দৃশ্যই দেশের বিমান পরিষেবার বর্তমান অনিশ্চয়তার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে।

আরও পড়ুন: Donald Trump Peace Prize: নোবেল না পেলেও ফিফার পুরস্কার! ট্রাম্প কি স্বপ্নপূরণের শর্টকাট নিলেন?
কারণে FDTL ও পাইলট সংকট
নতুন FDTL (Flight Duty Time Limit) নিয়ম এবং তীব্র পাইলট সংকটের ফলে ইন্ডিগো গত কয়েক দিনে হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল করেছে কিংবা সময়সূচি পাল্টেছে। এর প্রভাব পড়েছে অন্যান্য সংস্থাতেও দেশজুড়ে চলছে যাত্রীদের যন্ত্রণার পর্ব। যেখানে লক্ষ লক্ষ যাত্রী বিমানবন্দরে অসহায় অবস্থায় অপেক্ষায়, সেখানে এই মৃত্যু যেন সেই বিশৃঙ্খলার সবচেয়ে নির্মম উদাহরণ।



