Last Updated on [modified_date_only] by Suparna Ghosh
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সামান্য গা-হাত-পা ব্যথা, মাথা যন্ত্রণা, ম্যাচম্যাচে ভাব বা হালকা সর্দি—এই সব উপসর্গ দেখা দিলেই বহু মানুষের প্রথম ভরসা প্যারাসিটামল(Paracetamol)। জ্বর হয়েছে কি না, তা মাপার আগেই অনেকেই এই ওষুধ খেয়ে নেন। প্রায় প্রতিটি ঘরে থাকা এই ওষুধটি এতটাই সহজলভ্য যে, অনেক সময় না ভেবেই মুড়িমুড়কির মতো খেয়ে ফেলা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণা জানাচ্ছে, এই অভ্যাস ভবিষ্যতে বিপদ ডেকে আনতে পারে।
জ্বর আসলে কী?(Paracetamol)
চিকিৎসকদের মতে, জ্বর নিজে কোনও রোগ নয়, বরং শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। শরীরে জীবাণু ঢুকলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সক্রিয় হয় এবং তাপমাত্রা বাড়িয়ে জীবাণু নষ্ট করার চেষ্টা করে। এই কারণেই জ্বর আসে। কিন্তু তাপমাত্রা একটু বাড়লেই বা হালকা ব্যথা হলেই প্যারাসিটামল (Paracetamol) খেয়ে নেওয়া কি আদৌ প্রয়োজনীয়?
গবেষণায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য(Paracetamol)
গবেষকরা জানিয়েছেন, বিশেষ করে ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়সিদের মধ্যে অতিরিক্ত প্যারাসিটামল খাওয়ার প্রবণতা বেশি। এই বয়সের মানুষের উপর সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গিয়েছে, যাঁরা নিয়মিত বা বেশি মাত্রায় প্যারাসিটামল(Paracetamol) খান, তাঁদের মধ্যে পরবর্তীকালে পেপটিক আলসার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। শুধু তাই নয়, হার্টের অসুখ ও হাইপারটেনশনের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

লিভার-কিডনির জন্য কতটা ক্ষতিকর?
অতিরিক্ত প্যারাসিটামল লিভার ও কিডনির উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে বলে দাবি গবেষকদের। বেশি মাত্রায় এই ওষুধ খেলে বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা, প্রস্রাবের রং পরিবর্তন, তলপেটে তীব্র যন্ত্রণা দেখা দিতে পারে। এমনকি কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকিও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। কিছু ক্ষেত্রে অ্যালার্জির সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
আরও পড়ুন: Tulsi Tea: শীতে ফ্লু-কাশি? এবার হবে দ্রুত উপশম ঘরোয়া টোটকায়
সঠিক ডোজ জানেন তো?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক মাত্রায় খেলে প্যারাসিটামলের মতো নিরাপদ ওষুধ খুব কমই আছে। সাধারণভাবে শরীরের ওজন অনুযায়ী দিনে ১০–১৫ মিলিগ্রাম প্যারাসিটামল নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু এই মাত্রা অতিক্রম করলে তা প্রাণঘাতীও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
চিকিৎসকদের স্পষ্ট বার্তা—প্রয়োজন ছাড়া প্যারাসিটামল খাবেন না। সামান্য অসুবিধা হলেই নিজে নিজে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। আজ থেকে অসচেতনভাবে প্যারাসিটামল খাওয়ার অভ্যাস বন্ধ না করলে ভবিষ্যতে বড় বিপদের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: Joint Pain: শীতে গাঁটের ব্যথা-যন্ত্রণায় কাবু? জেনে নিন মুক্তির সহজ উপায়


