Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: জাপানের আবহাওয়া সংস্থা সোমবার জানায়, হোনশুর উত্তরতম প্রিফেকচার আওমোরির উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে আঘাত হানা ৭.৬ মাত্রার ভূমিকম্প দেশের জন্য বড় বিপদের সংকেত বহন করছে (Japan Earthquake)। এর পরেই মঙ্গলবার জারি করা হয় মহাভূমিকম্পের সর্বোচ্চ সতর্কতা। ২০২২ সালে এই সতর্কতা ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর এই প্রথম এত উচ্চ মাত্রার বিপদ সংকেত জনানো হল।

কতটা ভয়াবহ? (Japan Earthquake)
মহাভূমিকম্প বলতে রিখটার স্কেলে ৮.০ বা তার বেশি মাত্রার কম্পনকে বোঝায়। জাপান প্রশাসন সতর্ক করেছে, সম্ভাব্য এই কম্পন হোক্কাইডো থেকে চিবা পর্যন্ত বিস্তৃত প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে মহাসুনামি সৃষ্টি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢেউয়ের উচ্চতা ১০ ফুট বা তারও বেশি হতে পারে।
উপকূলবাসীদের জন্য জরুরি নির্দেশ (Japan Earthquake)
আবহাওয়া সংস্থার নির্দেশ,
- সপ্তাহজুড়ে সতর্কতা বজায় রাখা
- স্বল্প সময়ের নোটিশে ঘর ছেড়ে সরে যেতে প্রস্তুত থাকা
- নিরাপদ গন্তব্যে যাওয়ার পথ আগে থেকেই চিহ্নিত করে রাখা
- জরুরি সরঞ্জাম, খাবার, জল ও বহনযোগ্য স্যানিটেশন ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা
- বাড়ির ভিতরে ভারী আসবাবপত্র স্থির করে রাখা
সরকার জানিয়েছে, যেকোনো সময় বড় ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে এবং আফটারশকও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
সোমবারের ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি (Japan Earthquake)
শক্তিশালী ভূমিকম্পে কমপক্ষে ৩৩ জন আহত হয়েছেন। প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলে ৭ থেকে ২৭ ইঞ্চি উচ্চতার ঢেউ আঘাত হানার খবর মিলেছে। সরকারি সূত্রে জানা যায়, বিশেষজ্ঞরা সম্ভাব্য ১০ ফুট উচ্চতার ঢেউয়ের পূর্বাভাস দেওয়ায় উপকূলবাসীদের উচ্চভূমিতে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৯০ হাজার মানুষকে ইতিমধ্যেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী সানে তাকাইচি ঘোষণা করেছেন, “আমরা মানুষের জীবন রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি। প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” তিনি জনগণকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া, আফটারশক মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার এবং কম্পন অনুভব করা মাত্র নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
নানকাই খাতের পুরনো সতর্কবার্তা (Japan Earthquake)
এপ্রিল মাসে জাপান সরকার নানকাই ভূতাত্ত্বিক খাত বরাবর সম্ভাব্য মহাকম্পের বিষয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল। সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী, সম্ভাব্য কম্পন মাত্রা: ৮.০ বা তারও বেশি, সম্ভাব্য প্রাণহানি: প্রায় ৩ লাখ মানুষ, সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি: দুই ট্রিলিয়ন ডলার নানকাই খাতে গত ১,৪০০ বছরে প্রায় প্রতি ১০০ থেকে ২০০ বছর অন্তর এই ধরনের মহাভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। সর্বশেষ বড় কম্পনটি হয়েছিল ১৯৪৬ সালে। ২০১২-১৩ সালে প্রকাশিত রিপোর্টেও সম্ভাব্য মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৩ লক্ষ ২৩ হাজার।
আরও পড়ুন: India: যশস্বীর শতরানে সিরিজ জয় ভারতের! রো-কো জুটির কামব্যাকে মান বাঁচল গম্ভীরের
জাপানের প্রস্তুতি কতটা যথেষ্ট?
জাপান পৃথিবীর সবচেয়ে প্রযুক্তি-নির্ভর এবং দুর্যোগ-প্রস্তুত দেশগুলির একটি। তবু প্রকৃতির সামনে অত্যাধুনিক ব্যবস্থাপনা কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাভূমিকম্প হলে, বিশাল সুনামি, বিদ্যুৎ, পানি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়া, লাখো মানুষের বাস্তুচ্যুতি একঝটকায় ঘটতে পারে।, সরকার তাই জনগণকে ভয় না পেয়ে সতর্ক, সচেতন এবং প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।



