Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ডিসেম্বরের শুরুতেই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Russian President Putin )। ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর নামে তিনি রাশিয়াকে কার্যত ‘খণ্ডিত ইউক্রেন’ পাইয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দেন বলে অভিযোগ ওঠে। ট্রাম্পের দাবি, যুদ্ধ থামাতে গেলে কিয়েভকে কিছু ভূখণ্ড ছাড় দিতেই হবে। কিন্তু এই শান্তি উদ্যোগের মাঝেই প্রকাশ্যে এসেছে মার্কিন গোয়েন্দাদের এক চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট, যা পুরো পরিস্থিতিকে নতুন করে জটিল করে তুলেছে।

পুতিনের ‘বৃহত্তর স্বপ্ন’ (Russian President Putin )
গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রস্তুত হওয়া মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্ট সম্প্রতি বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সেই রিপোর্টে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের লক্ষ্য কেবল ইউক্রেনের কিছু অংশ দখলেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং তাঁর উদ্দেশ্য পুরো ইউক্রেন দখল করা এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পরে হারানো প্রভাব পুনরুদ্ধার করা। গোয়েন্দা বিশ্লেষণে আরও দাবি করা হয়েছে, পুতিনের উচ্চাকাঙ্ক্ষার তালিকায় ইউরোপের কিছু অঞ্চলও রয়েছে, যার মধ্যে ন্যাটো জোটভুক্ত দেশগুলিও সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে। এই মূল্যায়ন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার প্রশ্নে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা (Russian President Putin )
ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, পুতিন যুদ্ধ বন্ধ করতে আগ্রহী এবং আলোচনা সম্ভব। তাঁর মতে, বাস্তব পরিস্থিতি মেনে নিয়ে ইউক্রেনকে ডনবাস অঞ্চলের কিছু অংশ ছেড়ে দিতে হবে। ট্রাম্প সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে মস্কো সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। যুদ্ধ থামাতে হলে ইউক্রেনকে কিছু ছাড় দিতেই হবে।” কিন্তু মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে সম্পূর্ণ উল্টো কথা। রিপোর্ট অনুযায়ী, পুতিন কোনও আপসের পথে হাঁটতে রাজি নন। বরং শান্তি আলোচনাকে সময় কেনার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে আরও আগ্রাসী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করাই তাঁর লক্ষ্য।

কতটা বিপজ্জনক এই পরিকল্পনা? (Russian President Putin )
মার্কিন হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটির সদস্য মাইক কুইগলি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “গোয়েন্দা তথ্য সবসময়ই জানিয়েছে পুতিন আরও বেশি চান। ইউরোপীয় নেতারাও বিষয়টি ভালোভাবেই জানেন।” বর্তমানে রাশিয়া ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। এর মধ্যে রয়েছে, লুহানস্ক ও দোনেৎস্ক প্রদেশের বড় অংশ, শিল্পসমৃদ্ধ দনবাস অঞ্চল, জাপোরিঝিয়া ও খেরসন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ক্রিমিয়া উপদ্বীপ এই চারটি প্রদেশকে রাশিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করেছেন পুতিন। গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, এখানেই থামার কোনও পরিকল্পনা নেই তাঁর।
জেলেনস্কির অনড় অবস্থান (Russian President Putin )
ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাব অনুযায়ী, ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের যে সামান্য অংশ এখনও কিয়েভের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি স্পষ্টভাবে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। জেলেনস্কির মতে, একবার ভূখণ্ড ছাড় দিলে রাশিয়া আরও আগ্রাসী হবে। শান্তির নামে আপস মানে হবে ভবিষ্যতের আরও বড় যুদ্ধের বীজ বপন করা।
আরও পড়ুন: James Ransone Death: অভিনেতা জেম্স রেনসোনের অকালপ্রয়াণ, হঠাৎ কী এমন হল?
শান্তি প্রক্রিয়া কি আদৌ সম্ভব?
নতুন মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে শান্তি প্রক্রিয়া কার্যত আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। একদিকে ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধের জন্য আপসের কথা বলছেন, অন্যদিকে গোয়েন্দা বিশ্লেষণ বলছে পুতিনের লক্ষ্য যুদ্ধ থামানো নয়, বরং বিস্তার।



