Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বর্ষবরণের ঠিক আগেই শক্তিশালী ভূমিকম্পে (Japan Earthquake) কেঁপে উঠল জাপান। বুধবার বিকেলে দেশটির পূর্বাঞ্চলে রিখটার স্কেলে ৬ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়। এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং সুনামি সতর্কতাও জারি করা হয়নি। তবে পরপর একাধিক শক্তিশালী ভূমিকম্পে নতুন বছরের শুরুতে উদ্বেগ বেড়েছে জাপানে।
ভূমিকম্পের উৎসস্থল (Japan Earthquake)
সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, এদিনের ভূমিকম্পের উৎসস্থল (Japan Earthquake) ছিল নোডা এলাকার কাছে। সেখান থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরে ইওয়াতে প্রদেশের হনশু দ্বীপের উপকূলবর্তী সমুদ্রের প্রায় ৪০ কিলোমিটার গভীরতা থেকে কম্পনের সূত্রপাত হয়। এই কম্পনের প্রভাব বহু দূরবর্তী অঞ্চল পর্যন্ত অনুভূত হয়েছে বলে খবর। বুধবারের এই ভূমিকম্পের আগে একই এলাকায় একাধিকবার মৃদু থেকে মাঝারি কম্পন অনুভূত হয়েছিল।
ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলির অন্যতম জাপান (Japan Earthquake)
বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলির অন্যতম (Japan Earthquake) জাপান। প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অফ ফায়ার’-এর মধ্যে অবস্থান করার কারণে এখানে টেকটোনিক পাতগুলির নড়াচড়া অত্যন্ত সক্রিয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বে রিখটার স্কেলে ৬ বা তার বেশি মাত্রার যত ভূমিকম্প হয়, তার প্রায় ২০ শতাংশই জাপানে ঘটে। এমনকি গড়ে প্রতি কয়েক মিনিট অন্তর সেখানে হালকা কম্পন অনুভূত হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
ভূমিকম্পের পরিসংখ্যান
উল্লেখযোগ্যভাবে, কয়েক দিন আগেই একই অঞ্চলে ৪.৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। তারও আগে, গত ডিসেম্বর মাসের শুরুতে আওমোরি এলাকায় ৭.৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আছড়ে পড়ে। সেই ঘটনায় অন্তত ৫০ জনের বেশি মানুষ আহত হন এবং পরপর একাধিক আফটারশক পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে।

আরও পড়ুন: Horoscope January 2026: বছরের প্রথম মাস কেমন কাটবে আপনার?
বিজ্ঞানীরা বিশেষভাবে সতর্ক
এই পরিস্থিতিতে জাপান সরকার ও বিজ্ঞানীরা বিশেষভাবে সতর্ক। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাটির নীচের টেকটোনিক গতিবিধির উপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। নাগরিকদের সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলতে এবং যেকোনও জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে উপকূলবর্তী ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সমীক্ষা চলছে।
বড় বিপর্যয়ের কেন্দ্রবিন্দু
বিজ্ঞানীদের একাংশ আশঙ্কা করছেন, জাপানের উত্তরের হোক্কাইদো দ্বীপ ভবিষ্যতে বড় বিপর্যয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে। সেখানে ৭ থেকে ৯ বা তারও বেশি মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। পাশাপাশি সুনামি আছড়ে পড়লে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কাও রয়েছে। সমুদ্রতলের বিপজ্জনক চ্যুতিরেখাগুলির কারণে ঢেউয়ের উচ্চতা ২০ মিটার পর্যন্ত হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।


