Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বড়দিনের ঠিক সময়ে নাইজেরিয়ায় আইসিস জঙ্গিদের ঘাঁটির উপর ভয়াবহ হামলা চালাল আমেরিকা (US Strikes In Nigeria)। এই সামরিক অভিযানের কথা নিজেই ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুধু তাই নয়, এই প্রত্যাঘাতকে তিনি “বড়দিনের উপহার” বলেও অভিহিত করেছেন। নিহত আইসিস জঙ্গিদের উদ্দেশে ট্রাম্পের ‘মেরি ক্রিসমাস’ শুভেচ্ছা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

আমেরিকার অভিযোগ (US Strikes In Nigeria)
দীর্ঘদিন ধরেই নাইজেরিয়ায় কট্টর ইসলামপন্থী জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে খ্রিষ্টান নিধনের অভিযোগ তুলে আসছে আমেরিকা। বিশেষ করে কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন বোকো হারাম এবং আইসিস-এর স্থানীয় শাখা সংগঠনগুলি উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ায় ব্যাপক তাণ্ডব চালাচ্ছে বলে দাবি ওয়াশিংটনের। মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, গ্রামাঞ্চলে খ্রিষ্টানদের উপর গণহত্যা, ধর্মান্তরে বাধ্য করা, গির্জা ভাঙচুর এবং অপহরণের ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। এই পরিস্থিতিকে ‘মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন’ বলে আখ্যা দিয়েছে আমেরিকা।
হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ট্রাম্প (US Strikes In Nigeria)
চলতি বছরের অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে একাধিক বক্তব্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, নাইজেরিয়ায় বসবাসকারী খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা অস্তিত্ব সংকটে ভুগছেন। সে সময়ই তিনি জঙ্গিদের সতর্ক করে বলেন, খ্রিষ্টানদের উপর অত্যাচার বন্ধ না হলে “ভয়াবহ পরিণতি” অপেক্ষা করছে। বড়দিনে চালানো এই হামলাকে সেই হুঁশিয়ারির বাস্তব রূপ বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
ট্রুথ সোশালে ট্রাম্পের বিস্ফোরক বার্তা (US Strikes In Nigeria)
হামলার পরপরই নিজের সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ দীর্ঘ পোস্ট করেন ট্রাম্প। তিনি লেখেন, “নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে আইসিস জঙ্গিদের ঘাঁটিতে বড়সড় হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। নিরীহ খ্রিষ্টানদের উপর দিনের পর দিন অত্যাচার চালাচ্ছিল এই জঙ্গিরা। আমি তাদের আগেও সতর্ক করেছিলাম খ্রিষ্টানদের নির্যাতন বন্ধ করো, নাহলে নরকে পচতে হবে।” ট্রাম্প আরও দাবি করেন, এই ধরনের নিখুঁত ও শক্তিশালী হামলা চালানোর ক্ষমতা শুধুমাত্র আমেরিকারই রয়েছে।
হিসেবে নিজেকে তুলে ধরলেন ট্রাম্প (US Strikes In Nigeria)
এই ঘটনার মাধ্যমে নিজেকে কার্যত গোটা বিশ্বের খ্রিষ্টানদের রক্ষাকর্তা হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, “ট্রাম্পের নেতৃত্বে আমেরিকা কখনও সন্ত্রাসবাদকে মাথা তুলতে দেবে না। বিশ্বের যে প্রান্তেই খ্রিষ্টানদের উপর অত্যাচার হবে, সেখানেই জঙ্গিদের গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।” পোস্টের শেষে তাঁর বিতর্কিত মন্তব্য, “সকলকে মেরি ক্রিসমাস। নিহত জঙ্গিদেরও শুভেচ্ছা জানাই।”
হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও অস্পষ্ট (US Strikes In Nigeria)
মার্কিন হামলায় ঠিক কতজন জঙ্গি নিহত হয়েছে বা জঙ্গিঘাঁটির কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে সামরিক সূত্রের দাবি, হামলা ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত ও সফল।
আরও পড়ুন:Govinda: ‘অবতার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’-এর আগেই কেন চর্চায় গোবিন্দা?
নাইজেরিয়ার সরকারের পাল্টা দাবি
উল্লেখযোগ্যভাবে, আমেরিকার বারবার অভিযোগ সত্ত্বেও নাইজেরিয়ার সরকার খ্রিষ্টান নিধনের অভিযোগ খারিজ করেছে। তাদের বক্তব্য, দেশটিতে জঙ্গি সমস্যা ধর্মীয় নয়, বরং এটি একটি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংকট। তবে বড়দিনে মার্কিন হামলার পর নাইজেরিয়া-আমেরিকা সম্পর্কের উপর এর প্রভাব কী হবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।



