Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: এক জন্মদিনের অনুষ্ঠান মুহূর্তের মধ্যে (Police Food Poisioning) আতঙ্কে বদলে গেল। গাজরের হালুয়া খাওয়ার পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেন রাজস্থান পুলিশের একাধিক আধিকারিক ও কর্মী। ঘটনাটি ঘটেছে জয়পুরের লালকোঠি এলাকায়, রাজস্থান পুলিশের সদর দপ্তরের কাছেই। এই ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার-সহ অন্তত ১২ জন পুলিশকর্মীকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকদের অনুমান, খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণেই এই অসুস্থতা।
হালুয়া খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই একে একে অসুস্থ (Police Food Poisioning)
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গান্ধীনগর মোড়ে অবস্থিত (Police Food Poisioning) একটি মিষ্টির দোকান থেকে বৃহস্পতিবার গাজরের পুডিং বা গাজরের হালুয়া কেনা হয়। এক পুলিশকর্মীর জন্মদিন উপলক্ষে ওই মিষ্টি আনা হয়েছিল। দুপুরের দিকে রাজস্থান পুলিশের সদর দপ্তরের কাছেই আধিকারিক-সহ একাধিক পুলিশকর্মী সেই হালুয়া খান। হালুয়া খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই একে একে অসুস্থ হতে শুরু করেন তাঁরা। প্রথমে পেটে অস্বাভাবিক ব্যথা অনুভূত হয়, এরপর বমি, মাথা ঘোরা ও দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হওয়ায় দফতরের মধ্যেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে অসুস্থ পুলিশকর্মীদের জয়পুরের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
খাদ্য নমুনা পরীক্ষার রিপোর্টের অপেক্ষা (Police Food Poisioning)
এই ঘটনায় অসুস্থদের মধ্যে রয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজেশ মিল (Police Food Poisioning), মহেন্দ্র শর্মা-সহ আরও বেশ কয়েকজন আধিকারিক ও কর্মী। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, সকলেই বর্তমানে চিকিৎসাধীন এবং তাঁদের অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অধিকাংশেরই উপসর্গ ফুড পয়জনিংয়ের সঙ্গে মিল রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, হালুয়া তৈরির সময় ব্যবহৃত উপকরণ, সংরক্ষণের পদ্ধতি অথবা দীর্ঘ সময় ধরে মিষ্টি খোলা অবস্থায় থাকার কারণেও খাদ্যে জীবাণু সংক্রমণ হতে পারে। তবে নিশ্চিতভাবে কী কারণে এই বিষক্রিয়া হয়েছে, তা জানতে খাদ্য নমুনা পরীক্ষার রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা
ঘটনার খবর পেয়েই রাজস্থান পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট মিষ্টির দোকানে অভিযান চালানো হয় এবং দোকানটি সাময়িকভাবে সিল করে দেওয়া হয়েছে। দোকানে থাকা বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি, দুধজাত খাবার ও কাঁচামালের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকদেরও গোটা বিষয়টি তদন্তে যুক্ত করা হয়েছে। পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন আধিকারিক জানিয়েছেন, পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে আসার পর দোকানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খাদ্য সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে দোকান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
জয়পুর শহরে ব্যাপক চাঞ্চল্য
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জয়পুর শহরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা বাহিনীর সদস্যরা খাদ্যে বিষক্রিয়ার শিকার হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে উৎসব ও অনুষ্ঠানের মরসুমে খাবারের গুণমান ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
আরও পড়ুন: Indigo Compensation: উড়ান বাতিলে স্বস্তি, রিফান্ড দেবে ইন্ডিগো!
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি খাবার বা দীর্ঘ সময় সংরক্ষিত মিষ্টি খাওয়া থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি খাদ্য বিক্রেতাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও মান নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এদিকে, হাসপাতালে ভর্তি পুলিশকর্মীদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন তাঁদের সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যরা। প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


