Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বছরের শেষ দু’দিনে এসে দেশের আবহাওয়া যেন হঠাৎ করেই নিজের চেনা রূপ বদলে ফেলছে (Weather Update)। সাধারণত ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ মানেই শুষ্ক শীত, পরিষ্কার আকাশ ও কনকনে ঠান্ডা। কিন্তু চলতি বছরের শেষে সেই পরিচিত ছবিতে ছেদ পড়তে চলেছে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর -এর পূর্বাভাস বলছে, একাধিক সক্রিয় আবহাওয়া-সিস্টেমের প্রভাবে দেশজুড়ে শীতের পাশাপাশি বৃষ্টি, কুয়াশা ও ঝোড়ো হাওয়ার দাপট বাড়বে। এই আকস্মিক পরিবর্তনের মূল কারণ পশ্চিমী ঝঞ্ঝা, ঘূর্ণাবর্ত ও অক্ষরেখার সম্মিলিত প্রভাব।

সক্রিয় আবহাওয়া-সিস্টেম (Weather Update)
উত্তর-পশ্চিম ভারতে নতুন করে সক্রিয় হয়েছে একটি শক্তিশালী পশ্চিমী ঝঞ্ঝা। এর প্রভাবে জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডের বিস্তীর্ণ এলাকায় মেঘ জমতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে রাজধানী দিল্লি ও সংলগ্ন অঞ্চলের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে সাব-ট্রপিক্যাল ওয়েস্টার্লি জেট স্ট্রিম। এর ফলে উত্তরের শীতল হাওয়ার স্বাভাবিক প্রবাহে সাময়িক বাধা তৈরি হলেও, সামগ্রিকভাবে আবহাওয়া হয়ে উঠছে আরও অস্থির ও আর্দ্র। অন্যদিকে, উত্তর কেরল ও সংলগ্ন এলাকায় একটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণ-পূর্ব আরব সাগরের উপর অবস্থান করা একাধিক অক্ষরেখা দক্ষিণ ভারতের আবহাওয়াকে বৃষ্টিপ্রবণ করে তুলছে। এই সমস্ত সিস্টেম একসঙ্গে কাজ করায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভিন্ন ভিন্ন আবহাওয়ার ছবি উঠে আসছে।
উত্তর ও মধ্য ভারতের শীত ও কুয়াশা (Weather Update)
উত্তর ও মধ্য ভারতের একাধিক রাজ্যে শীতের প্রকোপ আরও তীব্র হচ্ছে। ওড়িশায় শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিহার ও উত্তরপ্রদেশে দিনের বেলাতেও শীতল পরিস্থিতি বজায় থাকবে, যাকে আবহাওয়ার পরিভাষায় ‘কোল্ড ডে’ বলা হয়। সূর্যের আলো কম পাওয়ায় এই রাজ্যগুলিতে শীতের অনুভূতি আরও বাড়বে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঘন কুয়াশার সমস্যা। দিল্লি, পঞ্জাব, হরিয়ানা, চণ্ডীগড় ও উত্তরপ্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ঘন কুয়াশা দৃশ্যমানতাকে বিপজ্জনক মাত্রায় নামিয়ে আনতে পারে। একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যেতে পারে হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা এবং উত্তরবঙ্গের কিছু অংশে। ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক, রেল ও বিমান চলাচলে ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
উত্তর-পূর্ব ভারতের আবহাওয়া পরিস্থিতি (Weather Update)
উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতেও আগামী কয়েকদিন আবহাওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে চলেছে। অরুণাচল প্রদেশ, অসম, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম ও ত্রিপুরায় ঘন কুয়াশা ও আর্দ্র ঠান্ডার দাপট থাকবে। পাহাড়ি ও বনাঞ্চল ঘেরা এই এলাকায় কুয়াশা দ্রুত জমে ওঠায় জনজীবনে বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
দক্ষিণ ও দ্বীপাঞ্চলে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া (Weather Update)
দেশের দক্ষিণাংশে চিত্রটা একেবারেই আলাদা। কেরল, তামিলনাড়ু ও কর্ণাটকের একাধিক জেলায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে, যা উপকূলবর্তী ও দ্বীপাঞ্চলের মানুষের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
রাজস্থান ও হিমাচলে অস্বাভাবিক আবহাওয়া (Weather Update)
বর্ষশেষে রাজস্থানের আবহাওয়া বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। সাধারণত এই সময় রাজ্যে শুষ্ক ও ঠান্ডা আবহাওয়া থাকলেও, চলতি বছরে অনেক জেলায় ভারী বৃষ্টিপাত ও তীব্র বাতাসের সতর্কতা জারি হয়েছে। এর ফলে রাজ্যে ঠান্ডার মাত্রা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। সকালবেলায় কুয়াশার দাপটও দেখা যেতে পারে। হিমাচল প্রদেশে বর্ষা শেষ হলেও এখন নতুন করে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ৩০ ও ৩১ ডিসেম্বর রাজ্যের বিভিন্ন অংশে ভারী বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি উঁচু পার্বত্য এলাকায় তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এই আবহাওয়া একদিকে যেমন পর্যটকদের আকর্ষণ করছে, অন্যদিকে তেমনি পাহাড়ি রাস্তায় বিপদের সম্ভাবনাও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
আরও পড়ুন: Mamata Banerjee: পহেলগাঁও–দিল্লি নিয়ে বিজেপিকে কাঠগড়ায় মমতা
শীতের চরিত্রে বদল
পশ্চিমবঙ্গেও আবহাওয়ার চরিত্রে পরিবর্তন আসছে। পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে উত্তুরে হাওয়ার গতি কমে গিয়ে দক্ষিণবঙ্গে দক্ষিণা বাতাসের প্রভাব বাড়বে। এর ফলে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। বছরের শেষ দিনে কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায় ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। জানুয়ারির প্রথম কয়েকদিনে তাপমাত্রা ১৪ থেকে ১৬ ডিগ্রির মধ্যে থাকতে পারে। উত্তরবঙ্গে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি নাটকীয়। দার্জিলিং, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারে হালকা বৃষ্টি হতে পারে এবং দার্জিলিং, সান্দাকফু ও চটকপুরের মতো উঁচু এলাকায় তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের নীচে থাকলেও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের উপরে থাকতে পারে।



