Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: প্লাম কেক শুধুমাত্র কেকই নয়, এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি ও উৎসবের আবেগে ভরপুর এক ঐতিহ্যবাহী খাবার। আজ বড়দিন, নববর্ষ কিংবা বিশেষ উৎসবে প্লাম কেকের উপস্থিতি যেন অপরিহার্য, কিন্তু এর ইতিহাস বহু শতাব্দী পুরনো(Plum Cake)।
রোম থেকে এল কেক (Plum Cake)
প্লাম কেকের উৎপত্তি ধরা হয় প্রাচীন রোম সভ্যতায়। তখনকার দিনে রোমানরা মধু, বাদাম ও শুকনো ফল মিশিয়ে এক ধরনের কেক তৈরি করত, যা দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যেত। এই শুকনো ফলের মধ্যে ‘প্লাম’ বা কিশমিশ থাকায় পরবর্তীকালে এর নাম হয় প্লাম কেক। বলা যেতে পারে, ঐতিহ্যগত প্লাম কেকে তাজা প্লাম ফল থাকত না; বরং শুকনো আঙুর, খেজুর ও অন্যান্য ফলই ছিল মূল উপাদান।
ইউরোপে জনপ্রিয়তা মধ্যযুগে (Plum Cake)
মধ্যযুগে ইউরোপে প্লাম কেক জনপ্রিয়তা লাভ করে, বিশেষত ইংল্যান্ডে। সেখানে এটি ‘প্লাম পুডিং’ বা ‘ক্রিসমাস পুডিং’ নামেও পরিচিত ছিল। ব্রিটিশরা বড়দিন উপলক্ষে আগে থেকেই কেক তৈরি করত, যাতে ফল ও অ্যালকোহলের স্বাদ ভালোভাবে মিশে যায়। এই সময়ে কেকে ব্র্যান্ডি বা রাম যোগ করার রীতিও চালু হয়।
ব্রিটিশদের হাত ধরে ভারতে প্লাম কেক (Plum Cake)
ঔপনিবেশিক আমলে ব্রিটিশদের হাত ধরে প্লাম কেক ভারতে আসে। কেরালা, গোয়া ও কলকাতায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মাধ্যমে এটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ধীরে ধীরে ভারতীয় স্বাদের সঙ্গে মিলিয়ে কেকের রেসিপিতে কাজু, কিশমিশ, দেশি মশলা ও ক্যারামেল যুক্ত হয়, যা আজকের ভারতীয় প্লাম কেককে আলাদা পরিচয় দিয়েছে।
শতাব্দী পেরিয়েও প্লাম কেক জনপ্রিয় (Plum Cake)
আজ প্লাম কেক শুধু ধর্মীয় উৎসবে সীমাবদ্ধ নয়; এটি আনন্দ, উদ্যাপন ও ঐতিহ্যের প্রতীক। শতাব্দী পেরিয়েও প্লাম কেক তার ঐতিহাসিক স্বাদ ও গুরুত্ব অটুট রেখেছে।



